Press "Enter" to skip to content

ব্যান্ডেল রাজহাটে লাহিড়ী বাবার অসাধারণ মন্দির….।

Spread the love

ডাঃ দীপালোক বন্দ্যোপাধ্যায় : কলকাতা, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬।  ব্যান্ডেল জংশন স্টেশন থেকে টোটো করে কিংবা রাজ্য সড়ক -১৩ ধরে ব্যান্ডেল – পান্ডুয়া রোডের ক্রশিং এ রাজহাটে নেমে খুব সহজে ঘুরে আসা যায়
শান্ত , শীতল , সুন্দর ” লাহিড়ী বাবার মন্দির ” ৷ “আধারালয় ” মন্দিরের স্থাপত্যে মানব দেহে যোগের প্রভাব দেখিয়ে করা ৷ এখানে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই স্বাগত ৷ হিন্দু ধর্ম শুধু নয় বৌদ্ধ , খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্মকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ৷ মন্দির খোলা থাকার সময় সকাল ১০-১২ টা এবং বিকাল ৪-৬ টা ৷ থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাও হয়েছে ৷ আম্রকুঞ্জের পাশে গোলাপ সহ নানা প্রজাতির ফল মন হরণ করে ৷ ধ্যানমগ্ন শিবের মূর্তি ছাড়াও রয়েছে অনেকগুলি ছোট ছোট মন্দির ৷ গীতার স্মৃতি জাগরূক হয় ঘোড়ায় টানা রথে পার্থ সারথী দেখে ৷ কাঁধ দিয়ে বেহারারা দুর্গা মাকে নিয়ে যাচ্ছেন ৷ মা জগদ্ধাত্রী , বুদ্ধদেব সহ অনেক মূর্তি ৷ মূল মন্দিরের প্রবেশ পথের জলাশয়ে পা ভিজিয়ে গালিচা বিছানো পথে প্রবেশ করুন অসামান্য সুন্দর মন্দিরে ৷ পাঞ্জাবের স্বর্ণ মন্দিরকে মনে করায় ৷ ভিতরে ছবি তোলায় মানা ৷ মেয়েদের মাথা ঢেকে ঢুকতে হয় ৷
লাহিড়ীবাবা হলেন ভারত বিখ্যাত সাধক
” শ্যামাচরণ লাহিড়ী ” ৷ যাঁর সম্বন্ধে কাশীর “চলন্ত
বিশ্বনাথ ” তৈলঙ্গ স্বামী বলেছিলেন ” সাধন পথে
উন্নতির জন্য সাধককে নেঙটি পর্যন্ত ছাড়তে হয়৷
আর এই ব্যক্তি গৃহী হয়েও সাধন মার্গের সবোর্চ্চ সেই স্তরে উঠেছেন ৷ নদীয়ার কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণীতে
জলঙ্গী নদীর ধারে গৌরমোহন লাহিড়ী সরকার ও
মুক্তকেশী দেবীর এই পুত্রের জন্ম ৷ ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দের ৩১ সেপ্টেম্বর বা বাংলার ১৬ আশ্বিন
১২৩৫-এ ৷ বণ্যায় ভূসম্পত্তি হারানোয় এই পরিবার
কাশীবাসী হন ৷ তৎকালীন যুক্তপ্রদেশে ( উত্তর প্রদেশে) শ্যামাচরণ কেরানীর চাকরী করেন ৷ দেবনারায়ণ বাচস্পতির কাছে সংস্কৃত ও ধর্ম শাস্ত্র শিক্ষা নেন ৷ পরে তাঁর মেয়ের সঙ্গে শ্যামার বিয়ে দেন ৷ রাণীক্ষেতের কাছে গগাস নদীর তীরে অশ্বথ্থমা মন্দিরের কাছে দুনাগিরি গুহায় অকস্মাৎ এক বাবাজী মহারাজের দর্শন পান ৷
তাঁর কাছে দীক্ষা নেন ৷ গুরুদেব তাঁকে বলেন সংসারে থেকে ক্রিয়াযোগ প্রচার করতে ৷ সাধন পথে বহু অলৌকিক কাজের জন্য অনেকে লাহিড়ী
বাবা বা পাগলা বাবা বলতে থাকেন ৷ নিজের মেয়ের মৃত্যুতেও অবিচল যোগী ভক্তদের কাছে
ভগবদগীতার ব্যাখ্যা করে গেছেন ৷ ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দের ২৬ সেপ্টেম্বর ( ১০ আশ্বিন ১৩০২) মহাষ্টমীর সন্ধিক্ষণে যোগারূঢ় অবস্থায় তিনি দেহত্যাগ করেন ৷ তাঁর যোগ সাধনা পরে অনেকে সারা
বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছেন ৷ যেমন প্রিয় শিষ্য পরমহংস যোগানন্দ ( মুকুন্দলাল ঘোষ) ৷ তাঁর
দাদা বিষ্ণুচরণ ঘোষ প্রমুখ উল্লেখযোগ্য ৷তাঁর
মন্দিরে গিয়ে তাঁকে প্রণাম জানিয়ে শান্তি খুঁজে পেলাম ৷ জয়তু লাহিড়ী বাবা ৷

More from CultureMore posts in Culture »
More from InternationalMore posts in International »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Mission News Theme by Compete Themes.