Press "Enter" to skip to content

হিন্দি সিনেমায় গানের পাশাপাশি নন-ফিল্ম গজল, গীত, হামদ, নাত, নজরুল সঙ্গীত, ভজন ও ভারতের বিভিন্ন প্রাদেশিক ভাষার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তালাত মাহমুদ…..।

জন্মদিনে স্মরণঃ তা লা ত মা হ মু দ

বাবলু ভট্টাচার্য : ‘তোমারে লেগেছে এত যে ভালো…’ গানটির কথা নিশ্চয় মনে আছে সবার। এ গানটির জন্য বাংলাদেশে খুবই বিখ্যাত ভারতীয় কণ্ঠশিল্পী তালাত মাহমুদ।

হিন্দি সিনেমায় গানের পাশাপাশি নন-ফিল্ম গজল, গীত, হামদ, নাত, নজরুল সঙ্গীত, ভজন ও ভারতের বিভিন্ন প্রাদেশিক ভাষার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তালাত মাহমুদ। হিন্দি প্লে-ব্যাকে গজলের জনপ্রিয়তা আসে তার হাত ধরে। তাকে ‘গজল সম্রাট’ হিসেবেও ডাকা হয়।

তালাত মাহমুদ ছেলেবেলা থেকেই উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের প্রতি দুর্বল ছিলেন। অন্যদিকে শহরটি ছিল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত ও নৃত্যের পীঠস্থান। ১৯৩০ এর দশকে কিছু সময় পণ্ডিত এস সি আর ভাটের কাছে মরিস কলেজ অব মিউজিকে (বর্তমানে ভাটখান্দ মিউজিক ইউনিভার্সিটি) তালিম নেন।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে ১৯৩৯ সালে বিশুদ্ধ গজলকে পেশা হিসেবে নেন। ওই বছর লক্ষ্ণৌর অল ইন্ডিয়া রেডিওতে দাগ, জিগর ও মির বিভিন্ন ধারার গজল গেয়ে সাড়া ফেলে দেন। তখনকার বড় রেকর্ড কোম্পানি এইচএমভি তাকে চুক্তিবদ্ধ করে ও ১৯৪১ সালে ‘সব দিন এক সমান নাহি থা’ গজলটি রেকর্ড করে। এরপর কলকাতায় আসেন। ততদিন তার খ্যাতি সারা ভারতে ছড়িয়ে গেছে।

১৯৪৪ সালে তালাত ‘তাসভির তেরি দিল মেরা বেহেলা না সাকো গি’ শিরোনামের বিখ্যাত গজলে কণ্ঠ দেন, যা ছিল ভারতে সবচেয়ে বিক্রি হওয়া নন-ফিল্মি ডিস্কের মধ্যে একটি। এ সময় সুদর্শন চেহারার জন্য অভিনয়ের প্রস্তাব পান তালাত মাহমুদ।

১৯৪০ এর দশকে কলকাতা ও মুম্বাই মিলিয়ে ১৬টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এর মধ্যে কলকাতায় তিনটি ছবি বড় ধরনের সাফল্য পায়।

কলকাতায় ‘তপন কুমার’ নাম নিয়ে বেশকিছু বাংলা আধুনিক গান, চলচ্চিত্রের গান ও কয়েকটি নজরুলগীতিও রেকর্ড করেন। গানগুলো কালজয়ী গান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

১৯৪৯ সালে মুম্বাইয়ে স্থায়ী হন তালাত মাহমুদ। তখন হিন্দি ছবিতে তার জনপ্রিয়তা হয় গগনচুম্বী। বিশেষ করে অনিল বিশ্বাসের সঙ্গীত পরিচালনায় ‘আরজু’ ছবিতে গাওয়া গজল তাকে শ্রোতাদের কাছাকাছি পৌঁছে দেয়। ১৯৬০ এর দশকে গজলে পূর্ণ মনোনিবেশ করেন এবং জীবনের শেষদিন পর্যন্ত ‘গজল সম্রাট’ হিসেবে খ্যাতির শিখরে ছিলেন।

১৯৬০ সালে কিছু সময়ের জন্য ঢাকায় এসেছিলেন তালাত মাহমুদ। তখন এহতেশাম পরিচালিত ‘রাজধানীর বুকে’ ছায়াছবিতে দু’টি কালজয়ী গানে কণ্ঠদান করেন। গান দু’টি লেখেন কে জি মোস্তফা ও সঙ্গীত পরিচালনা করেন বরেণ্য শিল্পী ফেরদৌসী রহমান। পাকিস্তানের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে ঢাকায় থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা করেও পরে মত বদলে ভারতে ফিরে যান তিনি।

তিনি সর্বমোট ৪৯টি বাংলা গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য– ‘অনেক সন্ধ্যাতারা ফোটে ওই আকাশে’, ‘এই তো বেশ নদীর তীরে’, ‘ঘুমের ছায়া চাঁদের চোখে’, ‘আমার সে গান’ (রাজধানীর বুকে), ‘দুটি পাখি দুটি তীরে’, ‘তোমারে লেগেছে এত যে ভাল’ (রাজধানীর বুকে), ‘তুমি বোঝ না তো কেন’, ‘আধো রাতে যদি ঘুম ভেঙে যায়’, ‘তুমি শুধু গেছ ভুলে’, ‘টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছে’, ‘শোন গো সোনার মেয়ে’।

১৯৯২ সালে ভারত সরকার তালাত মাহমুদকে রাষ্ট্রীয় ‘পদ্মবিভূষণ’ খেতাবে ভূষিত করে।

বিশুদ্ধ বাংলা উচ্চারণ ও গভীর মেজাজের শিল্পী তালাত মাহমুদ ৯ মে ১৯৯৮ সালে, ৭৪ বছর বয়সে মুম্বাইতে মৃত্যুবরণ করেন।

তালাত মাহমুদ ১৯২৪ সালের আজকের দিনে (২৪ ফেব্রু) উত্তরপ্রদেশের লক্ষ্ণৌ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।

More from EntertainmentMore posts in Entertainment »
More from InternationalMore posts in International »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.