স্মরণঃ অ নু প কু মা র
বাবলু ভট্টাচার্য : ‘আমার মনে হচ্ছে শিল্পী হিসেবে আমি মরে যাচ্ছি, মাথার উপরে দু’হাত পরিমাণ জল, নিঃশ্বাস নিতে পারছি না, বেরুতে চাইছি বদ্ধ জায়গা থেকে, কিন্তু কাউকে তা বলতে পারছি না…।’
এমনই একটা বদ্ধ অবস্থা থেকে ‘পলাতক’ হয়ে মুক্তি পেয়েছিলেন অনুপকুমার। সেটা হয়েছিল তরুণ মজুমদারের হাতে।
ছোট রোল নয়, রীতিমতো নায়ক। তরুণ মজুমদারের ‘পলাতক’ ছবিতে। কিন্তু কলকাতার প্রযোজকেরা বেঁকে বসলেন। অনুপকুমার নায়ক! ছবি চলবে না। শেষে শান্তারাম সাহস করে এগিয়ে আসেন। সেই ছবিতেই, অনুপকুমারের নিজেরই কথায়— ‘আমার একটা উত্তরণ হয়, একজন নতুন অনুপকুমার তৈরি হয়।’ সেটা ১৯৬৩ সাল।
তারও পঁচিশ বছর আগে ১৯৩৮ সাল নাগাদ অভিনয় জীবনের শুরু তাঁর। ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় ওরফে ডিজি-র ‘হালবাংলা’ ছবিতেই প্রথম অভিনয়।
সেই সময় অনুপকুমারকে পেশাদার থিয়েটারে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর বাবা, সে কালের নামকরা গায়ক-অভিনেতা ধীরেন দাস।
পেশাদার মঞ্চে অভিনয়ের শিক্ষাটা একটা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল শিশিরকুমার ভাদুড়ীর কাছে, শ্রীরঙ্গমে।
তরুণ মজুমদারের সঙ্গে কুড়িটা ছবি, দিলীপ রায়ের ‘অমৃতকুম্ভের সন্ধানে’ অন্য অনুপকুমারকে বার বার দেখা গেলেও শিল্পী হিসেবে মরে যাওয়ার সেই অতৃপ্তির কাঁটাটা ছিলই।
অনুপ কুমার ১৯৬৪ সালে ‘পলাতক’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য বিএফজে-এর কাছ থেকে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মান পান। ১৯৮৮ সালে স্টার থিয়েটারের তরফ থেকে অভিনয়ের জন্য রৌপ্য পদক পান। ১৯৮৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ নাট্য একাডেমি পুরস্কার জেতেন। ১৯৯১ সালে জেতেন শিরোমণি পুরস্কার। ১৯৯৭ সালে যাত্রা জগতে শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার জিতে নেন। ১৯৯৭ সালে অভিনয় জীবনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুপ কুমারকে সংবর্ধনা দেয় বিএফজে।
১৯৮৬ সালে পরিণয় সুত্রে আবদ্ধ হন অভিনেত্রী অলকা গাঙ্গুলীর সাথে। ১৯৯৮ সালে ফেলুদা সিরিয়ালে জটায়ু রবি ঘোষের প্রয়াণের পর জটায়ুর ভূমিকায় অভিনয় করেন অনুপ কুমার।
নিজেই লিখছেন— ‘আমার কাছে তখন অর্থ উপার্জনটা বিশেষ প্রয়োজনীয় ব্যাপার ছিল। অনেক খরচের দায়িত্ব আমার ওপরে এসে পড়েছিল। কাজেই সিলেক্টেড ছবি করার সুযোগ আমার জীবনে কখনো আসেনি। যদি নিজের ইচ্ছেমতো ছবিতে কাজ করতে পারতাম, তাহলে আমার আজকের পরিচয়টা অন্য এক মাত্রা পেত।’
অনুপ কুমার ১৯৯৮ সালের আজকের দিনে (৩ সেপ্টেম্বর) কলকাতায় পরলোকগমন করেন।
























Be First to Comment