Press "Enter" to skip to content

শক্তি চট্টোপাধ্যায় দারিদ্রের কারণে স্নাতক পাঠ অর্ধসমাপ্ত রেখেই প্রেসিডেন্সি কলেজ ছাড়েন, এবং সাহিত্য রচনা করে জীবিকা করার উদ্দেশ্যে উপন্যাস লেখা আরম্ভ করেন…….।

জন্মদিনে স্মরণঃ শ ক্তি চ ট্টো পা ধ্যা য়

“প্রথম ফসল গেছে ঘরে
হেমন্তের মাঠে মাঠে ঝরে শুধু শিশিরের জল;
অঘ্রানের নদীটির শ্বাসে
হিম হয়ে আসে
বাঁশপাতা-মরা ঘাস-আকাশের তারা!
বরফের মতো চাঁদ ঢালিছে ফোয়ারা!”

বাবলু ভট্টাচার্য : এমনই এক হেমন্তকালে জন্মেছিলেন আধুনিক বাংলা কবিতার বোহেমিয়ান রাজপুত্র শক্তি চট্টোপাধ্যায়।

পঞ্চাশ-ষাটের দশকের সোনালি সুন্দর সময়ে কলকাতা নগরীকে শাসন করতেন তারা। ঘোরগ্রস্ততায় তাদের ফুটপাত বদল হয়ে যেত। পুলিশের সাথে গোল্লাছুট ছিল মামুলি কারবার। নতুন সাহিত্যকে যাপন করতেন নিজেদের জীবন দিয়ে, মদ আর মগজের জ্বালানিতে নিজেদের পুড়িয়ে তৈরি করতেন নতুন কবিতা।

মধ্যরাতে কলকাতা শহর শাসিত হত চার যুবকের চোখের ইশারাপ্রবণতায়। সুনীল-শক্তি-উৎপল-শরৎ! সে সবই আজকে ঐতিহাসিক ঘটনা। সেই রূপালি ঋতুসকলের এক পাতাই শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা।

শক্তি চট্টোপাধ্যায় দারিদ্রের কারণে স্নাতক পাঠ অর্ধসমাপ্ত রেখেই প্রেসিডেন্সি কলেজ ছাড়েন, এবং সাহিত্য রচনা করে জীবিকা করার উদ্দেশ্যে উপন্যাস লেখা আরম্ভ করেন।

প্রথম উপন্যাস লেখেন ‘কুয়োতলা’। কিন্তু কলেজ জীবনের বন্ধু সমীর রায়চৌধুরীর সাথে তার বনাঞ্চল-কুটির চাইবাসায় আড়াই বছর থাকার সময়ে শক্তি চট্টোপাধ্যায় একজন সফল লিরিকাল কবিতে পরিণত হন। একই দিনে বেশ কয়েকটি কবিতা লিখে ফেলার অভ্যাস গড়ে ফেলেন তিনি। নিজের কবিতাকে তিনি বলতেন পদ্য।

১৯৬১ সালের নভেম্বরে ইশতেহার প্রকাশের মাধ্যমে যে চারজন কবিকে হাংরি আন্দোলনের জনক মনে করা হয় তাদের মধ্যে শক্তি চট্টোপাধ্যায় অন্যতম। অন্য তিনজন হলেন সমীর রায়চৌধুরী, দেবী রায় এবং মলয় রায়চৌধুরী। শেষোক্ত ৩ জনের সাথে সাহিত্যিক মতান্তরের জন্য ১৯৬৩ সালে তিনি হাংরি আন্দোলন ত্যাগ করে কৃত্তিবাস গোষ্ঠীতে যোগ দেন।

পরবর্তীকালে কৃত্তিবাসের কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের নাম সাহিত্যিক মহলে একত্রে উচ্চারিত হত, যদিও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় হাংরি আন্দোলনের ঘোর বিরোধী ছিলেন এবং কৃত্তিবাস পত্রিকায় ১৯৬৬ সালে সেই মনোভাব প্রকাশ করে সম্পাদকীয় লিখেছিলেন।

জীবনভর অসংখ্য কবিতা রচনা করেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়। প্রকাশ করেন বহু কাব্যগ্রন্থ : হে প্রেম হে নৈঃশব্দ্য, ধর্মে আছো জিরাফেও আছো, সোনার মাছি খুন করেছি, অন্ধকার নক্ষত্রবীথি তুমি অন্ধকার, হেমন্তের অরণ্যে আমি পোস্টম্যান, চতুর্দশপদী কবিতাবলী, পাড়ের কাঁথা মাটির বাড়ি, প্রভু নষ্ট হয়ে যাই, সুখে আছি, ঈশ্বর থাকেন জলে, অস্ত্রের গৌরবহীন একা, জ্বলন্ত রুমাল, ছিন্নবিচ্ছিন্ন, সুন্দর এখানে একা নয়, কবিতায় তুলো ওড়ে, ভাত নেই পাথর রয়েছে, আঙুরি তোর হিরণ্য জল, প্রচ্ছন্ন স্বদেশ, যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো, কক্সবাজারে সন্ধ্যা, ও চির-প্রণম্য অগ্নি, মিষ্টি কথায়, বিষ্টিতে নয়, সন্ধ্যার সে শান্ত উপহার, এই তো মর্মর মূর্তি, বিষের মধ্যে সমস্ত শোক, আমাকে জাগাও, ছবি আঁকে ছিঁড়ে ফ্যালে, জঙ্গলে বিষাদ আছে, বড়োর ছড়া, সেরা ছড়া, টরে টক্কা, কিছু মায়া রয়ে গেল, সকলে প্রত্যেকে একা, পদ্যসমগ্র-১ম থেকে ৭ম খণ্ড ইত্যাদি।

শক্তি চট্টোপাধ্যায় সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারসহ একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

প্রবল বেদনা নিয়ে চিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তিনি ১৯৯৫ সালের ২৩ মার্চ।

শক্তি চট্টোপাধ্যায় ১৯৩৪ সালের আজকের দিনে (২৫ নভে) পশ্চিমবঙ্গের জয়নগর-মজিলপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

More from PoemMore posts in Poem »
More from Writer/ LiteratureMore posts in Writer/ Literature »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *