Press "Enter" to skip to content

করোনা আতঙ্কের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান,সমালোচনায় মুখর বিরোধীরা……

Spread the love

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: ৩ এপ্রিল ২০২০ আগেই ঘোষণা হয়েছিলো দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদীজি টিভিতে ভাষণ দেবেন। সকাল থেকে দেশ জুড়ে মানুষ উৎসুক ছিলেন। নির্ধারিত সময় ঠিক সকাল ৯টায় টিভি র পর্দায় ভেসে উঠলো প্রধানমন্ত্রীর মুখ। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণের শুরুতেই কৃতজ্ঞতা জানালেন, করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে সামনের সারিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াইতে ব্যস্ত ডাক্তার, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুশাসন ও সেবার ব্রত নিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা যে অভূতপূর্ব সাহসী ভূমিকার পরিচয় দিচ্ছেন তা এককথায় অভূতপূর্ব। সভ্যতার ইতিহাসে যা স্বর্ণাক্ষরে লিখিত হয়ে থাকবে।
পাশাপাশি দেশের ১৩০কোটি জনগনকে প্রধানমন্ত্রী নর রূপে নারায়ণের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, জনশক্তির এক মহানিদর্শন দেশের মানুষ দেখাচ্ছেন। ধৈর্য্য আর অনুশীলনের পরীক্ষায় মানুষ উত্তীর্ণ হচ্ছেন। যার প্রমাণ মিলেছে গত ২২ মার্চ রবিবার। সেদিন অসমুদ্রহিমাচল মানুষ ঘণ্টা বাজিয়ে, হাততালি দিয়ে নিজেদের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে জনগণের নিরাপত্তা দিতে যারা জীবনকে বাজি রেখে লড়াই চালাচ্ছেন অবিরত তাঁদের উদ্দেশ্য।সেদিন ছিল জনতা কারফিউ। তারপর আমাদের লগ ডাউনের পথে হাঁটতে হয়েছে। যা এখনও চলছে। মানুষের মনে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে এই অবস্থা কতদিন ? আমরা একা কি করে এই মহামারীর বিরুদ্ধে লড়ে জিতবো? আমি হতাশার কোনও কারণ নেই একথাই বলব। আমরা ১৩০কোটি ভারতবাসী।

আমাদের জীবন একসূত্রে বাঁধা। আমরা কেউ একলা নই। আজকের এই অন্ধকার নৈরাজ্য দূর করে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে আমরা এগিয়ে যাবই। লগ ডাউনের দিনগুলিতে আমরা বাড়িতে আছি ঠিকই। কিন্তু করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এটাও একটা লড়াই । সে লড়াইতে অস্ত্র সামাজিক বিচ্ছিন্নতা। এই লক্ষে আমরা সফল হলেই লড়াই জিতবো।সভ্যতার ইতিহাসে এমন লড়াই মানুষকে অনেকবারই লড়তে হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে। শেষপর্যন্ত মানুষ জিতেছে। জনতা জনার্দন ঈশ্বরের প্রতিরূপ। আমরা মহামারীর অন্ধকার থেকে দেশকে আলোর পথে নিয়ে যেতে অঙ্গীকারবদ্ধ। মনে রাখবেন আমরা কেউ একা নই। জনগণের মিলিত শক্তির ক্ষমতায় দেশকে আলোর পথে নিয়ে যেতে সক্ষম হবো। আমি দেশের কাছে অনুরোধ রাখছি আগামী ৫ এপ্রিল রাত ৯ টায় বাড়ির সব ইলেকট্রিক লাইট নিভিয়ে মোমবাতি, প্রদীপ, টর্চ বা মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালিয়ে ঘরের দরজায় বা ব্যালকনিতে দাঁড়াব। প্রার্থনা করবো এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইতে জেতার জন্য। ইতিমধ্যে আমরা প্রমাণ করেছি বিশ্বের বহু দেশের কাছে যে ভারত আর ভারতের জনগন অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে এককাট্টা। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শেষ হতে না হতেই সমালোচনায় সরব হয়ে ওঠেন দেশের সবকটি বিরোধী দলগুলি।

টুইটারে কংগ্রেস নেতা শশী থারুর বলেছেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনলাম। সেখানে মানুষের যন্ত্রণা, তাদের সংকট, আর্থিক অনিশ্চয়তা নিয়ে তিনি কোনও দিশা দেখলেন না। শোনালেন না আপৎকালীন পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কোনও ইতিবাচক পরিকল্পনার কথা। আবেগ দিয়ে মানুষের পেট ভরানো যায় না। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেছেন, বাস্তবে ফিরে আসুন প্রধানমন্ত্রী। ভাষণে নেই উদ্ভব পরিস্থিতি মোকাবিলার কোনও পরিকল্পনার কথা। ভারতকে আর্থিক প্যাকেজ দিন। লক ডাউনের সময় অবিলম্বে নির্মাণ কর্মী ও দিনমজুরদের পারিশ্রমিক নিশ্চিত করুন। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী ও কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতা পি চিদাম্বরম বলেছেন, আমরা আপনার নির্দেশ মেনে রবিবার বেশি করে মোমবাতি জ্বালাবো কিন্তু তার বদলে জ্ঞানী অর্থনীতিবিদদের আর বিরোধীদের পরামর্শ নিন।

রাজ্যের কংগ্রেস নেতা ও সাংসদ এবং প্রাক্তন রেলমন্ত্রী অধীর চৌধুরী বলেছেন, দেশ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আছে। প্রধানমন্ত্রী ভাইরাস মোকাবিলায় কখনও হাততালি দিতে বলছেন, ঘণ্টা বাজাতে বলছেন, কখনও হাতে হ্যারিকেন ধরতে বলছেন। আজব কান্ড। এতে যদি সমস্যার সমাধান হয়, তাহলে ডাক্তার, ওষুধ, ভ্যাকসিন আবিষ্কার কি দরকার? কেন্দ্রীয় ও রাজ্যস্তরের বামপন্থী নেতারাও মোদীজির ভাষণকে দিশাহীন বলে মন্তব্য করেছেন। ইতিমধ্যে সোস্যাল সাইটেও মিমের ছড়াছড়ি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয়তাবাদী বক্তব্যকে নিয়ে বিরোধীরা রাজনীতি করছে, যা এই জরুরি সময়ে নিন্দনীয়।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *