Press "Enter" to skip to content

লালন ফকির ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী একজন বাঙালি সাধক পুরুষ। গান্ধীরও ২৫ বছর আগে ভারত উপমহাদেশে সর্বপ্রথম, তাকেই ‘মহাত্মা’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল…….।

স্মরণ : লা ল ন শা হ

বাবলু ভট্টাচার্য : বাউল সম্রাট সাঁইজী লালন শাহ পৃথিবীর ইতিহাসে অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতিকৃত। মানবতার জয়গান গাওয়া শ্রেষ্ঠ মানবকর্মী ও আধ্যাত্মিক সাধক। বাংলার বাউলদের মধ্যে যিনি ছিলেন সবচেয়ে খ্যাতিমান ও অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী।

লালন ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী একজন বাঙালি সাধক পুরুষ। তিনি একাধারে একজন আধ্যাত্মিক বাউল সাধক, মানবতাবাদী, সমাজ সংস্কারক এবং দার্শনিক। তিনি অসংখ্য গানের গীতিকার, সুরকার ও গায়ক ছিলেন।

তিনি তার সকল গানও রচনা করেছেন অসাম্প্রদায়িক মনোভাব থেকেই। তার গান ও দর্শন যুগে যুগে প্রভাবিত করেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুলের মতো বহু খ্যাতনামা কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, বুদ্ধিজীবীসহ অসংখ্য মানুষকে। তার গানগুলো মূলত বাউল গান হলেও বাউল সম্প্রদায় ছাড়াও যুগে যুগে বহু সঙ্গীতশিল্পীর কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে।

গান্ধীরও ২৫ বছর আগে, ভারত উপমহাদেশে সর্বপ্রথম, তাকেই ‘মহাত্মা’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল। তবে অসীম প্রতিভা আর দর্শনসঞ্চারী এই মহাত্মার জীবন সম্পর্কে বিশদ কোনো বিবরণ পাওয়া যায় না। তার সবচেয়ে অবিকৃত তথ্যসূত্র তার নিজের রচিত অসংখ্য গান।

লালনের কোনো গানে তার জীবন সম্পর্কে কোনো তথ্য তিনি রেখে যাননি, তবে কয়েকটি গানে তিনি নিজেকে লালন ফকির হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার মৃত্যুর পনেরো দিন পর কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত ‘হিতকরী’ পত্রিকার সম্পাদকীয় নিবন্ধে বলা হয়, ‘ইহার জীবনী লিখিবার কোনো উপকরণ পাওয়া কঠিন। নিজে কিছু বলিতেন না। শিষ্যরা তাহার নিষেধক্রমে বা অজ্ঞতাবশত কিছুই বলিতে পারে না।

এ ছাড়াও লালনের জন্ম কোথায় তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। লালন নিজে কখনও তা প্রকাশ করেননি। কিছু সূত্রে পাওয়া যায় লালন ১৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার (বর্তমান বাংলাদেশের) ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলার হারিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

কোনো কোনো লালন গবেষক মনে করেন, লালন কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার চাপড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত ভাড়ারা গ্রামে জন্মেছিলেন। এই মতের সঙ্গেও অনেকে দ্বিমত পোষণ করেন।

হিতকরী পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ নিবন্ধে বলা হয়েছে, লালন তরুণ বয়সে একবার তীর্থভ্রমণে বের হয়ে পথিমধ্যে গুটিবসন্ত রোগে আক্রান্ত হন। তখন তার সাথীরা তাকে মৃত ভেবে পরিত্যাগ করে যার যার গন্তব্যে চলে যায়। কালিগঙ্গা নদীতে ভেসে আসা মুমূর্ষু লালনকে উদ্ধার করেন মলম শাহ।

মলম শাহ ও তার স্ত্রী মতিজান তাকে বাড়িতে নিয়ে সেবা- শুশ্রুষা দিয়ে সুস্থ করে তোলেন। এরপর লালন তার কাছে দীক্ষিত হন এবং কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়াতে স্ত্রী ও শিষ্যসহ বসবাস শুরু করেন। গুটিবসন্ত রোগে একটি চোখ হারান লালন। ছেঁউড়িয়াতে তিনি দার্শনিক গায়ক সিরাজ সাঁইয়ের সাক্ষাতে আসেন এবং তার দ্বারা প্রভাবিত হন।

লালন শাহ ১৮৯০ সালের আজকের দিনে (১৭ অক্টোবর) কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়াতে নিজ আখড়ায় মৃত্যুবরণ করেন।

More from CultureMore posts in Culture »
More from InternationalMore posts in International »
More from MusicMore posts in Music »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *