Press "Enter" to skip to content

আমি এপার বাংলার মনীষীদের নিয়েই আনন্দিত ও গর্বিত…।

Spread the love

প্রিয়রঞ্জন কাঁড়ার : কলকাতা, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। যে দেশের আমজনতার সিংহভাগের সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত কেটে যায় অকারণ ও হাস্যকর ভারত বিদ্বেষে, তাদের দেশের একটি গণ-আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের উৎসাহটা আমরা ভিতর থেকে হারিয়ে ফেলেছি। আমরা যতই ভাইচারা দেখাতে চাই না কেন, বিনিময়ে উল্টো দিক থেকে বিষবাষ্প প্রাপ্তির পরম্পরা আগেও ছিল, আছে, থাকবে। ইদানীং আরও একটা বিষয় মাথার মধ্যে কিলবিল করে। ওপার বাংলার ভাষা আন্দোলন কি শুধুই মাতৃভাষার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার টানে হয়েছিল? আমার সেটা মনে হয় না। চাকরির বাজার, অর্থনীতি, অস্তিত্ব সংকট এমন অনেক আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক জটিল ইস্যু ওই আন্দোলনের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ছিল। সেসব চুলোয় যাক, রোজ কাঁচা খিস্তি খেয়ে একুশে চুমু খাওয়া যায় না। আর ভাষা হোক বা অন্য যা কিছু হোক, ব্যাবসা বুদ্ধিতে কিন্তু ওপার বাংলার মানুষ হেব্বি সেয়ানা। কয়েক বছর আগে পর্যন্ত কলকাতা বইমেলায় আলাদা বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ থাকতো। এর বাইরেও প্রতি বছর প্রথম দিকে মোহরকুঞ্জে এবং পরবর্তী কালে কলেজ স্কোয়ারে স্বতন্ত্র বাংলাদেশ বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিনিময়ে কখনও বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত কোনও বইমেলায় পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের প্রকাশনা সংস্থাগুলোর জন্যে দ্বার উন্মুক্ত করা হয়নি। রফিক, জব্বার, শফিউর, সালাম, বরকতদের প্রতি পূর্ণ ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা জানিয়েই বলছি, সব সেলিব্রেশন সবার জন্য নয়। আমি এপার বাংলার মনীষীদের নিয়েই আনন্দিত ও গর্বিত (দয়া করে আবার কেউ আমাকে “বাংলা পক্ষ” ভাববেন না, ওটাও আমার কাছে অচ্ছুত)। তাই আজকের দিনে এই ছবিটাই থাকুক।

More from CultureMore posts in Culture »
More from InternationalMore posts in International »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Mission News Theme by Compete Themes.