Press "Enter" to skip to content

‘আই কান্ট ব্রিদ’। বর্ণবিদ্বেষের ছায়া! জ্বলছে আমেরিকা…..

Spread the love

মধুমিতা শাস্ত্রী, ৩০মে ২০২০ঃ বর্ণবিদ্বেষের এক ভয়াল রূপ দেখা গেল আমেরিকায়। মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে এক সাদা চামড়ার পুলিশ অফিসারের হাতে মৃত্যু হলো কালো চামড়ার নাগরিকের। গত সোমবারের এই ঘটনাটির ভিডিও মূহূর্তে ভাইরাল হয়। ফুটপাথে দাঁড়ানো এক পথচারী গোটা ঘটনাটি তাঁর মোবাইলে ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন।

ভিডিওটি ভাইরাল হতেই আমেরিকার বিভিন্ন শহরে শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীরা থানা, পুলিশের গাড়ি, ব্যাংক ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরে অগ্নিসংযোগ করতে থাকে। বিক্ষোভ এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে মিনেসোটা সরকার বাধ্য হয়ে তিনদিন বাদে বুধবারে ওই পুলিশ অফিসার ও তাঁর তিন সহযোগীকে বাহিনী থেকে ছাঁটাই করে। মূল অভিযুক্ত ডেরেক শোভিনকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, ফুটপাথের ধারে পুলিশের গাড়ির আড়ালে এক কৃষ্ণাঙ্গকে রাস্তায় ফেলে তার ঘাড়ে হাঁটু দিয়ে চেপে ধরেছে ডেরেক শোভিন। ভিডিওতে কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিকের গোঙানির শব্দও শোনা যাচ্ছে। তাকে দু’বার বলতে শোনা যায়, ‘আই কান্ট ব্রিদ’- আমি শ্বাস নিতে পারছি না। ভিডিওটিতে পথচারীদের পুলিশকে লক্ষ্য করে প্রতিবাদ করতেও শোনা যায়।

কিন্তু পুলিশ তাদের কথায় কর্ণপাত করেনি। খানিকক্ষণ বাদে নিশ্চল হয়ে যায় জর্জ ফ্লয়েড নামে ওই ৪৬ বছরের কৃষ্ণাঙ্গের দেহ।
‌মিনিয়াপোলিস পুলিশের সূত্রে জানা গিয়েছে, জর্জের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ ছিল। তাকে ধরতে গেলে সে প্রতিরোধ করে। পুলিশের বক্তব্য, সে সময়ে সে নেশাগ্রস্ত কিংবা অসুস্থ ছিল।
‌জর্জ ফ্লয়েড সম্বন্ধে নিউইয়র্ক টাইমসের যোগাড় করা তথ্য অনুযায়ী – সে মেনিয়াপোলিসের শহরতলির বাসিন্দা এবং শিক্ষিত ও একজন দক্ষ আমেরিকান ফুটবল খেলোয়াড়। বর্তমানে একটি বারে বাউন্সারের কাজ করত।

জর্জের ঘনিষ্ট মহলের বক্তব্য, বিশালদেহী কৃষ্ণাঙ্গ মানুষটি অত্যান্ত ঠান্ডা ও ভদ্র প্রকৃতির ছিলে। তাঁর কোনও শত্রু ছিল না। ‌তবে ডেরেক শোভিনকে গ্রেপ্তারের পরও আমেরিকার বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ এতটুকু কমেনি। বাধ্য হয়ে নামাতে হয়েছে ন্যাশনাল গার্ড বাহিনীকে।

এমনকি ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের বাইরেও বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ কারীদের মুখে ছিল জর্জের মৃত্যুর আগের মুহূর্তে বলা সেই কথা- ‘আই কান্ট ব্রিদ’। জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর তদন্ত করছে একযোগে এফবিআই ও মিনিয়াপোলিসের পুলিশ বিভাগ। মিনিয়াপোলিসের মেয়রও ঘটনার নিন্দা করে ডেরেক শোভিনের শাস্তি দাবি করেছেন।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *