জন্মদিনে স্মরণঃ ভি ক্ট র হু গো
বাবলু ভট্টাচার্য : ইংরেজ মহাকবি শেকসপিয়রের সঙ্গে পৃথিবীর আর যে চারজন লেখকের তুলনা চলে ভিক্টর হুগো তাদের মধ্যে অন্যতম। বাকি দুজনও ইউরোপের। জার্মান লেখক গ্যেটে ও রুশ লেখক লিও তলস্তয়।
ভিক্টর হুগোকে ঊনিশ শতকের সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী রোমান্টিক লেখকদের একজন বলা হয়ে থাকে। প্রেম, মানবিকতা ও সুক্ষ্ম হিউমার তাঁর রচনার বৈশিষ্ট্য। তাঁর সৃষ্টিকর্মের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হল— ‘লা মিজারেবল’ ও ‘হাঞ্চব্যাক অভ নটরডেম’।
যোসেফ লিওপল্ড সিগিসবার্ট হুগো ও সোফি ট্রেবাচেট দম্পতির সন্তান ভিক্টর। বাবার চাকরির সুবাদে শৈশব কাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, যা পরবর্তী সময়ে তাঁর সাহিত্যে ফুটে ওঠে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার ছাপও পাওয়া যায়।
রোমান্টিসিজম সাহিত্যিক ধারার অগ্রপথিক চ্যাটুব্রায়েন্ডের বিশেষ প্রভাব পড়েছিল ভিক্টরের লেখনিতে। তাঁর প্রথম জীবনের ব্রত ছিল চ্যাটুব্রায়েন্ডের মতো লেখালেখির দক্ষতা অর্জন করা।
রিপাবলিকানিজমের সমর্থক হিসেবে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি এবং একই কারণে নির্বাসনেও যেতে হয়। সংসদ সদস্য হয়েছেন একাধিকবার।
অন্যদিকে ধর্মবিশ্বাস নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত ছিলেন সারা জীবন। শেষদিকে নিজেকে পরিচয় দিতেন মুক্ত চিন্তাশীল হিসেবে। সঙ্গীতের বিভিন্ন শাখায় ছিল তাঁর অপূর্ব দক্ষতা। সঙ্গীত নিয়ে তাঁর বেশ কিছু গুরুত্বপূ্র্ণ লেখা রয়েছে। চিত্রকর ও চিত্র সমালোচক হিসেবেও ছিলেন সমান পারদর্শী।
‘ওডেস এট পয়েসেস ডাইভারসেস’ নামে তাঁর প্রথম কবিতা সঙ্কলন প্রকাশিত হয় ১৮২২। এ গ্রন্থের জন্য রাজা অষ্টাদশ লুইয়ের ভাতা লাভ করেন। ১৮২৩ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম উপন্যাস ‘দ্য হ্যান্ড আইল্যান্ড’।
১৮২৯ থেকে ১৮৪০ সালের মধ্যেই তার পাঁচটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এদের মাঝে ‘লা অরিয়েন্টালিস’ ও ‘লা ভক্স ইন্টেরিয়রস’ তৎকালীন ইউরোপের কাব্য জগতে আলোড়ন তোলে। ১৮২৬ সালে প্রকাশিত হয় ‘ওড টু ব্যালাডস’ নামের কাব্যগ্রন্থ।
১৮২৯ সালে রচনা করেন উপন্যাস ‘দ্য লাস্ট ডে অব এ কন্ডেমড ম্যান’। ১৮৩০সালে লেখেন সাড়া জাগানো উপন্যাস ‘হাঞ্চব্যাক অব নটরডেম’। এরপর লেখেন বিশ্ব সাহিত্যের অন্যতম ক্ল্যাসিক উপন্যাস ‘লা মিজারেবল’ (১৮৬২)।
অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘টয়লার্স অব দ্য সি’ ও ‘দ্য ম্যান হু লাফস’। এ ছাড়া রাই ব্লাস, হারমানি, ক্রমওয়েল ও নেপোলিয়ন লা পেতিতসহ আরও কিছু কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। সাহিত্য সমালোচনা নিয়ে লিখেছেন ‘ফিলোসফি অব লিটারেচার’।
১৮৮৫ সালের ২২ মে শ্রমিকের মলিন পোশাকে প্যারিসের ফুটপাথ ধরে হেঁটে চলেছেন হুগো। একটি মেয়ে তাঁকে দেখে দৌঁড়ে কাছে এসে বলল— কী আশ্চর্য! তোমাকে তো দেখতে একদম ভিক্টর হুগোর মতো লাগছে। আমি তো ভেবেছিলাম কোন কালে মরে গেছেন তিনি। মেয়েটির কথা শুনে ভয়ে কেঁপে উঠলেন হুগো। তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে এলেন। সেদিন রাতেই মৃত্যু হলো ভিক্টর হুগোর।
ভিক্টর হুগো ১৮০২ সালের (২৬ ফেব্রুয়ারি) ফ্রান্সের বেসানকনে জন্মগ্রহণ করেন।






















Be First to Comment