Press "Enter" to skip to content

১৯৫৩ সালে ‘জীবন জ্যোতি’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে রূপালি পর্দায় আবির্ভাব ঘটে শাম্মী কাপুরের। দর্শকরা তাকে ভারতের ‘এলভিস প্রিসলি’ বলে আখ্যায়িত করে…….।

জন্মদিনে স্মরণঃ শাম্মী কাপুর

বাবলু ভট্টাচার্য : বলিউডে যখন রাজকাপুর, দেবানন্দ ও দিলীপ কুমারের জয়জয়কার ১৯৫৩ সালে ‘জীবন জ্যোতি’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে রূপালি পর্দায় আবির্ভাব ঘটে শাম্মী কাপুরের। ‘জংলি’, ‘চায়না টাউন’, ‘কাশ্মির কি কলি’, ‘ব্রহ্মচারী’, ‘এন ইভিনিং ইন প্যারিস’— এসব চলচ্চিত্রে অভিনয় ও অনবদ্য নাচের জন্য দর্শকরা তাকে ভারতের ‘এলভিস প্রিসলি’ বলে আখ্যায়িত করে। ১৯৬১ সালে ‘জংলি’ ছবিতে ‘ইয়াহু, চাহে কোই মুঝে জংলি কহে’, ১৯৬৪ সালে নির্মিত ‘কাশ্মির কি কলি’ ছবিতে ‘তারিফ করু ক্যায়া উসকি’ শাম্মী কাপুরের ঠোঁট মিলানো গানগুলো তখনকার যুবসমাজের মুখে জপমন্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শাম্মী কাপুরের ডাক নাম ছিল শ্যামশের রাজ কাপুর। তার পিতা পৃথ্বীরাজ কাপুর ছিলেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র তারকা এবং থিয়েটারের অভিনেতা। তিন ভাইয়ের মধ্যে শাম্মীর অবস্থান ছিল মেঝ। বড় ভাই রাজ কাপুর ও ছোট ভাই শশী কাপুর। প্রত্যেক ভাই-ই তাদের বাবার মতো বলিউডে সফলতম অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন।

বাবা চলচ্চিত্র ও থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত থাকায় শাম্মী কাপুর শৈশবের অনেকখানি সময়ই অতিবাহিত করেন কলকাতায়। সেখানে তিনি কিণ্ডারগার্টেনে ভর্তি হন। মুম্বাইয়ে ফিরে প্রথমে ওয়াদালা’র সেন্ট জোসেফ কনভেন্ট এবং পরে মাতুঙ্গা’র ডন বসকো বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৪৮ সালে শাম্মী কাপুর সিনেমা জগতে প্রবেশ করেন। মাসিক ১৫০ রূপী বেতনে পৃথ্বী থিয়েটারে পরবর্তী চার বছরকাল ছিলেন। ১৯৫২ সালে থিয়েটার থেকে শেষ বেতন উত্তোলন করেন ৩০০ ভারতীয় রূপি। গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রূপালী জগৎ শুরু করলেও নাসির হুসাইনের পরিচালনায় ‘তুমসা নাহি দেখা’ (৫৭) ও ‘দিল ডেকে দেখো’ (৫৯)-এর মাধ্যমে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন শাম্মী। ছবি দু’টোয় তার বিপরীতে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন যথাক্রমে অমিতা এবং আশা পারেখ। উষ্ণ হৃদয়, নজরকাড়া আকর্ষণ, লম্বা, প্রাণবন্ত, নীলাভ আঁখি, আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে তিনি ছিলেন সকলের হৃদয়ের মণি। এবং তার সুন্দর দৃষ্টিভংগী ও শারীরিক অঙ্গভঙ্গীও এ বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী।

‘জংলী’ (৬১) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত হন এবং তার পরবর্তী চলচ্চিত্রগুলোও একই ধাঁচে তৈরি হয়। সচরাচর শাম্মী কাপুর নেপথ্য গায়ক হিসেবে হিন্দী সংগীত ভুবনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ রফিকেই বেশি পছন্দ করতেন। প্রতিষ্ঠিত নায়িকাদের সাথে তিনি খুব কমই দ্বিতীয়বারের মতো অভিনয় করতেন। তেমনই একজন হচ্ছেন মধুবালা। তাঁর সাথে তিনি ‘রেল কি ডিব্বা’ (৫৩) ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। শাম্মী কাপুর ১৯৫৫ সালে গীতা বালী’র সাথে ‘রঙ্গীন রাতে’ ছবির মাধ্যমে পরিচিত হন। তখন তিনি ছিলেন শীর্ষস্থানীয় অভিনেতা এবং সহ-নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন গীতা। ঘটনাচক্রে তারা একে-অপরকে ভালবেসে ফেলেন। চার মাস পর মুম্বাইয়ের ন্যাপিয়েন সী রোডের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত বাঙ্গানা মন্দিরে শাম্মী-গীতা’র বিয়ে হয়।

শাম্মী কাপুর ১৪ আগস্ট, ২০১১ তারিখে ভারতীয় সময় সকাল ৫:১৫ ঘটিকায় ধরাধাম ত্যাগ করেন।

শাম্মী কাপুর ১৯৩১ সালের আজকের দিনে (২১ অক্টোবর) মুম্বাইতে জন্মগ্রহণ করেন।

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.