Press "Enter" to skip to content

আর্নেস্ট মিলার হেমিংওয়ে— যিনি আমেরিকান সাহিত্যিক ও সাংবাদিক। যার অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়তা ও জনপ্রিয় ইমেজ পরবর্তী প্রজন্মের ওপর ভীষণ প্রভাব ফেলেছিল……।

জন্মদিনে স্মরণঃ আর্নেস্ট মিলার হেমিংওয়ে

বাবলু ভট্টাচার্য : বিস্ময়কর এক চরিত্রের অধিকারী ছিলেন তিনি। বহির্মুখী, আত্মকেন্দ্রিক। দু’হাতে খরচ করতেন। শিকার পছন্দ করতেন। স্পেনের ষাঁড়ের লড়াই ছিল তার প্রিয়। প্রবল স্বাস্থ্যের অধিকারী এবং অ্যাডভেঞ্চার-প্রিয়। মদ্যপান এবং নারীসঙ্গ ছিল তার নিত্যসঙ্গী। দিনের পর দিন সমুদ্রে মাছ ধরা, সাঁতার কাটা ছিল দৈনন্দিন ভালোবাসা। দু’দুবার বিমান দুর্ঘটনায় পড়েও বেঁচে যান।

তিনি আর্নেস্ট মিলার হেমিংওয়ে— যিনি আমেরিকান সাহিত্যিক ও সাংবাদিক। যার অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়তা ও জনপ্রিয় ইমেজ পরবর্তী প্রজন্মের ওপর ভীষণ প্রভাব ফেলেছিল।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় রেডক্রসের অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার হয়ে চলে গিয়েছিলেন ইতালিতে। যুদ্ধে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

বিশ শতকের মার্কিন সাহিত্যে অন্যতম প্রভাব বিস্তারকারী লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে— তার বর্ণাঢ্য কিন্তু ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটান আত্মহননের মাধ্যমে। মুখে বন্দুকের নল ঢুকিয়ে ট্রিগার টিপে রোগক্লিষ্ট জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটান। তার এমন রহস্যময় মৃত্যুর কারণ হতে পারে দুর্ঘটনাজনিত শারীরিক বৈকল্য, যার ফলে নোবেল পুরস্কার গ্রহণের জন্য তিনি ১৯৫৪ সালে সশরীরে সুইডেনে উপস্থিত থাকতে পারেননি। এজন্য তার মনে অনেক খেদ ছিল।

তার লেখক-জীবনের শুরু আঠারো বছর বয়সে কানসাস সিটি স্টার পত্রিকার রিপোর্টার হিসেবে। ১৯২১ সালে তিনি টরন্টো স্টার উইকলির ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। সেই বছরের ডিসেম্বরে তিনি ইউরোপে পাড়ি জমান এবং গ্রিক-তুরস্ক যুদ্ধ এবং পরবর্তীকালে লুজান শান্তি বৈঠক সম্পর্কে রিপোর্ট প্রেরণ করেন। এই সময়কালে তার লেখা সমুদয় কবিতা ও গল্পসমেত তার একটি স্যুটকেস ট্রেন ভ্রমণকালে হারিয়ে যায়। একমাত্র বেঁচে যায় ‘মাই ওল্ডম্যান’ গল্পটি। আবার সবকিছু তাকে নতুন করে শুরু করতে হয়।

১৯২৩ সালে হেমিংওয়ের প্রথম বই ‘থ্রি স্টোরিজ এন্ড টেন পোয়েমস’ প্রকাশিত হয়। মুদ্রিত পুস্তকের সংখ্যা ছিল তিনশো। পরবর্তী বই গল্প-সংকলন ‘ইন আওয়ার টাইম’ প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে। প্রহসনগ্রন্থ ‘টরেন্টস অফ স্প্রিং’ প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে। সেই বছরের শরৎকালে প্রকাশিত হয় তার উপন্যাস ‘দ্য সান অলসো রাইজেস’। আর একটি গল্প-সংকলন ‘মেন উইদাউট উইমেন’ প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালের অক্টোবরে।

১৯২৯ সালে ‘এ ফেয়ারওয়েল টু আর্মস’ প্রকাশিত হওয়ার পর একজন প্রথম কাতারের লেখক হিসেবে পূর্ণ স্বীকৃতি লাভ করেন তিনি। হেমিংওয়ের ছোটগল্পের সংকলন ‘দ্য ফাস্ট ফরটিনাইন’ প্রকাশিত হয় ১৯৩৮ সালে।

১৯৪০ সালে তিনি স্পেনের গৃহযুদ্ধভিত্তিক দীর্ঘ উপন্যাস ‘ফর হুম দ্য বেল টোলস’ সমাপ্ত করেন। দশ বছর পর প্রকাশিত হয় ‘অ্যাক্রস দ্য রিভার এন্ড ইনটু দ্য ট্রিজ’। ১৯৫২ সালে প্রকাশিত হয় ‘দ্য ওল্ডম্যান এন্ড দ্য সি’।

১৯৫৪ সালে ষষ্ঠ মার্কিন লেখক হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন তিনি। পুরস্কার প্রদানকালে সম্মাননাপত্রে বলা হয় : ‘তার শক্তিশালী এবং শৈলীসৃষ্টিকারী শিল্পকর্মের জন্য…’

‘দ্য ওল্ডম্যান এন্ড দ্য সি’ প্রকাশের পরের বছর ১৯৫৩-তে এই বইয়ের জন্য পুলিৎজার পুরস্কার পেলেন হেমিংওয়ে। ১৯৫৪-তে পেলেন নোবেল পুরস্কার।

হেমিংওয়ের জীবনের এই অংশটি নিয়ে চমৎকার একটি সিনেমা হয়েছে। একাডেমি অ্যাওয়ার্ড জয়ী রিচার্ড এটেনবোরো তৈরি করেছেন সিনেমাটি। ১৯ বছর বয়সী হেমিংওয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন চার্স ওডোনেল। অ্যাগনেস চরিত্রে অভিনয় করেছেন স্যান্ড্রা ব্লুক। ছবির নাম ‘ইন লাভ এন্ড ওয়ার’। নিজের ওই সময়কার জীবন নিয়েই হেমিংওয়ে লিখেছিলেন তার মাস্টারপিস ‘এ ফেয়ারওয়েল টু আর্মস’। ‘ইন লাভ এন্ড ওয়ার’ অপূর্ব প্রেমের ছবি।

আর্নেস্ট মিলার হেমিংওয়ে ১৮৯৯ সালের আজকের দিনে (২১ জুলাই) আমেরিকার ইলিনয়ের ওক পার্কে জন্মগ্রহণ করেন।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *