Press "Enter" to skip to content

শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ গুরুপদে বরণ করেছিলেন এক নারীকেই। সেই নারীকে তিনি দেখেছিলেন মা আনন্দময়ীর রূপে…..।

Spread the love

প্রিয়রঞ্জন কাঁড়ার : কলকাতা, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। শ্রীশ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের পূণ্য জন্মতিথিতে সশ্রদ্ধ প্রণতি।
প্রতি বছর শ্রীরামকৃষ্ণদেবের জন্মতিথি উপলক্ষে আয়োজিত নগর সংকীর্তনগুলিতে এই গানটি অবশ্যম্ভাবী শুনতে পাবেন, “এসেছে নূতন মানুষ দেখবি যদি আয় চলে।” স্বভাবতই প্রশ্ন উঠবে, ঠাকুর কেন “নূতন” মানুষ? এই প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের দুটি ছত্র স্মরণীয়,
“বহু সাধকের বহু সাধনার ধারা,
ধেয়ানে তোমার মিলিত হয়েছে তারা।”
স্বামী বিবেকানন্দ এক চিঠিতে গুরুভাই স্বামী রামকৃষ্ণানন্দকে লিখেছিলেন, “He (Sri Ramakrishna) was the embodiment of all past religious thoughts of India. His life alone made me understand what the Shastras really meant, and the whole plan and scope of the old Shastras.”
ঠাকুর সেই “অচিনে গাছ”, যাঁর কাছে নতজানু হয়ে মহাকবি গিরিশচন্দ্র ঘোষ করজোড়ে বলেছিলেন, “বাল্মিকী, ব্যাস যাঁর কথা বলে অন্ত করতে পারেননি, আমি তাঁর সম্বন্ধে বেশি আর কী বলতে পারি?”
যে সাধকের কাছে সমন্বয়ই ছিল শেষ কথা, যাঁর দ্বারা কখনও কোনও ভক্তের অনাদর বা প্রত্যাখ্যান হয়নি, সেই সত্যস্বরূপ, প্রেমমূর্তি, আনন্দময় পুরুষ, পরমভাগবত শ্রীরামকৃষ্ণের মধ্যে শ্রীরামচন্দ্রের সত্যবাদিতা, শ্রীকৃষ্ণের সমন্বয় বার্তা, শ্রীশঙ্করের বিচারশক্তি, শ্রীচৈতন্যদেবের প্রেমভক্তিরস, শ্রীবুদ্ধের হৃদয়, শ্রীযীশুর করুণা সকল গুণ ও ভাবের পূর্ণ বিকাশ দেখা যায়৷
অন্যান্য অবতার বা ধর্মাচার্যের জীবনে নারী জাতিকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু শ্রীরামকৃষ্ণ গুরুপদে বরণ করেছিলেন এক নারীকেই। নারীকে তিনি দেখেছিলেন মা আনন্দময়ীর রূপে। “যত মত, তত পথ” ভাবের প্রবক্তা ঠাকুরের বিনয়ভাব ও আত্মভাব বা বিশ্বাসকে সশ্রদ্ধ স্মরণ ও অনুসরণ করার শপথ রইলো আজকের দিনে।

More from CultureMore posts in Culture »
More from InternationalMore posts in International »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Mission News Theme by Compete Themes.