Press "Enter" to skip to content

উদ্বাস্তু কলোনীর শিশুদের রান্না করা খাবার পরিবেশন……

Spread the love

পিন্টু মাইতি: কলকাতা, ১১মে ২০২০। একদিকে যখন করোনা-ঝড় চলছে, আরেক দিকে কালবৈশাখী ঝড়ের দাপটে বেসামাল দক্ষিণবঙ্গ । তবুও দুটিকেই সামাল দিয়ে চলেছেন রাজ্যবাসী। বহু দিন স্কুলের মুখ দেখেনি শিশুরা, মাঠমুখো হওয়া থেকেও বঞ্চিত। অধিকাংশ জায়গাতেই খাদ্যের সংস্থান করতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁদের বাবা-মায়েরা। ঠিক সে সময় ১০ই মে বিশ্ব মাতৃ দিবসে শিশুদের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার জন্য পাশে দাঁড়ালো বরানগরের ভারত পল্লী ও সর্বহারা উদ্বাস্তু কলোনী কমিটি। সেদিন তাঁরা আয়োজন করেছিলেন রান্না করা খাবার পরিবেশন কর্মসূচীর। যে সময় খাদ্য পরিবেশিত হচ্ছিল, তখন মাথার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল কালবৈশাখী। সাময়িক ভাবে শিশুদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হলেও, যে মারণ ভাইরাসের সাথে লড়তে গিয়ে যাঁরা এখনও সাহসিকতার সাথে এগিয়ে চলেছে, তাঁদের কাছে এ ঝড় তুচ্ছ মাত্র। দুই কলোনী কমিটির সমস্ত সদসবৃন্দ আন্তরিকতার সাথে তাঁদের নির্ধারিত কর্মসূচীকে সফল করেন। তাঁদের অন্যতম বিশিষ্ট উদ্বাস্তু নেতা ও সমাজসেবী গণপতি মজুমদার বলেন, মাতৃদিবসে তাঁরা খাদ্য বিতরণ করে ‘শিশু পুজো’ করলেন মাত্র। অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে শিশুরাই বেশী ভুক্তভোগী হয়েছে, তাই শিশুদের একটি দিন পেট ভরে খাওয়ানোর পরিকল্পনা করে তাঁরা খূশি। তবে তিনি করোনা নিয়ে বিশেষ কিছু রাজনৈতিক দলের রাজনীতি করা প্রসঙ্গে উষ্মা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যে ভাবে কর্মীরা মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, সেটা দেখে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শেখা উচিত। ভারত পল্লী কমিটির সম্পাদক নবীন চক্রবর্তী মাতৃদিবসে শিশুপ্রেম ও তাঁদের সমাজসেবা সম্পর্কে বলতে গিয়ে নিজেদের দায়িত্ববোধকে স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, শিশুদের পেট ভরে খাইয়ে যে সন্তুষ্টি পাওয়া যায়, তা অন্যান্যদের থেকে আলাদা। শিশুরা ছাড়াও এলাকার সমস্ত বাসিন্দাদের বাড়িতেও খাবার পৌঁছে দেওয়ার বন্দোবস্ত করা হয়। এই বড় উদ্যোগে সকল শুভানুধ্যায়ী ও সমাজসেবীদের তিনি ধন্যবাদ জানান। এদিন অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরানগর ১নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি শুভাশিস কর, উত্তর বরানগর যুব তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক পুলক ঘোষ, সর্বহারা উদ্বাস্তু কলোনীর সম্পাদক রাজু পাল সহ প্রমুখেরা। শুভাশিস কর ও পুলক ঘোষ জানান, এ জাতীয় দায়িত্ববোধকে সকলের মধ্যে তাগিদ অনুভব করা উচিত। এলাকার প্রতিটি ক্লাব-সংগঠন যদি অল্প অল্প করে দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেন, তবে একক কোন সংগঠন বা উদ্যোক্তাদের চাপমুক্ত করা সম্ভব।

সবমিলিয়ে করোপা-পরিস্থিতিতে খাদ্য বিতরণকারীরা পশ্চিমবঙ্গে নজির স্থাপন করেছেন বলে সূত্রে প্রকাশ। শিশুরাও তাঁদের সাথে অংশ নিতে পেরে খুশি। তাঁরা সকলকে বার্তা দিয়েছে মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার করে করোনা থেকে সুরক্ষিত থাকতে।

ছবি- সুবল সাহা

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *