Press "Enter" to skip to content

এক শৃঙ্গ গন্ডারপূর্ণ “পবিতরা” অভয়ারণ্য…………

সংগীতা চৌধুরী: কলকাতা, ৩০মে, ২০২০।পৃথিবীখ‍্যাত ভারতীয় এক শৃঙ্গ গন্ডারের অন‍্যতম আবাসস্থল হল ‘পবিতরা’ বন‍্যজীবন অভয়ারণ্য।এখানকার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এই অভয়ারণ্যেই সবচেয়ে বেশি এক শৃঙ্গ গন্ডার বিচরন করে। তবে শুধু গন্ডারই নয়, এখানে চিতা, বুনো মোষ, বুনো শূকর, বাকিং হরিন, হাতি এবং গোটা অভয়ারণ্য জুড়ে আরো নানা প্রজাতির বন‍্যজন্তু ও পাখির বাস।

১৯৭১ সালে বন‍্যজন্তুপূর্ণ এই অরন‍্যকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল বলে ঘোষণা করা হয়। আর ১৯৮৭ সালে একে বন‍্যপ্রানী অভয়ারণ্যের তকমা দেওয়া হয়। এই অভয়ারণ্যের অবস্থান হল অসমের ব‍‌হ্মপুত্র নদের দক্ষিণপাড়ে গুয়াহাটি থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দূরে মরিগাঁও জেলায়। রাজা মায়ং পাহাড় আর তার তলদেশে মোট ৩৮.৮০ বর্গ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত পবিতরা অভয়ারণ্য।

অসমের গর্ব ভারতীয় এক শৃঙ্গ গন্ডার। পুরো এলাকার মাত্র ১৬ বর্গ কিলোমিটারে বাস করে এই এক শৃঙ্গ গন্ডার। পাহাড়ের দেশ অসম। এখানে চারদিকে প্রকৃতির হাতছানি। একধারে বহ্মপুত্র নদ আর অন্যধারে পাহাড় আর জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে গ্রামীণ অসমিয়া জীবনযাত্রা দেখতে দেখতে পৌঁছে যাওয়া যায় এই এক শৃঙ্গ গন্ডার রাজ‍্যে। এটি শতাধিক গন্ডারের চারন ভূমি।

গত ছয় বছরে এখানে দশ শতাংশ গন্ডার বৃদ্ধি পেয়েছে। অতীতে দু-বার গন্ডারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের মানস উদ‍্যান ও কাজিরাঙায় পাঠানো হয়েছে। এই অভয়ারণ্যে পদার্পণ করলে এক শৃঙ্গ গন্ডার দেখার ভাগ‍্য একেবারে একশোভাগ। কখনো কখনো জঙ্গলে না ঢুকেও এদের দেখা মেলে। এই অভয়ারণ্যে গন্ডারের স‌ংখ‍্যার ঘনত্ব পৃথিবীর মধ্যে সর্বাধিক।

এই অভয়ারণ্যের মনোরম দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ উপভোগ করতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে। এখানে একদিকে যেমন গন্ডার আর অন্য অংশে ৫০০ -র অধিক বেশি বুনো মোষ, সহস্রাধিক বুনো শূকর, হস্তীবাহিনী – সহ আরো বন‍্যজন্তু দাপিয়ে বেড়ায়।

তবে এখানকার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল ২০০০ -এর বেশি পরিযায়ী পাখি। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষী কুলের অঞ্চলও। তাই পক্ষীপ্রেমীদের কাছে এই স্হানটি একেবারে স্বর্গ বলা যায়।

এই অভয়ারণ্যে প্রবেশ করলে নানা জাতের পাখির কলতান দর্শকদের মনে অফুরন্ত আনন্দের সঞ্চার করে।

আর এই মিষ্টি সুরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সমতল ও টিলার পথ ধরে বন‍্যপ্রানী দর্শন পর্যটকদের জঙ্গল সাফারিকে সার্থক করে তোলে। এই অভয়ারণ্য ভ্রমণের জন‍্য হাতির পিঠে এবং জিপে – দুই ভাবেই সাফারির ব‍্যবস্হা আছে।

পবিতরা অভয়ারণ্যে বেড়াতে যাবার ভালো সময় হল ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.