Press "Enter" to skip to content

গ্রহরাজ শনিদেব রুষ্ট হয়েছেন তাই করোনা’র আবির্ভাব! —

Spread the love

পাস্তা খেলে পস্তাতে হবে!
-*******************
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : কলকাতা, ১৯৩৪ সালে বিহারে ভয়ংকর ভূমিকম্প হয়।সরকারি হিসেবে মারা যান প্রায় ৭২৫৩জন। গান্ধীজি হরিজন পত্রিকায় এক বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন, বিহারে বর্ণহিন্দুরা দলিতদের ওপর যে অত্যাচার করেন তাই বিধাতা পাপের শাস্তি হিসেবে ভূমিকম্প ঘটিয়ে ধ্বংস করেছেন। এত মানুষের মৃত্যু হয়েছে।আসলে বিহারে বর্ণহিন্দু মানুষরা দলিতদের ওপর খুব অত্যাচার চালাতো সেই সময়। তবু গান্ধীজির কথায় খুব বিরক্ত হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি ইউনাইটেড প্রেস নামে এক নিউজ এজেন্সিতে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছিলেন, it is all the most unfortunate,because this kind of unscientific view of things is too readily accepted by a large section of our countrymen. তবু গান্ধীজি তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করেননি।

বরং বলেছেন,তিনি যা বিশ্বাস করেন তাই বলেছেন। পরে নেহেরুজিও তাঁর আত্মজীবনীতে লেখেন,গান্ধীজির বিবৃতি দেখে আমি স্তম্ভিত।এই মন্তব্য বিভ্রান্তিকর।রবীন্দ্রনাথের বক্তব্যের সঙ্গে আমি একমত। রাজনৈতিক নেতারা আজও যা বিশ্বাস করেন তা শুধু যে বুক বাজিয়ে প্রচার করেন, তাই নয়। সবাইকে তা মানার কথা বলেন। রাজ্যের বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাস রুখতে গোমূত্র পানের সমর্থনে মত দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন। দলের অপর সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় দিলীপ বাবুর কথার বিরোধী বলে জানিয়েছেন। আর এক নেতা সায়ন্তন বসুও দিলীপ বাবুর মন্তব্য ব্যক্তিগত বলে দলের মান বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। গতকাল আবার এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বিতর্ককে চাগিয়ে তুলেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি ও মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ। তিনি মেদিনীপুরের এক ঘরোয়া সভায় বলেন, ছোটরা যে হারে বিদেশি খাবার পিৎজা, পাস্তা দিয়ে নাস্তা সারছে তা ক্ষতিকর। অবশ্য ডাক্তারবাবুরাও বলছেন, এই সব ফাস্টফুড ক্ষতিকর। দিলীপ বাবু বলেন, আজকের প্রজন্মের বিদেশি খাদ্যের প্রতি ঝোঁক অভিভাবকদের আটকানো উচিত। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যগ্রহণের জন্য নানা রকম রোগ দেখা দিচ্ছে। আমাদের দেশে করোনা রোগের জন্য দায়ী গ্রহরাজ শনিদেবের রুষ্টতা। শনিদেবকে তুষ্ট করলে তবেই মিলবে রেহাই। শনিদেবকে তুষ্ট করতে কি করতে হবে? সেই মুস্কিল আসান করেছেন জনৈক জ্যোতিষী সম্রাট। তিনি বলছেন প্রতি শনিবার অশ্বত্থ গাছে জল ঢালতে হবে। আটা চেলে দুটো রুটি সর্ষের তেলে মাখিয়ে একটি গরু ও অন্যটি এক কুকুরকে খাওয়াতে হবে। ঘোড়ার খুরের আংটি পড়তে হবে। ভাজা বা ভেজানো ছোলা বাঁদরকে খাওয়াতে হবে। সকালে খাবার খাওয়াতে হবে কাককে। সেই খাবার ঘি দিয়ে তৈরি করতে হবে, কলাই ডাল আর আতপ চাল দিয়ে। গরুকে খাওয়াতে হবে কালো তিল আর ভেলিগুড়। শনিদেবকে তেল মাখাতে হবে। খেতে দিতে হবে সাদা বাতাসা। সঙ্গে হনুমান জির পুজো দিতে হবে জবাফুল আর কাঁচাগোল্লা দিয়ে। তবে সাবধান, ভুলেও শনিদেবকে জবাফুল দিয়ে পুজো দেবেন না। কালো পোশাক পড়বেন না। তবে এই মুস্কিল আসান কতটা সঠিক সেই সম্পর্কে ডাক্তারবাবুরা সন্দেহ প্রকাশ করছেন। যুক্তিবাদীরা আবার এক কাঠি ওপরে গিয়ে বলছেন, এত সোজা পদ্ধতি দিলীপ বাবু বাতলে দেওয়ার পর শুধু শুধু জনতা কার্ফু আর লগ ডাউনের কথা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন কেন? রাজ্যের জনগন বুঝে উঠতে পারছেন না প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনবেন না তাঁর প্রতিনিধি রাজ্যের সাংসদ দিলীপ ঘোষের কথা শুনবেন? আগেই বলেছি ,নিজের নিজের ভ্রান্ত বিশ্বাস মানুষের ঘাড়ে চাপানোর ঘটনা এই প্রথম নয়। গান্ধীজি ছিলেন পথিকৃৎ। ভারতে এসেছিলেন আমেরিকান লেখিকা, নার্স, জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মী ও যৌন শিক্ষাবিদ মার্গারেট স্যাঙ্গার।তিনি মনে করতেন, জন্ম নিরোধক হচ্ছে নারী মুক্তির পথ। ১৯১৬সালে নিউইয়র্কে তিনি খোলেন প্রথম পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র।

১৯৩৫ সালে নভেম্বর মাসে ভারতে আসেন তিনি।এদেশে ১৮টি শহরে সফর করেন। দেখা করেন রবীন্দ্রনাথ, নেহেরু, বরোদার মহারাজা ও মহারানীর সঙ্গে।ভারতে নারী মুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন। গান্ধীজির সঙ্গে দেখা করতে আসেন। গান্ধীজি বলেছিলেন, যৌনতা দরকার শুধু বংশরক্ষার জন্য। অন্য সময় যৌনতা মহাপাপ। কৃত্রিম উপায়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ মানুষকে যৌনতার দিকে আকর্ষিত করবে। গান্ধীজিও নিজের ধারণা দেশের মানুষ মেনে চলুক চেয়েছিলেন। দিলীপ বাবুর এই শনি তত্ত্ব কি সেই উদাহরণ? দিলীপবাবুর পুরাণনির্ভর বিশ্বাসের তাৎপর্য বুঝতে শনিদেব মাহাত্ম্য জানা দরকার। রাস্তায় ব্যাঙের ছাতা র মত শনিবার শনি পুজোর চল দেখা যায়। হিন্দু ধর্মে শনি দেব কে বলা হয় গ্রহরাজ। উগ্র দেবতা হিসেবে পরিচিত। শনিদেব সূর্যের দ্বিতীয় স্ত্রী ছায়ার পুত্র।সূর্যের বাকি দুই পুত্র কন্যার নাম যমরাজ ধর্ম ও যমুনা । শনিদেব নাকি জন্মেই পিতামহিকে অপমান করেছিলেন। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ মতে, রাজা চিত্ররথের কন্যা শনির স্ত্রী একবার কামাবেগে স্বামীর কাছে রতি সুখ কামনা করেন। কিন্তু শনি রাজি না হওয়াতে স্ত্রী তাকে অভিশাপ দেন, শনি যার দিকে তাকাবেন, তিনি ভস্ম হয়ে যাবেন। বিমাতা সংজ্ঞা প্রতিনিয়ত স্বামী সূর্যকে শনির প্রতি বিরূপ করে তোলায় মা বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হতে হয়। তাই শনি হয়ে ওঠেন রাগী। একবার নাকি বিমাতা কে লাথিও মারেন। বিমাতার অভিশাপে শনি হন খোঁড়া।এহেন শনিদেব রুষ্ট বলেই দেশ করোনা ভাইরাসের কবলে পড়েছে।

এখন রাজ্যের নাগরিকেরা সিদ্ধান্ত নেবেন, শনিদেবকে তুষ্ট করবেন, না চিকিৎসকদের উপদেশ মেনে চলবেন। এক নিন্দুক তো বলেই বসলেন, আগামী বিধানসভায় রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাবেন মুখ্যমন্ত্রী পদে যেন দিলীপবাবু কে তুলে ধরা হয়। কেননা বিশ্বের মানুষ যখন ভেবে পাচ্ছেন না এই ভাইরাস এলো কি করে, তখন করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণ সহজেই বাৎলে দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তাই তাঁকে যোগ্য মর্যাদা দেওয়া উচিত।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *