Press "Enter" to skip to content

অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ ‘Bengal Above All Project’ এর মাধ্যমে আমফানের আসুরিক প্রভাবে ভীষণ ভাবে বিধ্বস্ত মানুষের হাতে এক মাসের রেশন তুলে দিলেন।

Spread the love

গোপাল দেবনাথ: ৭ জুন, ২০২০। আজ সারা বিশ্বব্যাপী করোনা আতঙ্কে থরহরি কম্প অবস্থা। ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে কয়েক লক্ষ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। আমাদের দেশ তথা এই রাজ্যেও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। আমাদের দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দু লক্ষ ছড়িয়ে গেছে। এই করোনা মহামারীর মাঝে গত ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আমফানের তান্ডবে আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের এক লক্ষ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।

একদিকে করোনার কারণে লকডাউনের জেরে সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত করুন। এই সব বিষয়ের কথা মাথায় রেখে গত ৬ জুন অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ, ‘নদীয়া রিলিফ’ নামে একটি প্রজেক্টের সূচনা করেন। অভিনেত্রী সায়নী জানালেন, আমরা মানে আমি ও কয়েকজন বন্ধু মিলে যতটা সম্ভব ডোনেশন কালেক্ট করে শুরু করলাম ‘Bengal Above All Project’ আমাদের প্রথম প্রজেক্ট হল *’Nadia Relief’*. যেটা আমরা গত ৬ জুন সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি।

আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত নিই আমাদের রাজ্য বাংলা দু-দুটো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে একটি করোনা অপরটি আমফান। এই বাংলার মানুষ হিসাবে আমদের কিছু করতেই হবে, দাঁড়াতে হবে মানুষের পাশে থাকতে হবে এই বাংলার মানুষের সাথে। গতকাল ৬ জুন আমরা গিয়েছিলাম নদীয়া জেলার করিমপুরের তেহট্ট তে। আমরা জানতে পেরেছিলাম সেখানকার কিছু পরিবারের কথা, যাদের বেশিরভাগ মানুষই বয়স্ক এবং আমফানের আসুরিক প্রভাবে ভীষণ ভাবে বিধ্বস্ত।

সেইরকম ৪০ টা পরিবারের মানুষদের আমরা বাছাই করি, সেই সব অঞ্চল গুলো হল গ্রাম পঞ্চায়েত – ধরাদহ, নদীডাঙ্গা এবং নারায়ণপুর।আমরা বন্ধুরা মিলে ভোর ৬ টা নাগাদ ওই সকল বিধ্বস্ত মানুষের হাতে রেশন তুলে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে বেড়িয়ে পরি। সমস্ত রকম কাজ সেরে রাত্রি প্রায় ১১:৩০ নাগাদ আমরা ফিরে আসি। এতটা দূর যাতায়াত করতে গিয়ে প্রায় ১৩ ঘন্টা সময় কেটে যায়। আমরা সকলে মিলে ৪০ টি পরিবারের হাতে এক মাসের রেশন সামগ্রী তুলে দিয়ে আসতে পেরেছি।

আমাদের দেওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল, আটা, ডাল ১০ কিলো চাল, আলু, তেল, ছাতু, সয়াবিন, চিড়ে, হরলিক্স বিস্কুট, স্যানিটারি ন্যাপকিন, স্যানিটাইজার, হ্যান্ডমেড মাস্ক, সাবান এছাড়াও বেসিক হাইজিন কিট ও রেশন কিট প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আমাদের বন্ধুদের নাম একবার বলতেই হবে যাদের অকুন্ঠ সাহায্য ছাড়া এই কাজ কখনো সম্ভবপর হতো না।
ডিজাইনার বন্ধু জয়িতা রায়, যে প্রায় ২৫০০ হ্যান্ডমেড গামছা মাস্ক তৈরী করে দিয়েছে এবং
ভবিষ্যতেও আরোও করবে। অভিনেতা কৌশিক রায়, সংগীত পরিচালক ও গীতিকার
প্রসেন এবং আমার বন্ধু অঙ্কিতা চৌধুরী ও দীপ বাতরা।

স্থানীয় প্রশাসন আমাদের দিকে সার্বিক ভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে ছিলেন, সেই কারণে আমরা খুবই ভালোভাবে কাজগুলো সম্পন্ন করতে পেরেছি। প্রথমে একটা স্কুল-এ কিছু পরিবারকে আনা হয়েছিল কারণ অনেকটা ট্রাভেল করা মুশকিল হয়ে যেত এবং তারপরে আমরা পঞ্চায়েতের ভিতরে কিছু বাড়িতে গিয়ে সব রকমজিনিস পত্র দিয়ে আসতে পেরেছি।
এরপর আমাদের ইচ্ছে আছে আমরা দক্ষিণ ২৪ পরগনা-র ক্যানিং -এর অন্তর্গত ‘দীঘির পার’ বলে একটি জায়গায় যাব সেখানে প্রায় ৫০টি পরিবারের হাতে সারা মাসের রেশন তুলে দেওয়ার চেষ্টা করব।

ভবিষ্যতে আমাদের আরও ১০ টি জায়গায় গিয়ে রেশন দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। আমি সায়নী আপনাদের সকলকে এই ভাবেই আমাদের পাশে থাকার আবেদন জানাচ্ছি।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *