Press "Enter" to skip to content

এই কয়েক দিনের লকডাউনে দম্পতিদের কী অবস্থা, সম্পর্ক মধুর হলো না তিক্ত?……

Spread the love

মধুমিতা শাস্ত্রী: ১এপ্রিল ২০২০ লকডাউনে ব্যস্ততার জীবনে তালা পড়ে গেল। এই পরিস্থিতিতে গৃহবধূদের অবস্থা অতি করুণ। সারাবছর ধরেই চলে সকালবেলা ওঠরে, ছেলেকে রেডি করে স্কুলে পাঠাওরে, এর পর তো সেকেন্ড ইনিংস শুরু হবে। মানে হাজব্যান্ডকে গুছিয়ে দেওয়া অফিসের জন্য। এবার ভাবুন কারুর হাজবেন্ড যদি আরামপ্রিয় হয়, একুশ দিনের লকডাউনে সেই গৃহিণীর কী অবস্থা? সম্পর্ক মধুর কোথায়? উল্টে বিচ্ছেদের উপক্রম। এদিকে স্বামীর বায়না, ‘ও সোনা আজ একটু আলুপরোটা বানাও না প্লিজ।’ আবার গোদের উপর বিষফোড়া কাজের মাসিকে মাসের টাকা দিয়ে আসতে বারণ করে দেওয়া হয়েছে। গিন্নি ভেবেছিল হাজব্যান্ড বাড়ি থাকলে সারাদিন গল্প গুজব হৈ হৈ করে কাটবে। তা তো হলই না, উল্টে কাজ গেল বেড়ে। অন্য সময় হলে রাগ করে বাপের বাড়ি যাওয়া যেত কিন্তু এখন গাড়ি ঘোড়াও চলছে না যে, রাগ করে গাল ফুলিয়ে বাপের বাড়ি গিয়ে বসে থাকবে।
ওদিকে বাড়ির পুরুষটি ভাবছে, যাক বাবা! একুশ দিন ছুটি, সাপে বর হলো। এতো বছর চাকরি জীবনে এই প্রথম এমন লম্বা ছুটি। এত ছুটি তো হানিমুনের সময়েও পাওয়া যায়নি। আরাম করে বাড়ি থাকা-খাওয়া যাবে। সেই তো! রোজ অফিস যাওয়ার আগে হুদহুদে গরম খাবার মুখে গুঁজে বেড়িয়ে পড়া। বাসের ঠাসাঠাসি ভিরে সে খাবার আর থাকতে চায় না। আর থাকলেও সেটা যে কী পাক হয় তা ভগবানই জানে! যাক বাবা এসব থেকে তো মুক্তি। সে আর হলো কই! গিন্নি ছ’টার সময় ঘুম ভাঙিয়ে বলে, ওঠো সোনা কাজের মাসি আসবে না, বলে হাতে ঝাঁটা ধরিয়ে দিল। বেচারার ঘুমও ভাঙল না, ঘোরে ভাবছে বৌ চা দিয়েছে। অমনি সোজা মুখে। হাঁচি দিয়ে ঘোর কাটলো। আরে অন্যদিন তো চা থাকে, এটা কী? গিন্নির আবার নতুন বায়না, আমার হাতের গ্লাভস কিনে দিতে হবে। পেডিকিওর করা হাত-নখ সব নষ্ট হয়ে গেল। না হলে বাসনমাজা আর ঘরের কাজ করতে পারব না। আবার পার্লারও বন্ধ। স্বামী ভ্যাল ভ্যাল করে স্ত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলে, জীবন যে, এতটাও জটিল হতে পারে তা আগে বুঝিনি। হে লকডাউন তুমি আমার চোখ খুলে দিলে।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *