নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা ১৯ ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬: এক বিদ্যুতায়িত সিনেমার সন্ধ্যা কলকাতার দর্শকদের স্মরণীয় হয়ে রইল। শহরের অ্যাক্রোপলিস মল-এর সিনেপলিস মাল্টিপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হলো ‘অ্যাসি’ সিনেমার প্রিমিয়ার, যেখানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী তাপসী পান্নু, প্রসিদ্ধ অভিনেত্রী কানি কুসরুতি, এবং পরিচালক অনুভব সিনহা। তাঁদের উপস্থিতি সন্ধ্যার আবহকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছিল।
পূর্ণ দর্শকাসন প্রমাণ করল, কলকাতার দর্শকরা এখনও প্রভাবশালী গল্প ও অর্থবহ সিনেমার প্রতি কতটা আগ্রহী। ছবির টানটান কোর্টরুম দৃশ্যগুলো দর্শকদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আসনের কিনারায় ধরে রাখে। ‘অ্যাসি’— যার অর্থ আশি— ধীরে ধীরে নিজের তাৎপর্য উদ্ভাসিত করে; এটি দেশে দৈনিক নথিভুক্ত হওয়া ধর্ষণের সংখ্যার প্রতি সরাসরি ইঙ্গিত দেয়। গল্পের বুননে অনায়াসে মিশে থাকা এই কঠোর পরিসংখ্যান ছবিটিকে এক গভীর জরুরি বার্তা দেয়, যা দর্শকদের মনকে প্রবলভাবে নাড়িয়ে দেয়।
অভিনয় ছিল ছবির অন্যতম শক্তি। আবেগের গভীরতা, বাস্তবতার স্পর্শ এবং তীব্রতা— সব মিলিয়ে এটি শুধুমাত্র একটি আইনি নাটক নয়, বরং শক্তিশালী সামাজিক বক্তব্যেও পরিণত হয়েছে।
প্রদর্শনী শেষ হতেই কয়েক মুহূর্ত নীরবতা, তারপর বাজলো করতালির বজ্রধ্বনি। বহু দর্শক দাঁড়িয়ে ছবিটিকে “ফাটাফাটি”, “সাহসী” এবং “অবশ্যই দেখার মতো” হিসেবে অভিহিত করেন। প্রেক্ষাগৃহের বাইরে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলতে থাকে আলোচনাও।
কলকাতার এই প্রিমিয়ার একবার আরও প্রমাণ করল— অর্থবহ সিনেমা এবং সচেতন দর্শকের মিলনে প্রতিক্রিয়া শুধুমাত্র করতালিতে সীমাবদ্ধ থাকে না; জন্ম নেয় সচেতনতা, সংলাপ এবং সমাজের প্রতি গভীর প্রভাব।















Be First to Comment