Press "Enter" to skip to content

নীহাররঞ্জন রায় প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন শিল্প-ইতিহাস চর্চায় এবং এ বিষয়টিই ইতিহাসের সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে তার গবেষণার ভিত্তি হয়ে উঠেছিল…..।

Spread the love

স্মরণঃ নী হা র র ঞ্জ ন রা য়

বাবলু ভট্টাচার্য : নীহাররঞ্জন রায় ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম। জ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্র যেমন- শিল্পকলা, প্রাচীন ও আধুনিক সাহিত্য, ইতিহাস, ধর্ম, রাজনীতি এবং জীবন কাহিনিসহ নানা বিষয়ে তিনি কাজ করেন এবং গ্রন্থ রচনা করেন।

নীহাররঞ্জন রায় প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন শিল্প-ইতিহাস চর্চায় এবং এ বিষয়টিই ইতিহাসের সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে তার গবেষণার ভিত্তি হয়ে উঠেছিল।

মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনে নীহাররঞ্জন রায়ের প্রচেষ্টা পরিণতি লাভ করেছে তার প্রধান সাহিত্যকর্ম ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ গ্রন্থে।

কর্মজীবনে তিনি বিবিধ পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন গ্রন্থাগারিকের পদে কাজ করার পর তিনি চারুকলা বিভাগের বাগেশ্বরী অধ্যাপক এবং প্রাচীন ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি রাজ্যসভা ও ভারতীয় পে-কমিশনের সদস্যও ছিলেন।

সিমলার ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগার ও ভারতীয় জাদুঘরের মতো সংস্থাগুলোর প্রশাসনেও তিনি কাজ করেছেন। তিনি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি অধ্যাপক, Royal Asiatic Society, International Association of Arts and Letters (জুরিখ) এবং কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটির ফেলো ছিলেন।

তিনি ‘সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার’ ও ভারত সরকারের ‘পদ্মভূষণ’-এর মতো সম্মানজনক উপাধি লাভ করেন।

নীহাররঞ্জন রায় ১৯০৩ সালের ১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মহেন্দ্রচন্দ্র রায়।

প্রাথমিক শিক্ষা ময়মনসিংহে সম্পন্ন হয়। সিলেটের মুরারিচাঁদ কলেজ থেকে ইতিহাসে অনার্সসহ বি.এ পাস করেন ১৯২৪ সালে। পরে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের শিল্পকলা শাখায় এম.এ পাস করে রেকর্ড মার্ক-সহ প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান লাভ করেন।

১৯২৭ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ ফেলো হিসাবে নিযুক্ত হয়ে গবেষণায় ব্রতী হন। বৃত্তি নিয়ে ১৯৩৫ সালে ইউরোপ যান এবং হল্যান্ড-এর লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি এবং লন্ডন থেকে গ্রন্থাগার পরিচালনা বিষয়ে ডিপ্লোমা নেন।

উনিশ শতকের বিশ ও ত্রিশের দশকে নীহাররঞ্জনের মানস গঠনকালে বাংলা ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক ও আবেগাত্মক আবহের উদার মানবতাবাদ দ্বারা প্রভাবিত। তার কাজের জগতে মানুষ ও তার পরিপার্শ্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যা কিছু তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন তা-ই তাকে আগ্রহী করে তুলেছে এবং আবেগ ও বুদ্ধি দিয়ে তিনি তা গ্রহণ করেছেন।

পঁয়ত্রিশ বছরেরও অধিককাল নীহাররঞ্জন রায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন রিসার্চ ফেলো, প্রভাষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপত্র ক্যালকাটা রিভিউর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, মুখ্য গ্রন্থাগারিক, রিডার ও প্রফেসর।

নীহাররঞ্জন রায় ১৯৮১ সালের আজকের দিনে (৩০ আগস্ট) কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Mission News Theme by Compete Themes.