Press "Enter" to skip to content

ক্ষুদিরাম বসু ভারত উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম সর্বকনিষ্ঠ বিপ্লবী ছিলেন। ভগবদ্ গীতা পড়ে ক্ষুদিরাম ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনে যোগদান করেন…..।

জন্মদিনে স্মরণঃ ক্ষুদিরাম বসু

বাবলু ভট্টাচার্য :  দুই পুত্রের অকাল মৃত্যুর পর তৃতীয় পুত্রের মৃত্যুর আশঙ্কায় বাবা তখনকার সমাজের নিয়ম অনুযায়ী তার পুত্রকে তার বড়ো দিদির কাছে তিন মুঠো খুদের (চালের খুদ) বিনিময়ে বিক্রি করে দেন। খুদের বিনিময়ে কেনা হয়েছিল বলে শিশুটির নাম পরবর্তীকালে ‘ক্ষুদিরাম’ রাখা হয়।

তার পিতা ত্রৈলোক্যনাথ বসু ছিলেন নাড়াজোলের তহসিলদার। আর মা-এর নাম লক্ষ্মীপ্রিয় দেবী। তিন কন্যার পর ক্ষুদিরাম তার মায়ের চতুর্থ সন্তান।

ক্ষুদিরামের বয়স যখন মাত্র ছ-বছর তখন তিনি মাকে হারান। এক বছর পর তার পিতার মৃত্যু হয়। তখন তার বড়ো দিদি অপরূপা তাকে দাসপুর থানার এক গ্রামে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। অপরূপার স্বামী অমৃতলাল রায় ক্ষুদিরামকে তমলুকের হ্যামিল্টন হাই স্কুলএ ভরতি করে দেন।

ক্ষুদিরাম বসু ভারত উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম সর্বকনিষ্ঠ বিপ্লবী ছিলেন। ভগবদ্ গীতা পড়ে ক্ষুদিরাম ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনে যোগদান করেন। তিনি বঙ্গভঙ্গের চরম বিরোধী ছিলেন এবং বাংলা প্রদেশের এই বিভাজন তাকে আরো বেশী উদ্বুদ্ধ করে।

বিলাতি দ্রব্য বর্জন, বিলাতি লবণের নৌকা ডোবানো প্রভৃতি কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে স্বদেশী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন ক্ষুদিরাম। মেদিনীপুরের এক প্রদর্শনীতে বিপ্লবী পত্রিকা ‘সোনার বাংলা’ বিলি করার সময়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে পুলিশকে মেরে পালিয়ে যান। এই অভিযোগে পরে গ্রেফতার হলেও বয়স কম বলে সরকার মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়।

বিপ্লবীদের গোপন সংস্থায় অর্থের প্রয়োজন পড়লে মেলব্যাগ লুট করেন। বিপ্লবী দল- কর্তৃক কলকাতার তদানীন্তন চীফ প্রেসিডেন্সী ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই কাজ সম্পন্ন করার দ্বায়িত্ব পড়ে ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকীর উপর।

নিরাপত্তার কারণে সরকার কিংসফোর্ডকে মজফ্ফরপুরে বদলি করলে ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকী মজফ্ফর পুরে আসেন। ১৯০৮ সনে ৩০ এপ্রিল রাত ৮ টার সময় কিংসফোর্ডের গাড়ি ভেবে মজফ্ফরপুরের ইউরোপীয় ক্লাব থেকে ফেরা একটি গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপের ফলে দুজন ইউরোপীয় মহিলা (মিসেস কেনেডি, তার কন্যা এবং তাদের চাকর নিহত হয়।)

পরের দিনই তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিচারে তার ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। ১১ অগাষ্ট ১৯০৮ সনে তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।

ক্ষুদিরাম বসু ১৮৮৯ সালের আজকের দিনে (৩ ডিসেম্বর) পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মৌবনী-হাবিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

More from GeneralMore posts in General »
More from SocialMore posts in Social »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *