Press "Enter" to skip to content

খাদের কিনারায় ব্রাজিল, ঘটতে পারে সেনা অভ্যুত্থান?

মধুমিতা শাস্ত্রী, ১০ জুন ২০২০ঃ জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে ব্রাজিলের রাজনীতি। যে কোনও সময় ঘটতে পারে সেনা বিদ্রোহ। অন্তত ‘দি নিউইয়র্ক টাইমস’ খবরের কাগজে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে সেরকম আশঙ্কাই প্রকাশ করা হয়েছে।
করোনা ভাইরাসের আক্রমণে কাঁপছে ব্রাজিল। প্রতিদিন লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। ইতিমধ্যেই মৃত্যুমিছিলের সংখ্যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের পরই তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ব্রাজিল। অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে, দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। দেশের রাষ্ট্রপতি ও তাঁর ছেলেদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের তদন্ত চলছে। এমনও হতে পারে যে, দেশের ইলেকশন কমিশনের নির্দেশে বাতিল হতে পারে তাঁর নির্বাচন।

– বোল সোনাবো –

সঙ্কট এতটাই গভীর যে, অত্যন্ত উচ্চপদস্থ সেনাকর্তারা অস্থিরতার পূর্বাভাস দিচ্ছেন এবং লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম গণতন্ত্রের দখল নিয়ে তাকে তছনছ করার উল্লাসে কাঁপছেন।
তবে সেনা অভ্যুত্থানের সম্ভবনাকে উড়িয়ে দেওয়া দূরে থাক, রাষ্ট্রপতি জায়ির বোলসোনারোর ঘনিষ্ঠ মহল বরং চাইছে এই সঙ্কটকালে পরিত্রাতা হিসেবে হস্তক্ষেপ করুক সেনাবাহিনী। রাষ্ট্রপতির এক ছেলে, যে নিজে সংসদের সদস্য, তাঁর মুখে শোনা গিয়েছে পূর্বতন সেনা একনায়কত্বের প্রশংসাবাণী।
চার’ দশক আগেই ১৯৮০ সালে সেনা একনায়কত্বকে ছুড়ে ফেলে অর্থনীতিতে বিশ্বের বিষ্ময় হয়ে উঠেছিল ব্রাজিল। এমনকী ওয়ার্ল্ড কাপ ফুটবল এবং অলিম্পিক আয়োজন করার দায়িত্বও পায়। কিন্তু দু’ দশক পর থেকেই অর্থনীতি ডুবতে শুরু করে। দূর্নীতির অভিযোগে একের পর এক সরকার পড়তে থাকে। ইমপিচমেন্টের ঠেলায় মহা পরাক্রমশালী বামপন্থী সরকারও উল্টে যায়। ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জায়ির বোলসোনারো। যিনি একদা সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ছিলেন। বোলসোনারোর মন্ত্রীগোষ্ঠীতে একাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তারা রয়েছেন।

তবে বোলসোনারোর সরকারের বিরুদ্ধে উঠেছে একাধিক অভিযোগ। বোলসোনারোর দুই ছেলের বিরুদ্ধে ২০১৮’র ভোটের সময় অপপ্রচার ও মিথ্যা অপমানজনক প্রচারের অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্তে তারা দোষী প্রমাণিত হলে ‘সুপিরিয়র ইলেকটোরাল কোর্ট’ ২০১৮’র নির্বাচন বাতিল করতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে বোলসোনারো সরকারের পতন নিশ্চিত। সেই পতন রুখতেই সম্ভবত তাদের সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
লাগামছাড়া করোনা সংক্রমণ নিয়েও কাঠগড়ায় বোলসোনারোর সরকার। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা তথ্য গোপনের অভিযোগ সুপ্রিম কোর্টে প্রমাণিত হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্ট করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সঠিক সংখ্যা সরকারকে জানাতে নির্দেশ দিয়েছে। করোনা আক্রমণের পর তিনবার সে দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বদল হয়েছে।

– প্রতিবাদ –

করোনায় মৃত্যু নিয়ে বোলসোনারোর প্রতিক্রিয়াতেও ক্ষুব্ধ ব্রাজিলের মানুষ। সম্প্রতি তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘মৃত্যু দুঃখের, তবু বলতে বাধা নেই এটাই ওদের নিয়তি ছিল ‘।
সব মিলিয়ে এক গভীর অনিশ্চিয়তার খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে ব্রাজিল। কী হবে তা সময়ই বলতে পারবে।

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.