সুজিত চট্টোপাধ্যায় :রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করো নি। তিনি বলেছেন ,বাঙালি শুরু করে শেষ করে না। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন ,বাঙালি চিরকাল দলাদলি করতে পারে, কিন্তু দল গড়ে তুলতে পারে না।
এই মুহূর্তে এমনই এক পরিস্থিতির উদ্ভব হলো।হিন্দি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একদল বঙ্গপ্রেমি নতুন প্রজন্ম বাংলা জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শুরু করেন । বাঙালি আবেগের সমর্থনও মিলতে শুরু করে । প্রশাসনও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে শুরু করে। এর মধ্যেই ঘটে অঘটন। হঠাৎ আদর্শগত বিভাজন হয়ে যায়। অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কে কার্যকরী সভাপতি করে তন্বী দাস কে সহ সভানেত্রী করে এবং সিধব্রত দাসকে সাধারণ সম্পাদক করে বাংলা পক্ষ সংগঠন থেকে বেরিয়ে জাতীয় বাংলা সম্মেলন গঠিত হলো ।এই সংগঠন তাদের অস্তিত্ব প্রকাশ করতে কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে ।
সেখানে তারা বলেন ,রাজনৈতিক সংগঠন হলেও তারা ভোটের রাজনীতিতে থাকবেন ।বাংলার ভাষা,কৃষ্টি ,সংস্কৃতিকে হিন্দি আগ্রাসনের কবল থেকে মুক্ত রাখার সংগ্রাম করবেন । তারা প্রশাসনের কাছে ৫০দফা দাবি জানাচ্ছেন ।দাবিগুলির মধ্যে আছে ,বাংলার সব স্কুলে বাংলা ভাষাকে আবশ্যিক করতে হবে রাজ্য সরকারি চাকরিতে ১০০% এবং কেন্দ্রীয় চাকরিতে বাঙলায়৮৫% সংরক্ষণ করতে হবে ।রাজ্যে পুলিশ নিয়োগে ৪০%ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য২%সংরক্ষণ করতে হবে ।
পশ্চিম বাংলার প্রেক্ষাগৃহে সব সিনেমার ক্ষেত্রে বাংলা সব টাইটেল রাখতে হবে।পশ্চিম বঙ্গে বিক্রিত সব পণ্যে বাংলা রাখতে হবে ।
এমন বহু দাবি যা বাংলার স্বতন্ত্রতা প্রকাশ পেয়ে যায় এর পর সংগঠনের নারী বিভাগের সহযোগী সংগঠনের কথা ঘোষণা করা হয়। বলা হয় শুধু দাবী দাওয়া নিয়ে আন্দোলন নয়, নিয়মিত সেমিনার আলোচনা সংগঠিত করে বাংলার ঐতিহ্য কৃষ্টি ইতিহাস কে তুলে ধরে বাঙালিকে বাংলা জাতীয়তাবাদী চেতনার সমৃদ্ধ করতে কার্যকরী ভূমিকা নেবে জাতীয় বাংলা সম্মেলন।







Be First to Comment