Press "Enter" to skip to content

গুডস শেড শ্রমিকদের দাবিতে দেশজুড়ে ডিআরএম অফিসে ডেপুটেশন….।

Spread the love

নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬।গুডস শেডে কর্মরত শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ঘিরে বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে বিভিন্ন ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) দফতরে ডেপুটেশন জমা দিল ভারতীয় রেল মাল গুদাম শ্রমিক ইউনিয়ন (বিআরএমজিএসইউ)।

শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার, আইনসম্মত মজুরি, সামাজিক সুরক্ষা এবং ই-শ্রম সচেতনতা কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়।

ইউনিয়নের দাবি, ভারতীয় রেলের গুডস শেড এলাকায় কর্মরত শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরেই প্রয়োজনীয় ন্যূনতম পরিকাঠামো থেকে বঞ্চিত।

পরিষ্কার পানীয় জল, পর্যাপ্ত শৌচাগার, মহিলাদের জন্য আলাদা শৌচাগার, শ্রমিকদের বিশ্রামাগার, মহিলাদের জন্য পৃথক বিশ্রামাগার এবং স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ— এসবই এখনও বহু জায়গায় নেই। অথচ পেশাগত সুরক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মপরিবেশ সংক্রান্ত আইন, ২০২০ অনুযায়ী এই সুবিধাগুলি বাধ্যতামূলক বলে ইউনিয়নের বক্তব্য।

এছাড়া মজুরি সংক্রান্ত আইন, ২০১৯ কঠোরভাবে কার্যকর করার দাবিও জানানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট মজুরি প্রদান, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র দেওয়া এবং ইপিএফ ও ইএসআই সুবিধা চালুর দাবি তোলে সংগঠনটি। ইউনিয়নের অভিযোগ, বহু শ্রমিক এখনও এই আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত।

সংগঠনের আরও অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ ই-শ্রম নথিভুক্তিকরণ ও সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত সচেতনতা কর্মসূচিতে বিভিন্ন জায়গায় বাধা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রেল সুরক্ষা বাহিনীর কিছু কর্মী অপ্রয়োজনীয়ভাবে হস্তক্ষেপ করেন, ঠিকাদারপন্থী দুষ্কৃতীরা হুমকি দেয় এবং মহিলা সংগঠকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়। ইউনিয়নের দাবি, এ ধরনের ঘটনা ট্রেড ইউনিয়ন আইন, ১৯২৬-এ সুরক্ষিত বৈধ ট্রেড ইউনিয়ন কার্যকলাপে বাধা সৃষ্টি করে এবং শিল্পক্ষেত্রে অশান্তি বাড়ায়।

দেশব্যাপী এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে একাধিক রেল ডিভিশনে ডেপুটেশন জমা পড়ে। শিয়ালদহ ডিভিশনে সঞ্জীব হালদার ও সম্বিক নিয়োগী, হাওড়া ডিভিশনে সঞ্জয় মিত্র ও প্রিয়তোষ হাজরা ডেপুটেশন জমা দেন। আসানসোল ডিভিশনে নেতৃত্ব দেন নিরুপমা চক্রবর্তী এবং মালদায় ইনসান শেখ।

খড়্গপুর ডিভিশনে অংশ নেন সুমন ঘোষ ও সিদ্ধার্থ, আর আদ্রায় নেতৃত্ব দেন জয়ন্ত হালদার ও সামন্ত কুমার মাহাতো।

চক্রধরপুরে ডেপুটেশন জমা দেন হারাধন কৈবর্ত ও প্রবীর মাহাতো, রাঁচিতে নেতৃত্ব দেন শান্তিময় মুখোপাধ্যায়।

রায়পুরে এস. পি. রানা, সম্বলপুরে পঙ্কজ প্রধান, খুরদা রোডে ভাস্কর মুদুলি, যোধপুরে চন্দন মাঝি, আজমেরে প্রহ্লাদ রাম,আলিপুরদুয়ারে চিরঞ্জিত দেবনাথ এবং ধানবাদে রাজা রজনীশ কুমার বর্মা ডেপুটেশন জমা দেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন ডিআরএম দফতরেও, দিল্লি সহ, এই কর্মসূচি পালিত হয়।

ইউনিয়নের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে— গুডস শেডে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় কল্যাণমূলক পরিকাঠামো নিশ্চিত করতে লিখিত নির্দেশ, ই-শ্রম ও সচেতনতা কর্মসূচিতে নিরাপত্তা ও বাধাহীন পরিবেশের নিশ্চয়তা,রেল সুরক্ষা বাহিনীকে নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ, ঠিকাদারপন্থী দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং সাত দিনের মধ্যে ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক।

ইউনিয়নের সভাপতি পরিমল কান্তি মণ্ডল বলেন, প্রশাসনের বিরুদ্ধে নয়, শ্রমিকদের মর্যাদা, আইন মানা এবং শিল্পক্ষেত্রে সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করাই তাঁদের লক্ষ্য। দ্রুত সুরাহা না হলে সংবিধান ও আইনের পথে এগোতে বাধ্য হবেন বলেও তিনি জানান।

এই বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছে

More from GeneralMore posts in General »
More from InternationalMore posts in International »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Mission News Theme by Compete Themes.