Press "Enter" to skip to content

ইহুদি মেনুহিনের সঙ্গীতে মুগ্ধ হয়ে বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছিলেন এখন আমি বুঝতে পেরেছি যে বিশ্বব্রহ্মান্ডে ঈশ্বর বলে একজন আছেন……….

———-জন্মদিনের শ্রদ্ধাঃ ইহুদি মেনুহিন———

বাবলু ভট্টাচার্য: ঢাকা, ইহুদি মেনুহিনের সঙ্গীতে মুগ্ধ হয়ে বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন নাকি সজোরে বলেছিলেন এখন আমি বুঝতে পেরেছি যে বিশ্বব্রহ্মান্ডে ঈশ্বর বলে একজন আছেন৷ বিংশ শতাব্দীর সাড়া জাগানো বেহালা শিল্পী ইহুদি মেনুহিন৷ বেহালা সঙ্গীত জগতে তাঁর মত প্রতিভাবান শিল্পী আর নেই বললেই চলে৷ তিনি একাধারে সঙ্গীত নির্দেশক, লেখক ও শিক্ষাবিদ হিসাবেও প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেছেন৷ ইহুদি মেনুহিনের বাবা, মা ছিলেন ইহুদি ধর্মাবলম্বী, বেলোরাশিয়ার অধিবাসী৷ পরে তাঁরা আমেরিকায় অভিবাসী হিসাবে বসবাস করতে শুরু করেন৷ বাবা ছিলেন বিশিষ্ট গণিতজ্ঞ৷ আলোকিত এক সাংস্কৃতিক পরিবেশে বড় হয়ে ওঠেন মেনুহিন৷ খুব ছোটবেলা থেকেই বেহালা বাজানো শিখতে শুরু করেন তিনি৷ মাত্র ৭ বছর বয়সে সানফ্রানসিসকোতে সিম্ফোনি অর্কেস্ট্রা বাজিয়ে বালক ইহুদি মুগ্ধ করেন নয় হাজার দর্শক শ্রোতাকে৷ ১০ বছর বয়সে প্যারিসে, ১১ বছর বয়সে নিউ ইয়র্কে, ১৩ বছর বয়সে বার্লিনে তাঁর বেহালা-কনসার্ট অভিভূত করে হাজার হাজার দর্শক শ্রোতাকে৷ বিশেষ করে বার্লিনে ধ্রুপদী সঙ্গীত জগতের তিন তারকা– বাখ, বেটোফেন ও ব্রাম্স-এর সঙ্গীত পরিবেশন করে কিংবদন্তি হয়ে রয়েছেন মেনুহিন৷

১৯৩৫ সালে কনসার্টের জন্য বিশ্বের ৬৩ দেশে ১১০টি কনসার্টে অংশ নেন মেনুহিন৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিপীড়িত মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন ইহুদি মেনুহিন৷ শরণার্থী শিবিরে বাজিয়েছেন অসংখ্য কনসার্ট৷ সংগীতের মাধ্যমে উজ্জীবিত করে তুলতে চেয়েছেন তিনি অসহায় মানুষদের ৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পর অসংখ্য সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন ইহুদি মেনুহিন৷ তরুণ প্রতিভাবান শিল্পীদের সাহায্যের জন্য একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন তিনি৷ প্রতিবন্ধী, প্রবীণ, দরিদ্র তথা সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্টীর কাছেও সঙ্গীতের আনন্দ পৌঁছে দিতে চেয়েছেন মেনুহিন৷

কেননা তিনি মনে করতেন সঙ্গীতের মাধ্যমে আশার আলো জাগিয়ে তোলা সম্ভব৷ জন্মসূত্রে ইহুদি ধর্মাবলম্বী মেনুহিন সর্বদাই যেন আত্মপরিচয়ের সন্ধানে ছিলেন৷ নাৎসিদের পতনের পর জার্মানির সঙ্গে তাঁর এত দ্রুত সম্প্রীতির সম্পর্ক গড়ে তোলা ভাল চোখে দেখেননি ইহুদি সম্প্রদায়ের অনেকে৷ ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কটাও টানাপোড়নের মধ্যে রয়ে গেল তাঁর সারা জীবন৷ সমাজ কল্যাণমূলক কাজে নিরলস অবদানের জন্য অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন মেনুহিন৷ ১৯৭৯ সালে পেয়েছেন জার্মান পুস্তক সমিতির ‘শান্তি পুরস্কার’। ১৯৮৪ সালে পেয়েছেন ‘সিমেন্স সঙ্গীত পুরস্কার’৷

সঙ্গীতে বিশেষ দক্ষতার জন্য ১৯৯৭ সালে জার্মানির সর্বোচ্চ পদক ‘বুন্ডেস ফ্যারডিন্সটঅর্ডেন’ দেওয়া হয় তাঁকে। ১৯৮৫ সালে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করে মেনুহিন বসবাস শুরু করেন লন্ডনে৷ ১৯৯৩ সালে ইংল্যান্ডের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাঁকে ‘ব্যারন’ উপাধিতে ভূষিত করেন৷

১৯৯৯ সালের ১২ মার্চ বার্লিনে মৃত্যুবরণ করেন ইহুদি মেনুহিন৷

ইহুদি মেনুহিন ১৯১৬ সালের আজকের দিনে (২২ এপ্রিল) নিউইয়র্কে জন্মগ্রহণ করেন।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.