Press "Enter" to skip to content

অষ্টদশ শতক থেকে জগদ্ধাত্রী পুজো পরিচিতি লাভ করে…. ৷

Spread the love

ডাঃ দীপালোক বন্দ্যোপাধ্যায় : ২২ নভেম্বর, ২০২৩।
চন্দননগর , কৃষ্ণনগর , রিষড়া , বৈঁচী , কাগ্রাম , তেহট্ট , শান্তিপুরের সুত্রাগড় , ধাত্রীগ্রাম , গুপ্তিপাড়া , কোচবিহার সহ নানা জায়গা মেতে উঠেছে জগদ্ধাত্রী পুজোয় ৷
জগৎ + ধাত্রী = জগদ্ধাত্রী ৷ অর্থাৎ ত্রিভুবনের ধারণকর্ত্রী বা পালিকা ৷ দুর্গা ও কালীর মত জগন্মাতার আরেক রূপ ৷ আসলে শক্তিদেবীদের সবাইকে জগদ্ধাত্রী বলা গেলেও অষ্টাদশ শতক থেকে জগদ্ধাত্রী পুজো পরিচিতি লাভ করে ৷ দেবী দুর্গার আরেক রূপ বলে জগদ্ধাত্রীস্তোত্রের তিন নম্বর শ্লোকে “জগদ্ধাত্রী দুর্গা” বলা হয় ৷ “জয় সর্বগত দুর্গে জগদ্ধাত্রী নমোহস্তুতে “৷ উপনিষদে এঁর নাম উমা হৈমবতী ৷বিভিন্ন পুরাণ ও তন্ত্রে এঁর উল্লেখ আছে ৷ খ্রিস্টীয় পঞ্চদশ শতকে শূলপাণি কালবিবেক গ্রন্থে জগদ্ধাত্রীর পুজোর উল্লেখ করেন ৷ স্বর্গের দেবতারা মহিষাসুর বধের পর ভাবলেন তাঁদের সবার সম্মিলিত শক্তিতে অসুর বধ হয়েছে ৷ শুধু ব্রহ্মার বরের সম্মান রক্ষা করতে
দেবী বা নারীদেহের আবশ্যিকতা ৷ তখন জগন্মাতা বললেন আমার ইচ্ছা ছাড়া তোমরা কোন কিছু করতে সক্ষম নয় ৷ তিনি একটি তৃণখন্ড দেবতাদের দিকে নিক্ষেপ করলেন ৷ দেখা গেল অগ্নি ঐ তৃণটিকে পোড়াতে , বায়ু ওড়াতে , বরুণ প্লাবিত করতে এবং ইন্দ্র বজ্র দিয়ে ধ্বংস করতে পারলেন না ৷ দেবতাদের এই দুরবস্থা দেখে পরমাসুন্দরী সালঙ্কারা চতুর্ভুজা রূপে জগন্মাতা আবির্ভূতা হলেন ৷ এতে দেবতাদের জ্ঞান চক্ষু খুললো ৷ বুঝিয়ে দিলেন তিনিই জগতের ধারিণী শক্তি ৷ কেন উপনিষদ এবং কাত্যায়ণীতন্ত্রে এই কাহিনী পাওয়া যায় ৷ কেন উপনিষদে রয়েছে যক্ষের বেশের কথা ৷ জগদ্ধাত্রী হলেন বিষ্ণুমায়া বা বৈষ্ণবী শক্তি ৷ তাই , বিষ্ণুর মত হাতে আছে শঙ্খ ও চক্র ৷ শ্রীশ্রীচন্ডীতে আছে যুদ্ধের সময় মহিষাসুরের হস্তীরূপ ধারণের কথা ৷ মহিষাসুরের এই মায়া দেবী ধরে ফেলে দুর্গা চতুর্ভুজা মূর্তি ধরে চক্র দিয়ে হাতির শুঁড় ছেদন করেন ৷ সংস্কৃতে হাতির অর্থ করী ৷ আর ঐ অসুরের নাম করীন্দ্রাসুর ৷ দুর্গা যেমন মহিষাসুর মর্দ্দিনী তেমনি জগদ্ধাত্রী হলেন করীন্দ্রাসুরমদ্দির্নী ৷ “জগদ্ধাত্রী স্তোত্র ও তার বাংলা অনুবাদ ৷-
“দয়ারূপে দয়াদৃষ্টে দয়াদ্রে দুঃখ-মোচিনি।
সর্ব্বাপত্তারিকে দুৰ্গে জগন্ধাত্রি নমোহস্তুতে ॥১১॥
অগম্যধামধামস্থে মহাযোগীশ-হৃৎপুরে।
অমেয়ভাবকূটস্থে জগদ্ধাত্রি নমোহস্তুতে ॥১২॥
ইতি শ্ৰীজগদ্ধাত্রীকল্পে জগদ্ধাত্রীস্তবঃ॥”
হে জগদ্ধাত্ৰি! তুমি দয়ারূপিণী, তুমি ভক্তগণকে দয়া করে দর্শন দিয়ে থাক, তোমার হৃদয় দয়া দ্বারা আর্দ্রীকৃত, তুমি ভক্তদের দুঃখ মোচনকারিণী, হে দুর্গে! তুমি সমস্ত আপদ হতে ত্ৰাণ করা, তোমাকে নমস্কার.।১১। হে জগদ্ধাত্ৰি! মহাযোগীর ঈশ্বর যিনি তাঁর হৃদয়পদ্মে যে ধাম, যে ধামে যাওয়া যায় না। সেই তোমার ধাম, সীমাশূন্য স্থির ভাব রাশিতে তোমার অবস্থান, তোমাকে নমস্কার।১২। জগদ্ধাত্রী চন্দননগরের প্রাণাত্মিকা ৷
চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী প্রতিমা সাধারণতঃ ২০ থেকে২৫ ফুট উচ্চতার ৷ মায়ের সাবেকী মূর্তির সাজ সাদা ও সোনালী রঙের ৷ মায়ের বাঁদিকের দু হাতে শাঁখ ও ধনুক ৷ ডান দিকের দু হাতে তীর ও চক্র ৷পরনে লাল শাড়ী ৷ নিচে হাতি রূপী করীন্দ্রাসুর তার উপর সাদা সিংহ ৷দেবীর গলায় নাগযজ্ঞোপবীত ৷ মা রক্তপদ্মের উপরে বসে ৷ করীন্দ্রাসুরকে মারার জন্য তাঁকে বলা হয় “করীন্দ্রাসুরনিসূদিনী ” ৷কাত্যায়নী তন্ত্রের ৭৬ অধ্যায়ে আদ্যাশক্তি জগদ্ধাত্রী দেবীর ব্রহ্মের স্বরূপ ব্যাখ্যার কথা আছে ৷উপনিষদে বলা হৈমবতী ঊমাই আসলে দেবী দুর্গা ও জগদ্ধাত্রী ৷জগদ্ধাত্রী সত্ত্বগুণের প্রতীক ৷ ব্রাহ্মণ্যগুণ বলা হয় ৷কিন্তু , তাঁর রক্তবর্ণ , রক্ত বস্ত্র ও তাঁর সিংহাসনের রক্তকমলে আবার রজোগুণের প্রকাশ দেখি ৷উপবীত ব্রাহ্মণ্যশক্তির প্রতীক ৷ তিনি ব্রহ্মময়ী ও পরম যোগিনী ৷ মহাযোগবলে যিনি ধরে আছেন সমগ্র বিশ্ব সংসারকে ৷ বিশ্বপ্রসূতি , বিশ্বধাত্রীর চলছে নিত্য লীলা ও নিত্য খেলা ৷তাঁর হাতের শাঁখ শব্দ বা নাদ ব্রহ্মের প্রতীক ৷যিনি বাক রূপে আমাদের প্রাণে প্রতিষ্ঠিতা ৷তাইতো , রামকৃষ্ণ পরমহংস বলেছেন “মন করীকে যে বশ করতে পারে তারই হৃদয়ে জগদ্ধাত্রী উদয় হন “৷ যাঁর পুজো হয় রাজসিক দেবী দুর্গা এবং তামসিক মা কালীর পর ৷প্রভাত সূর্যের মত তাঁর গায়ের রঙ হলেও আমরা তাঁর রঙ দেখি তপ্তকাঞ্চন ৷ হৈমন্তী এই মায়ের পুজো হয় কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে ৷ জগদ্ধাত্রী প্রচলন নিয়েও নানা মুনির নানা মত ৷তবে , সবচেয়ে প্রচলিত হলো নবাব আলীবর্দী খাঁ ১২ লক্ষ টাকা রাজকর দিতে না পারায় রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে বন্দী করেন ৷ তাই ,নবাবের জন্য দুর্গা পুজো করতে অপারক হওয়ায় নদীয়া রাজ কৃষ্ণচন্দ্র স্বপ্ন দেখে দুর্গাপুজোর পরের শুক্লা নবমী তিথিতে জগদ্ধাত্রী পুজো শুরু করেন ৷

কৃষ্ণনগরে একই দিনে সপ্তমী , অষ্টমী ও নবমী পুজো হয় সাত্বিক , রাজসিক ও তামসিক ভাবে ৷ কৃষ্ণনগরে বারোয়ারী জগদ্ধাত্রী পুজো হয় দু শোর বেশী ৷তবে , শান্তিপুরের কাছে ব্রাহ্মশাসন গ্রামের পন্ডিত চন্দ্রচূড় তর্কচূড়ামণি নিজের পঞ্চমুন্ডির আসনে বসে দেবী প্রতিমার রূপ , বীজমন্ত্র ও পূজা পদ্ধতি ধ্যানে বসে জানতে পারেন বলে ব্রাহ্মশাসন জগদ্ধাত্রী পূজা পরিষদের প্রকাশিত স্মারকে লিখেছে ৷ কিন্তু , অধিকাংশ মানুষের বিশ্বাস তন্ত্রবিদ মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র সর্বানন্দ বংশীয় মহাপন্ডিত কুলাবধূতাচার্য্য রঘুনাথ তর্কবাগীশ কাল গ্রহ বিষৎ ষট্ চন্দ্র শাকে অর্থাৎ ১৬০৯ শকাব্দে বা ১৬৮১ খ্রিস্টাব্দে ১৬০টি তন্ত্র ও শতাধিক বৈদিক ও পুরাণ গ্রন্থ পড়ে “আগমতত্ব বিলাস” নামে একটি মহাগ্রন্থ রচনা করেন ৷ এই মহাপুস্তকে জগদ্ধাত্রীর মূর্তি , পূজা , বীজ মন্ত্র , দীক্ষা বিধির বিবরণ লেখেন ৷ যা থেকে জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রচলন ৷
১৭৫২ খ্রিস্টাব্দে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রাজগুরু কালীশঙ্কর মৈত্রের ব্যাখ্যামত পুজো শুরু করেন ৷রাজবাড়ীর প্রতিমা ছোট ৷কুমারী কন্যারূপী ৷ পৌরাণিক সিংহ বা ঘোড়ামুখী সিংহ বাহনা ৷ যাঁর পা সোজাসুজি সিংহের উপরে রয়েছে ৷ কৃষ্ণচন্দ্রের প্রপৌত্র গিরীশচন্দ্র পুজোকে ব্যাপকতা দেন ৷ রাজবাড়ীর ছাড়া অন্য প্রতিমাগুলি বৃহদাকৃতির ৷নাম – বড় মা , প্রাচীন মা , আদি মা , নতুন মা ইত্যাদি ৷কৃষ্ণনগর চাষাপাড়ার “বুড়িমার” গহনা বাংলা বিখ্যাত ৷ রাজবাড়ীর দেখাদেখি ১৭৭২ সাল থেকে কৃষ্ণনগর চাষাপাড়ার ঘোষেরা প্রজারা ” বুড়িমার” পুজো শুরু হয় ৷

প্রথমে হত ঘটে পটে ৷ ১৭৯০ সালে চাষা পাড়ার গোবিন্দ ঘোষ প্রথম প্রতিমা আনেন ৷ এবছর ২৫০- তম বর্ষেও বুড়িমার জন্য রয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ৷দেশ বিদেশের ভক্তরা মনস্কামনা পূরণ হলে এত গহনা দেন যে সব পরানো যায় না ৷ছোটমা বা জলেশ্বরী মাকেও ২০১৮তে পড়ানো হয়েছিল ১০ কেজি ওজনের নিজস্ব গহনা ৷ আর বৌবাজারের মা মহেশ্বরীকে গহনা দিয়ে লেবুতলার মত ২০১৯ এ সাজিয়েছিল সেনকো গোল্ড ৷ এবারে সবচেয়ে বেশী গহনায় সেজেছে চাষা মা বা বুড়ি মা ৷কৃষ্ণনগরে একমাত্র চারদিনী মা ছাড়া সবার পুজো একদিনে হয় ৷মালোপাড়ার জলেশ্বরী মায়ের নবমীর রাতের আগুন খেলা দর্শনীয় ৷ কৃষ্ণনগরের দশমীর ঘট ভাসানকে বাংলার অন্যতম সেরা কার্ণিভাল বলা যায় ৷ আগে সব প্রতিমা বিসর্জনের আগে রাণীমা বাড়ীতে বসে দেখতেন ৷ এখনও সাঙে বা কাঁধে করে সব ঠাকুর রাজবাড়ী প্রদক্ষিণ করে জলঙ্গীতে বিসর্জন হয় ৷এখন বিভিন্ন পুজোয় নানা জায়গায় কার্ণিভাল হলেও কৃষ্ণনগরের ঘট বিসর্জনে ও চন্দননগরের বিজয়ার কার্ণিভালে বরাবরই কতকিছু শিক্ষণীয় বিষয় থাকে ৷ কৃষ্ণনগরে থাকে প্রচুর বাংলার ঢাক ৷ এবারে কৃষ্ণনগর স্বীকৃতি ক্লাবে লাআট এন্ড সাউন্ড সহ লালকেল্লা হয়েছে ৷ চন্দননগরের চেয়েও বেশী (দুশোর বেশী) পুজো হয় কৃষ্ণনগরে ৷
কৃষ্ণনগরের ধনতেরাস জগদ্ধাত্রী পুজো ৷ এই সময় প্রতিটি সোনার দোকানে লক্ষ লক্ষ টাকার গহনা বিক্রি হয় ৷ তবে , আলোর জন্য চন্দননগরের জগদ্ধাত্রীর খ্যাতি বিশ্বজোড়া ৷ অধিকাংশ মত নদীয়া রাজের ঠাকুর দেখে চন্দননগরের দেওয়ান ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী ১৭৬৩/৬৪ খ্রিস্টাব্দে লক্ষ্মীগঞ্জ চাউলপটির নিচুপটিতে প্রথম চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো শুরু করেন ৷ এখনও এই আদিপূজার সংকল্প হয় ওনাদের বংশধরদের নামে ৷নাম আদি মা ৷ দেওয়ান চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত এই পুজোয় থাকে সাদা সিংহ এবং বিপরীত মুখী অবস্থানে হাতি ৷লোকবিশ্বাস আদি মা বিসর্জনের পরপরই গঙ্গায় শুশুক বা সাপের দেখা পাওয়া যায় ৷১৯৬১ সালে আনন্দবাজার পত্রিকায় লেখা হয়েছিল আদি মার পুজো ৪৬০ বছরের পুরানো ৷ ১৮২০ সালে Friends of India পত্রিকায় চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর কথা লেখা আছে ৷ রবার্ট ক্লাইভ চাউলপট্টিকে Granary of Bengal বলে উল্লেখ করেছিলেন ৷

১৭৫৭ সালে ক্লাইভ চন্দননগর অভিযান করেছিলেন ৷ তাই অনেকে বলেন কৃষ্ণনগরের চেয়ে আগে চন্দননগরের আদিমার পুজোর প্রচলন হয়েছিল ৷তবে , কেউ কেউ বলেছেন চন্দননগরের প্রথম পুজো করেন ফেরিঘাটে দাতারাম সুর ৷ পরে ঐ পুজো ভদ্রেশ্বরের তেঁতুলতলায় সরে যায় ৷ এখনও তেঁতুলতলার পুজোকে খুব জাগ্রত ভাবা হয় ৷ অন্ততঃ দু হাজার পাঁঠাবলি হয় ৷১৭৬৮ সালে শুরু হয় চন্দননগরের দ্বিতীয় লক্ষ্মীগঞ্জ কাপড়পটির পুজো , নাম মেজো মা ৷ যা শ্রীধর বা শশধর বন্দ্রোপাধ্যায়ের উদ্যোগে শুরু হয়েছিল ৷চন্দননগর হেলাপুকুর ধারের পুজোয় মাকে সাজানো হয়েছে একশো কেজি সোনায় ৷মাটির প্রতিমা গড়ে জগদ্ধাত্রী পুজো কৃষ্ণচন্দ্র ও ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরীর উদ্যোগে শুরু হলেও বর্তমান বাংলাদেশের বরিশালে অষ্টম শতকের একটি পাথরের দেবী মূর্তি পাওয়া গেছে , যেটা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুতোষ সংগ্রহশালায় রাখা আছে ৷ কৃষ্ণনগরের রাঘবেশ্বর শিবমন্দিরে ও শান্তিপুরের জলেশ্বর শিব মন্দিরের ভাস্কর্যে জগদ্ধাত্রীর প্রাচীন মূর্তি দেখা যায় ৷আবার অনেকে বলেন ৫৯০-৬৪৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রাজা হর্ষবর্ধনের কুলদেবী ছিলেন জগদ্ধাত্রী ৷ যে সিংহবাহিনী দেবী প্রতিমা কলকাতার মল্লিক বাড়ীর দেবী প্রতিমা বলে দাবী করা হয় ৷ তাহলে জগদ্ধাত্রী উপাসনা তো অনেক আগের ৷সব পুজোর মধ্যে প্রথম সর্বজনীন গুপ্তিপাড়ার “বিন্ধ্যবাসিনী ” মা জগদ্ধাত্রী ৷তারাপীঠে তারাশিলায় এইদিনে জগদ্ধাত্রীর পূজা হয় ৷ সারদাদেবীর মা শ্যামাসুন্দরী প্রতিবেশী নবকুমার মুখোপাধ্যায়ের বাড়ীর কালীপুজোয় চাল পাঠাতেন ৷ একবার দুই পরিবারের মধ্যে ঝগড়া হওয়ায় মুখুজ্যেরা ঐ চাল নিতে অস্বীকার করেন ৷

শ্যামাসুন্দরী সেই রাতেই স্বপ্নে জগদ্ধাত্রীর দর্শন পেয়ে ঐ চালে জগদ্ধাত্রী পুজো শুরু করেন ৷মা সারদা দেবীর বংশের জগদ্ধাত্রী আজও হয় জয়রামবাটীতে ৷ আমার লেখা” হিন্দু ধর্ম ” এবং “সনাতনী কৃষ্টিকথা ” বইদুটিতে হিন্দু দেবদেবী , ধর্মগ্রন্থ , তীর্থাদি নানা বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ পাবেন ৷  আমরা জগদ্ধাত্রী গায়ত্রী পাঠ করি ,” মহাদেব্যৈ বিদ্মহে সিংহবাহিন্যৈ ধীমহি ৷ তন্নো দেবী প্রচোদয়াৎ “৷


“জয় সর্ব্বগতে দুর্গে জগদ্ধাত্রী নমোহস্তুতে ৷
পরমাণু স্বরূপে চ দ্বকুকাদি স্বরূপিণী ৷
স্থূলাতি সূক্ষ্ম রূপেন জগদ্ধাত্রী নমোহস্তুতে !”
( জগদ্ধাত্রী পূজা মন্ডপ চন্দননগর থেকে হৈমন্তিক শুভেচ্ছাসহ ৷ চতুর্ভূজা মহামায়ার আশিস সবার উপর বর্ষিত হোক ৷)

More from CultureMore posts in Culture »
More from InternationalMore posts in International »
More from SocialMore posts in Social »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *