Press "Enter" to skip to content

নারায়ণা হাসপাতাল, চুনাভাটি, ৭৬০ গ্রাম ওজনের অকালে জন্ম নেওয়া নবজাতকের প্রাণ রক্ষা করল…।

Spread the love

নিজস্ব প্রতিনিধি : হাওড়া, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬: কলকাতায় উন্নত নবজাতক চিকিৎসার এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করে, নারায়ণা হাসপাতাল, চুনাভাটির চিকিৎসকেরা মাত্র ২৭ সপ্তাহে জন্ম নেওয়া ও ৭৬০ গ্রাম ওজনের এক অকাল কন্যা শিশুর জীবন সফলভাবে রক্ষা করেছেন।
নারায়ণা হাসপাতাল, চুনাভাটিতে জন্ম নেওয়ার পরই নবজাতকটি গুরুতর শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করে এবং তাকে তৎক্ষণাৎ ভেন্টিলেশনে রাখতে হয়। এত কম ওজনের নবজাতককে সামলানো ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। ডা. অখিলেশ্বর নারায়ণ চৌধুরী, কনসালট্যান্ট – পেডিয়াট্রিক মেডিসিন-এর নেতৃত্বে নিওনেটাল দল শিশুটিকে এনআইসিইউ-তে সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখে।
চিকিৎসাকালীন সময়ে শিশুটির পেটে ফোলা ও সবুজ রঙের বমি শুরু হয়, যা একটি গুরুতর অভ্যন্তরীণ সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। পরবর্তী পরীক্ষায় অন্ত্রে বাধা ধরা পড়ে—যা বিশেষত এক কিলোগ্রামের কম ওজনের অকাল শিশুদের ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হতে পারে।
শিশুটির অবস্থা ও জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অভিভাবকদের বিস্তারিতভাবে জানানো হয়। দ্রুত একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি সার্জিক্যাল টিম গঠন করা হয়, যার নেতৃত্ব দেন ডা. গৌতম চক্রবর্তী, কনসালট্যান্ট – পেডিয়াট্রিক ও নিওনেটাল সার্জারি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডা. রশ্মি শাহী (সিনিয়র কনসালট্যান্ট – অ্যানেস্থেসিয়োলজি) ও ডা. রুচি (কনসালট্যান্ট – অ্যানেস্থেসিয়া)। মাত্র ৭৬০ গ্রাম ওজনের এতটাই নাজুক নবজাতকের অস্ত্রোপচারের জন্য বিশেষ যন্ত্রপাতি ও চরম সতর্কতার প্রয়োজন হয়।
সফল অস্ত্রোপচারের পরও শিশুটিকে সেপসিস, শ্বাসকষ্ট, কম প্রোটিনের মাত্রা ও চোখ সংক্রান্ত জটিলতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়। পুরো সময়জুড়ে নিওনেটাল টিম সতর্ক নজর রাখে। দৃষ্টিশক্তি সংক্রান্ত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে ডা. প্রেমাঞ্জন ভট্টাচার্য, কনসালট্যান্ট – চক্ষুবিদ্যা, সময়মতো বিশেষ চোখের ইনজেকশন প্রদান করেন।
ডা. অখিলেশ্বর নারায়ণ চৌধুরী বলেন, “এত অল্প গর্ভকাল ও কম ওজনে জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও সময়মতো চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি ছোট উন্নতিই গুরুত্বপূর্ণ। এই শিশুর আরোগ্য তার লড়াকু মনোভাব এবং হাওড়ায় উপলব্ধ সমন্বিত নবজাতক চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতিফলন।”
প্রায় দুই মাস নিবিড় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের পর শিশুটির অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হয় এবং তাকে স্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ডা. গৌতম চক্রবর্তী বলেন, “৭৬০ গ্রাম ওজনের নবজাতকের অস্ত্রোপচার নবজাতক সার্জারির অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ। সঠিক পরিকল্পনা, বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন বিভাগের নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয়ের ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।”
নারায়ণা হাসপাতাল, হাওড়া ও চুনাভাটির ফ্যাসিলিটি ডিরেক্টর শ্রী তপনী ঘোষ বলেন, “এই ঘটনা প্রমাণ করে নারায়ণা হাসপাতাল, চুনাভাটির নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট কী ধরনের অত্যাধুনিক পরিষেবা দিতে সক্ষম। আধুনিক পরিকাঠামো ও অভিজ্ঞ মাল্টিডিসিপ্লিনারি দলের মাধ্যমে আমরা অত্যন্ত সংকটাপন্ন নবজাতকদের চিকিৎসা দিতে এবং কঠিন সময়ে পরিবারগুলোর পাশে থাকতে পারি।”

More from HealthMore posts in Health »
More from InternationalMore posts in International »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Mission News Theme by Compete Themes.