Press "Enter" to skip to content

“কলকাতা অঙ্গীকার” স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আয়োজিত ‘সংকল্প-২০১৯

গোপাল দেবনাথ – উত্তর কলকাতার বীরেন্দ্র মঞ্চে “সংকল্প-২০১৯” সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হল। আয়োজনে “কলকাতা অঙ্গীকার” নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। এই সংস্হার শুভ সূচনা হয় ২০১০ সালে কয়েকজন বন্ধুর মিলিত প্রচেষ্টায়। সংস্থার সম্পাদক গৌরব চাটার্জ্জী ও সভাপতি পার্থ ভট্টাচার্যর সুদক্ষ পরিচালনায় এগিয়ে চলেছে এই কলকাতা অঙ্গীকার। এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাজের নানা অংশের মানুষকে একই মঞ্চে হাজির করাতে পেরেছে এই সংস্থা। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু কিশোর সহ অন্যান্যরাও অত্যন্ত সুচারুভাবে নাচ গান মঞ্চস্থ করতে পেরেছে এবং দর্শক শ্রোতাদের যথেষ্ট আনন্দ দান করতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়াও এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ কে চক্ষুদান ও ক্যানসার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য যারা নিজের জীবন উৎসর্গ করেন তাদের মধ্য থেকে আসল নায়ক কে বাছাই করে এই মঞ্চেই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কলকাতা অঙ্গীকার সম্পর্কে সংস্হার সম্পাদক গৌরব জানালেন এই মুহূর্তে এই সংস্থা পশ্চিমবঙ্গের চারটি জেলায় কাজ করছে, বিশেষ করে শারীরিক ভাবে অক্ষম, অনাথ শিশু, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু এবং পুরুলিয়ায় লেপ্রসি আক্রান্ত মানুষের জন্য সুচিকিৎসা,খাদ্য, নিত্যদিনের ব্যবহার্য পণ্যর ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। অঙ্গীকারের প্রধানকাজ এই সব শিশু কিশোরদের সঠিক শিক্ষা দিয়ে সমাজের মুলস্রোতে নিয়ে আসা। নানা ধরনের হাতের কাজ, আঁকা, নাচ, গান, খেলাধুলা যার যে বিষয়ে দক্ষতা প্রকাশ পাবে সেই শিশু কিশোর কে তাদের সুপ্ত প্রতিভা জন সমক্ষে প্রকাশ করার বন্দোবস্ত করে দেওয়া। কোনো সাধারণ মানুষ ইচ্ছা প্রকাশ করলে বাচ্চাদের এক দিনের জন্য দায়িত্ব নিতে পারবেন। কোনো পরিবার চাইলে এই সব বাচ্চাদের সাথে তাদের জন্মদিন বা যে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে সামিল করতে পারবেন। আর্থিক ভাবে সক্ষম মানুষরা সারামাসের জন্য দায়িত্ব পালনের ভার নিতে পারবেন, এই সংস্থা সেই বন্দোবস্ত করে দেবে। আগামীদিনে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মহিলাদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবস্থা এবং মাসের বিশেষ কয়েকদিনের সুস্থ থাকার পরামর্শ দেওয়া হবে। গৌরব আরো জানালেন এই মুহূর্তে নিউ এজ সোসাইটি ফর অল (বারুইপুর) এর ৭০জন বাচ্চা এবং জাগতপুরের আনন্দ ভবনের প্রায় ১০০জন বাচ্চার তাদের মেডিকেল চেকআপ, খাওয়ার বন্দোবস্ত এবং ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাদের জন্য অঙ্কন, মাইম ও টেবিল টেনিস শেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্হায় প্রায় ৩০জন সদস্য অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করে চলেছে। এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সহযোগিতা করেছেন বেহালার একালের সংসপ্ত।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.