Press "Enter" to skip to content

করোনার কারণে গৃহবন্দি অবস্থায় একঘেয়েমি কাটাতে রামায়ণ, মহাভারত সিরিয়াল দেখানোর টোটকা কতটা কাজে দেবে!!

Spread the love

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: কলকাতা, ৩০মার্চ ২০২০ এই মুহূর্তে ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় হাজারের ঘরে পৌঁছে গেছে। প্রশ্ন উঠছে , ভারত কি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের তৃতীয় ধাপে পৌঁছে গেলো? বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, যতক্ষণ না গোষ্ঠী সংক্রমণের খবর আসছে ততক্ষণ বলা যাবে না যে ভারত তৃতীয় ধাপে পৌঁছে গেছে। তবে শারীরিক সমস্যা না হলেও ঘরবন্দী হওয়ার ফলে মানুষ ডিপ্রেশনের শিকার হচ্ছেন। এমনটাই মনে করেন মনোবিদরা। কেন্দ্রীয় প্রশাসন তাই টিভিতে ১৯৮৭ র জনপ্রিয় শো রামায়ণ আর মহাভারত দেখানোর ব্যবস্থা করেছে। অস্বীকার করার উপায় নেই , প্রতি রবিবার সে যুগে সকালে টিভিতে যখন রামায়ণ মহাভারত প্রদর্শিত হতো, রাস্তায় হতো অঘোষিত বনধ। রাস্তাঘাট থাকত শুনশান। তাই প্রশাসনের মনে করছে, এখন ঘরবন্দী থাকার সময় মানুষের ডিপ্রেশন কাটাতে ভক্তিমূলক দুই মহাকাব্য রামায়ণ ও মহাভারত টোটকা হিসেবে ভালই কাজ দেবে। অবশ্য এই নিয়ে দ্বিমতও আছে। অনেকে যেমন মনে করছেন, আজ যারা প্রবীণ সেদিন ছিলেন যুবক, তাই তাঁরা তারিয়ে তারিয়ে যৌব নের সেই নস্টালজিক মুহূর্তগুলি ফিরে পেয়ে খুশিই হবেন। আর নতুন প্রজন্ম যারা সেদিনের এই দুই সিরিয়ালের জনপ্রিয়তার গল্প শুনেছেন তারাও চোখে দেখার সুযোগ পাবেন। আবার রামায়ণ সিরিয়ালের সীতা চরিত্রের অভিনেত্রী দীপিকা চিখলিয়া ও কিছু মানুষের বক্তব্য , রামায়ণ, মহাভারত যখন চলত সমাজটা তখনও এত দ্রুতগামী হয়নি। অডিও ভিসুয়াল মিডিয়াও আজকের মত অ্যাডভান্স ছিল না। অভিনয় ধারা, সংলাপ, আজকের। প্রজন্মকে কতটা আকর্ষিত করবে তাতে সন্দেহ আছে। আজকের প্রজন্ম চঞ্চল। দীর্ঘদিন গৃহবন্দি থাকার ফলে তাদের যে ডিপ্রেশন হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায় তার থেকে এই ভক্তিমূলক ধারাবাহিক কি ওষুধ হিসেবে কাজ দেবে ? ২০১৮ সালে একটি বাংলা দৈনিকের সাময়িকীতে ড:কুণাল সরকার লিখেছেন,,,,,, মাউন্ট এভারেস্ট সামিট করার প্রায় দোরগোড়ায় পৌঁছে তেনজিং নোরগে ও স্যার এডমন্ড হিলারি কিছুক্ষনের জন্য থমকে গিয়েছিলেন। ওদের মধ্যে এক ধরণের সংশয় এসেছিল যে, এই যে সামান্য কয়েক শো ফুট, তা কি পারবো অতিক্রম করতে?এটাই স্ট্রেস। ড:কুণাল সরকার ঠিকই বলেছেন, এই স্ট্রেস ইতিবাচক। কেননা করোনা ভাইরাস প্রতিহত করার কোনো ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। ভরসা মানুষের চিকিৎসকেরা। তাঁদের মানুষ ভগবান হিসেবে ভেবে থাকেন। ডাক্তারবাবুদের অবস্থা আরও খারাপ। একে তো ঢাল নেই তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দার। অন্যদিকে মানুষের ডাক্তারদের কাছে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা। তাতে ডাক্তারদের স্ট্রেস বাড়ছে। ড:কুণাল সরকার নিজেও স্বীকার করে বলেছেন, এই স্ট্রেস সামলানো মোটেও সহজ নয়। তার ওপর সামাজিক অসহিষ্ণুতা, সঙ্গে ভাড়াটিয়া ডাক্তারদের বা বাড়িওলাদের অসহযোগিতা ডাক্তারদের এই বিপদের দিনে স্ট্রেস আরও বাড়িয়ে তুলছে।আজকের এই মারণরোগের যুদ্ধে প্রকৃত সৈনিক ডাক্তাররা। প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদের উচিত ডাক্তারদের প্রতি একটু বেশি সহনাভূতিশীল হওয়া। সুতরাং মানুষের ডিপ্রেসন আর স্ট্রেস কাটাতে রামায়ণই যে অব্যর্থ ওষুধ এমনটাই ভেবেছেন কেন্দ্রীয় প্রশাসন। বাঙালির প্রাণের ঠাকুর রবীন্দ্রনাথ।

আর রবীন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতীয় সাহিত্যিকদের মধ্যে রামায়ণের শ্রেষ্ঠ ভাষ্যকার। শৈশবে গৃহবন্দি রবীন্দ্রনাথের সঙ্গী ছিল রামায়ণের গল্প। তাঁর দুটি গীতিনাট্য বাল্মীকি প্রতিভা (১২৮৭) এবং কাল মৃগয়া (১২৮৯)তে সংস্কৃত রামায়ণের প্রভাব আছে। অন্যদিকে আর এক বাংলার সিংহ বাঙালি বিদ্যাসাগর মশাই রামায়ণ বা মহাভারত কে মহাকাব্য বলতে রাজি ছিলেন না। তিনি সানস্কৃত ইংলিশ ডিক্সেনারির রচয়িতা এইচ এইচ উইলসনের (১৮১৯)সঙ্গে একমত হয়ে মেঘদূত, কুমারসম্ভব, রঘুবংশ, শিশুপাল বধ, কিরাতার্জুনীয় , নৈষধচরিতকে মহাকাব্য বলেছেন। সঙ্গে ভট্টি কাব্য, রাঘব পাণ্ডবীয় ও গীত গোবিন্দকেও মহাকাব্য বলেছেন। রামায়ণ বা মহাভারতের ৩৩ বছরের পুরনো ভক্তি গদগদ সিরিয়াল কতটা একঘেয়েমি কাটাবে তা বোঝা যাবে কিছুদিন পর।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *