Press "Enter" to skip to content

আজকের দিনে জগৎকে মুক্তির আলো দেখিয়েছিলেন গৌতম বুদ্ধ…..

Spread the love

মধুমিতা শাস্ত্রী, ৬ মে, ২০২০ঃ বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অত্যন্ত পূণ্য তিথি মানা হয় বুদ্ধ পূর্ণিমা তিথিকে। এটি বৈশাখ মাসে হয় বলে অনেকে এটিকে বৈশাখী পূর্ণিমাও বলে থাকেন। মহামানব গৌতম বুদ্ধকে বিষ্ণুর অবতার বলে মনে করা হয়। অনেকে মনে করেন এটি ভগবান বিষ্ণুর নবম অবতার। যদিও গৌতম বুদ্ধ তা স্বীকার করতেন না। পুরাণে গৌতম বুদ্ধকে অবতার রূপে বর্ণনা করা হয়েছে। গৌতম বুদ্ধের জীবনের বিভিন্ন সময় এই দিনটিতে তিনটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে। তাই এই তিথিকে বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা অত্যন্ত পবিত্র তিথি মনে করে পালন করে আসছেন।

প্রথমত ৫৬৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এই তিথিতে ভগবান বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেন। যদিও তাঁর জন্মের সঠিক সময় নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। দ্বিতীয়ত ৫৮৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দের এই দিনে তিনি সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন। তৃতীয়ত ৫৪৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দের এই দিনে তিনি বোধি লাভ করেন। তাই বৈশাখ মাসের এই তিথিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষেরা আনন্দ উৎসব করেন। এই দিন সকালবেলা স্নান করে শুদ্ধ বস্ত্র পরে বৌদ্ধরা মন্দিরে ফুল ও ফল দিয়ে সাজিয়ে পূজা দেন। হিন্দুদের কাছেও এটি পবিত্র দিন। তারা এই দিনটিতে নারায়ণের পূজা দেন। অনেকে ভগবান কৃষ্ণের ফুল দোলযাত্রা হিসেবেও এই দিনটিতে পূজা দেন। সংস্কৃতে বুদ্ধ শব্দের অর্থ যিনি পরম শাশ্বত বোধ বা জ্ঞান লাভ করেছেন। বৌদ্ধ ধর্ম মতে তিনি বুদ্ধ যিনি জগতের শাশ্বত সম্বন্ধে অবগত হয়েছেন এবং নিজে নির্বাণ লাভের পূর্বে ধরিত্রীর সকল জীবকে নির্বাণ লাভের উপায়ে অবগত করেছেন।

প্রাচীন ভারতের বর্তমান নেপালের অন্তর্ভুক্ত হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত কপিলাবস্তু রাজ্যের রাজা শুদ্ধধনের পুত্র ছিলেন গৌতম বুদ্ধ। কথিত আছে রানি মায়াবতী স্বপ্নে দেখেন একটি হস্তি তাঁর গর্ভে প্রবেশ করছেন। এর কারণ জানতে রাজ জ্যোতিষীকে ডাকা হলে তিনি বলেন যে, রানির গর্ভে যে পুত্র আসছেন তিনি হয় পৃথিবীর রাজা হবেন নয়তো সন্ন্যাসী হবেন। এই কথা শোনার পর রাজা পৃথিবীর সমস্ত দুঃখ জরাজীর্ণ থেকে পুত্রকে দূরে রাখার চেস্টা করলেন আর রাজপ্রাসাদেই সমস্ত সুখের ব্যবস্থা করলেন। অল্প বয়সেই অত্যন্ত সুন্দরী নারী যশোধরার সাথে বিবাহ দিয়ে দেন। কিন্তু কিছুতেই তিনি শান্তি পান না। তাই একদিন সমস্ত সংসার সুখ ত্যাগ করে সত্যের সন্ধানে বেড়িয়ে পড়েন।

গয়ার কাছে একটি অশত্থ গাছের নীচে গভীর তপস্যা শুরু করেন। এই সময় তিনি মহাজ্ঞান বা বোধি লাভ করেন। গয়ার এই স্থানটির নাম বুদ্ধগয়া। আর যে গাছটির নীচে তিনি তপস্যা করেছিলেন সেটি বোধিবৃক্ষ নামে পরিচিত হয়। কথিত আছে এখানে এলে ভক্তদের মনস্কামনা পূর্ণ হয়।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *