Press "Enter" to skip to content

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জর্জ হ্যারিসন এর নেওয়া একটি উদ্যোগই নাড়া দিয়েছিল পৃথিবীর মানুষকে। সবাইকে জানিয়েছিলেন পাক হানাদার বাহিনী বাংলার মানুষের ওপর কী নিপীড়ন আর হত্যাযজ্ঞই না চালাচ্ছে……..।

স্মরণঃ জ র্জ হ্যা রি স ন

বাবলু ভট্টাচার্য : বাংলাদেশের সঙ্গে ছিল তার আত্মার সম্পর্ক এবং হৃদয়ের পরম অনুভূতি মেশানো। এদেশের কঠিন বিপদের সময় তিনি দাঁড়িয়েছিলেন পাশে। চরম দুর্দিনে বাড়িয়েছিলেন সাহায্যের হাত। জগৎবিখ্যাত এই মানুষটি জর্জ হ্যারিসন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার নেওয়া একটি উদ্যোগই নাড়া দিয়েছিল পৃথিবীর মানুষকে। সবাইকে জানিয়েছিলেন পাক হানাদার বাহিনী বাংলার মানুষের ওপর কী নিপীড়ন আর হত্যাযজ্ঞই না চালাচ্ছে। তুলে ধরেছিলেন প্রতিবেশী ভারতে শরণার্থী হওয়া কোটি মানুষের দুঃসহ বেদনার কথা।

১৯৭১ সালের ১ আগস্ট। দিনটি ছিল রবিবার। ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবদন্তি সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশংকের অনুরোধে একটি কনসার্টের আয়োজন করেছিলেন ব্রিটিশ সংগীশিল্পী জর্জ হ্যারিসন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ঐতিহাসিক মেডিসন স্কয়ার গার্ডেনে আয়োজিত ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ গোটা বিশ্বের মানুষের কাছে নিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের ন্যয়সঙ্গত দাবিকে। কনসার্ট থেকে পাওয়া অর্থ ইউনিসেফের মাধ্যমে খরচ হয়েছিল বাংলাদেশি শরণার্থীদের জন্য।

জর্জ হ্যারিসনের জন্ম ১৯৪৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের লিভারপুলে। সংগীত তাঁকে নিয়ে গেছে গোটা দুনিয়ায়। তবে জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে।

১৯৬০ এর মাঝামাঝি সময় থেকে হ্যরিসন ভারতীয় সংস্কৃতি প্রতি আকৃষ্ট হন এবং বিটলসের অন্যান্য সদস্যদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। Help নামক চলচ্চিত্র তৈরির সময় বাহমায় ‘শিবানন্দ যোগ’ এর প্রতিষ্ঠাতা স্বামী বিষ্ণু দেবানন্দ তাকে The Complete Illustrated Book of Yoga নামের বইটি দেন। ১৯৬৬ সালে হ্যরিসন তার স্ত্রী প্যাঁটিকে-কে নিয়ে মুম্বাই সফরে যান। সেখানে তিনি বেশ কিছু ধর্মগুরুর সাথে দেখা করেন, সিতার নিয়ে পড়াশুনা করেন এবং কিছু তীর্থ স্থান পরিদর্শন করেন।

১৯৬৮ সালে উত্তরভারতের হৃষীকেশ পরিদর্শনে যান জর্জ বিটলসের অন্যান্য সদস্যদের সাথে নিয়ে এবং সেখানে মহর্ষি মহেশ যোগীর কাছে শিক্ষা নেন। ১৯৬০ সালে হ্যারিসন নিরামিষাশী হয়ে যান এবং পরমহংস যোগানন্দের কাছে ক্রিয়া যোগের দীক্ষা নেন।

১৯৬৯ সালের মাঝামাঝি সময় লন্ডনের রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে ‘হরেকৃষ্ণ’ মন্ত্র জপ শুরু করেন। এরপর থেকে হ্যারিসন হরেকৃষ্ণ সম্প্রদায়ের সাথে যুক্ত হন যা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছিল।

১৯৯৭ সালে হ্যরিসনের গলায় ক্যান্সার ধরা পড়ে। তখন তাকে রেডিওথেরাপি দেয়া হয় যা সফল হিসেবে মনে করা হয়েছিল। ২০০১ সালে তার ফুসফুস থেকে ক্যন্সার টিউমার অপসারণ করা হয়।

জর্জ হ্যারিসন ২০০১ সালের আজকের দিনে (২৯ নভেম্বর) ৫৮ বছর বয়সে মেটাস্টাটিক নন-স্মল সেল লাং ক্যন্সারে মৃত্যুবরণ করেন।

More from EntertainmentMore posts in Entertainment »
More from InternationalMore posts in International »
More from MusicMore posts in Music »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *