Press "Enter" to skip to content

সেদিনের সোনাঝরা দিনগুলি প্রফুল্ল চন্দ্র সেন—“আরামবাগের গান্ধী” ও আমার ঠাকুরদা প্রফুল্ল কুমার রায়….।

Spread the love

প্রবীর রায় : প্রযোজক, পরিচালক ও অভিনেতা। কলকাতা, ২ এপ্রিল, ২০২৬। পুরানো দিনের মানুষদের আদর্শ যে কোন পর্যায়ে যেতে পারে , তারই একটা ছোট ঘটনা এখানে বলবো ! আজকের দিনের মানুষদের কাছে এটা কল্পনারও অতীত! রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর করা অনুরোধ একজন রাখলেন না যুক্তিসঙ্গত কারণে আর মুখ্যমন্ত্রীও সেটা গ্রহণ করলেন হাসি মুখে ! ভাবুন তো আজকের কথা !

১৯৬৩ সালের কথা আমি ক্লাস টেনের ছাত্র ! তখন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল চন্দ্র সেন ! যিনি “আরামবাগের গান্ধী” বলে পরিচিত ছিলেন !
আমার ঠাকুরদা প্রফুল্ল কুমার রায় , যিনি “ফিলিপ্স এন্ড রায়” বলে বেশি পরিচিত ছিলেন ! ভারতবর্ষে ইলেট্রিক্যাল ব্যাবসার পুরোধা ! উনি তখন “Calcutta Technical School ” এরও চেয়ারম্যান ছিলেন !

একদিন দুপুরে, বোধহয় রবিবার ছিল , আমরা সবাই খেতে বসেছি ! হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো ! আমাদের ডাইনিং রুম ছিল একতলায় আর ফোন ছিল দোতালায় ! ফোন বাজলেই আমি আগে ধরার চেষ্টা করতাম, বলা যায় না,কোনো বান্ধবীর ফোনও তো হতে পারে ! দৌড়ে গিয়ে ফোন ধরলাম !
ও প্রান্ত থেকে একজন বললেন আমি প্রফুল্ল বাবুর সঙ্গে কথা বলতে পারি? বললাম উনি খেতে বসেছেন , আপনি কে বলছেন ? আবার ওনার গলা আমি প্রফুল্ল সেন বলছি, ঠিক আছে একটু পরে আবার ফোন করছি ! (এখন হলে ওনার কোনো চামচা বলতেন CM কথা বলবেন, ডেকে দিন) !

আমি বললাম না , না , আপনি ধরুন , আমি ডেকে দিচ্ছি ! প্রফুল্ল সেন মানে মুখ্যমন্ত্রী , আমি বুঝতে পেরেছিলাম ! তখন কিন্তু দশ জন আমচা চামচাকে দিয়ে ফোন করাতেন না ! নিজেই ফোন করতেন ওনারা ! সত্যজিৎ রায়েও তাই করতেন ! শোঅফ টা কম ছিল তো, কাজের দামটা ছিল বেশি !

যাইহোক , আমি দাদুকে (আমি ঠাকুরদাকে দাদু বলতাম) ডেকে দিলাম ! দাদু কথা বলে আবার এসে খেতে বসলেন ! আমার জ্যাঠা জিজ্ঞাসা করলেন , কি ব্যাপার ? দাদু বললেন , ওনার একজন ক্যান্ডিডেট আছে. ইলেট্রিক্যালে এডমিশন চায় !

জ্যাঠামশায় জিজ্ঞেস করলেন তুমি কি বললে ? দাদু বললেন , নিশ্চই পাঠিয়ে দেবেন, যদি যোগ্য হয় , এডমিশন হয় যাবে ! তখন মুখ্যমন্ত্রী বললেন , “নিশ্চয়ই , যোগ্য না হলে নেবেন কেন !! ও ফর্ম তুলতে পারছে না, তাই আপনাকে অনুরোধ করলাম !” দাদু বললেন , আপনি পাঠিয়ে দেবেন , আমি বলে দিচ্ছি যাতে ফর্ম পেয়ে যায় !

আজকের দিনে ভাবা যায় , একজন মুখ্যমন্ত্রী অনুরোধ করছেন আর একজন বলছেন কথা দিতে পারছি না , যোগ্য হলে নিশ্চয়ই এডমিশন হবে আর মুখমন্ত্রী সেটা মেনে নিচ্ছেন !

এখন হলে তো দাদুকে ফোনই করতেন না, ওনার কোনো চামচ ডাইরেক্ট স্কুলে ফোন করে বলতো CM এর ক্যান্ডিডেট, ফর্মটা দিয়ে দাও আর দেখো এডমিশনটা যেন হয় যায় ! মূল্য পেয়ে যাবে !

প্রফুল্ল চন্দ্র সেনের শেষ জীবন তো অনেকেরই জানা , চিকিৎসা করানোর টাকা ছিল না ! অথচ এনারা “সততার প্রতীক” ও না অথবা “বাংলার গর্ব” ও না ! সত্য সেলুকাস কি বিচিত্র এই দ্যাশ !!

এখানেই আজকের সঙ্গে তখনকার আদর্শ, শিক্ষা, যোগ্যতার এতো পার্থক্য! খুব আশ্চর্য লাগে যখন দেখি চারিদিকে নিম্নমেধা নিয়ে সব ছড়ি ঘুরিয়ে যাচ্ছে আর আমাদের সেটা সহ্য করতে হচ্ছে !

More from GeneralMore posts in General »
More from InternationalMore posts in International »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Mission News Theme by Compete Themes.