Press "Enter" to skip to content

১৯৬৯ সালের কথা অভিনেতার বয়স মাত্র ১৬, মা-বাবার বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। ওই বয়সেই পিতৃহীন পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন বুম্বা ওরফে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়……।

শুভ জন্মদিন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়

বাবলু ভট্টাচার্য : ১৯৮৩ সালে ‘দুটি পাতা’ নামের ছবিটি নির্মিত হয়েছিল বলিউডের ঝড়তোলা রোমান্টিক ছবি ‘ববি’র আদলে। এ ছবিটি টালিউডের রোমান্টিক ছবির ধারাটাই বদলে দেয়। আর এ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে প্রসেনজিতের অভিষেক হয়েছিল নায়ক হিসেবে। তখন তার বয়স মাত্র ১৯।

এরপর ‘অমর সঙ্গী’, ‘আপন আমার আপন’, ‘কথা দিলাম’- এর মতো ছবিগুলো প্রসেনজিৎকে আরো শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেয়। ‘অমর সঙ্গী’ ছবিটি ছিল তার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। এরপর তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

মাত্র চার বছর বয়সে প্রথম অভিনয় করেছিলেন প্রসেনজিৎ। বাবা অভিনেতা বিশ্বজিতের ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’য় শিশুশিল্পী হিসেবে অভিষেক হয়েছিল তার। এটা ১৯৬৯ সালের কথা। যখন তার বয়স মাত্র ১৬, মা-বাবার বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। ওই বয়সেই পিতৃহীন পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন বুম্বা ওরফে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। মা আর ছোট বোন পল্লবী চ্যাটার্জির দায়িত্ব নেয়ায় জীবিকার তাগিদে তাকে অভিনেতারূপে আত্মপ্রকাশ করতে হয়েছিল।

এরপর খ্যাতি, জনপ্রিয়তা, অর্থবিত্ত, প্রভাব-প্রতিপত্তি, প্রতিষ্ঠা— সবই অর্জন করেছেন তিনি। টালিউডের বাংলা সিনেমাতেই প্রসেনজিতের ক্যারিয়ার সীমাবদ্ধ থাকে নি। তার ক্যারিয়ার বিস্তৃত হয়েছে বলিউডেও।

১৯৯০ সালে হিন্দি সিনেমা ‘আঁধিয়া’য় প্রথম অভিনয় করেন। এরপর ‘মিত মেরে মন কে’ ছবিতে তাকে দেখা গেছে। এরপর ‘বীরতা’ নামে আরো একটি বলিউডি ছবিতেও অভিনয় করেন বুম্বা। কিন্তু বলিউডে প্রসেনজিতের কপাল খোলেনি। যে কারণে অনেক দিন হিন্দি সিনেমায় তাকে দেখা যায়নি।

টালিউডের গতানুগতিক ছবির বাইরে ২০০৩ সালে ঋতুপর্ণ ঘোষ তার ‘চোখের বালি’ ছবিতে ঐশ্বরিয়া রাইয়ের বিপরীতে প্রসেনজিৎকে অভিনয় করিয়েছেন। ওটা ছিল ঋতুপর্ণের একটা এক্সপেরিমেন্ট। সেই এক্সপেরিমেন্টের পর তার ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যয়ের সূচনা হয়। এরপর ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘দোসর’ ছবিতে একজন অবিশ্বস্ত স্বামীর ভূমিকায় অভিনয় করেন— যা প্রসেনজিৎকে জাতীয় পুরস্কার এনে দেয়।

এরপর থেকে বাণিজ্যিক ধারার ছবির পাশাপাশি শিল্পশোভন ছবিতে সমানতালে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের দক্ষতা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন তিনি। এ ধারায় ‘মনের মানুষ’, ‘অটোগ্রাফ’, ‘চলো পাল্টাই’, ‘২২শে শ্রাবণ’, ‘নৌকাডুবি’, মিশর রহস্য’, ‘জাতিস্মর’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।

৩৩ বছরের ফিল্মি ক্যারিয়ারে প্রসেনজিৎ ৫০ জনেরও বেশি বলিউড ও টলিউড অভিনেত্রীর বিপরীতে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি করেছেন শতাব্দী রায় ও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের সঙ্গে। তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে ৫০টির বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন প্রসেনজিৎ। এই অভিনেতা ১৯৯২ সালে পুরুষোত্তম নামে একটি দ্বিভাষিক বাংলা কাহিনীচিত্র পরিচালনা করেন। পুরুষোত্তম সিনেমাটি প্রথম বাংলা সিনেমাস্কোপ সিনেমা হিসেবে মাইল ফলক হয়ে আছে। প্রসেনজিৎ অভিনীত এই সিনেমায় নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করেন দেবশ্রী রায়।

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ১৯৬২ সালের আজকের দিনে (৩০ সেপ্টেম্বর) কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।

More from CinemaMore posts in Cinema »
More from EntertainmentMore posts in Entertainment »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *