Press "Enter" to skip to content

শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়ের ব্যোমকেশ ছাড়াও তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে আছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপন্যাস। যেমন, ‘কালের মন্দিরা’, ‘গৌড়মল্লার’, ‘তুমি সন্ধ্যার মেঘ’, ‘তুঙ্গভদ্রার তীরে’, ‘কুমারসম্ভবের কবি’……।

জন্মদিনে স্মরণঃ শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

বাবলু ভট্টাচার্য : বন্দ্যোপাধ্যায়দের আদি নিবাস ছিল কলকাতার উত্তরে বরানগরে। বাবা তারাভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিহারের পূর্ণিয়ায় ওকালতি করতেন। সেখান থেকে তিনি মুঙ্গেরে চলে যান। সেই সুবাদে শরদিন্দুর স্কুলশিক্ষা মুঙ্গেরে। ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করার পর শরদিন্দু কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজে ভর্তি হন।

পড়াশোনার সাথে সাথে শরদিন্দু সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যেতে থাকেন। তিনি ছোট ছোট কবিতা ও গল্প লিখতে থাকেন। ১৯২৬ সালে আইন পাশ করার পর বাবার জুনিয়র হিসাবে শরদিন্দু ওকালতি শুরু করেন। কিন্তু মন পড়ে থাকে সাহিত্যচর্চায়। শেষ পর্যন্ত ১৯২৯-এ ওকালতি ছেড়ে সাহিত্যকেই জীবিকা হিসাবে গ্রহণ করেন।

তাঁর সৃষ্টি গোয়েন্দা চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সী আত্মপ্রকাশ করে ১৯৩২ সালে। রচনাকাল অনুসারে ব্যোমকেশ সিরিজের প্রথম গল্প ‘পথের কাঁটা’। তারপর ‘সীমান্তহীরা’। শরদিন্দুর নিজের কথায়— “এই দু’টি গল্প লেখার পর ব্যোমকেশকে নিয়ে একটি সিরিজ লেখার কথা মনে হয়। তখন ‘সত্যান্বেষী’ গল্পে (২৪ মাঘ ১৩৩৯ বঙ্গাব্দ) ব্যোমকেশ চরিত্রটিকে এসট্যাবলিস করি। পাঠকদের সুবিধার জন্য অবশ্য ‘সত্যান্বেষী’কেই ব্যোমকেশের প্রথম গল্প বলে ধরা হয়।”

চার বছরে ব্যোমকেশকে নিয়ে ১০টি গল্প লেখার পর শরদিন্দু আর ব্যোমকেশের কথা ভাবেননি। তার পর ১৫ বছর কেটে গেছে। দীর্ঘ বিরতির পর ‘চিত্রচোর’ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ) লেখেন। সেই থেকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ব্যোমকেশ তাঁর সঙ্গী। গল্প-উপন্যাস মিলিয়ে ব্যোমকেশ-কাহিনি মোট ৩২টি।

শরদিন্দু ১৯৩৮ সালে মুম্বইয়ের বম্বে টকিজে চিত্রনাট্যকার রূপে কাজ শুরু করেন। ১৯৫২ সালে সিনেমার কাজ ছেড়ে স্থায়ী ভাবে পুনেতে বসবাস করতে শুরু করেন। পরবর্তী ১৮ বছর তিনি সাহিত্যচর্চায় অতিবাহিত করেন।

১৯৭০ সালে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু হয়।

ব্যোমকেশ ছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে আছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপন্যাস। যেমন, ‘কালের মন্দিরা’, ‘গৌড়মল্লার’, ‘তুমি সন্ধ্যার মেঘ’, ‘তুঙ্গভদ্রার তীরে’, ‘কুমারসম্ভবের কবি’।

শরদিন্দুর ব্যোমকেশ-কাহিনি ‘চিড়িয়াখানা’ নিয়ে চলচ্চিত্র তৈরি করেন প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায়। নামভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন উত্তম কুমার। এখন আবার টলিউডে ধূম পড়েছে ব্যোমকেশ-কাহিনি নিয়ে সিনেমা তৈরি করার। শরদিন্দুর লেখা ‘ঝিন্দের বন্দি’, ‘দাদার কীর্তি’ ইত্যাদি উপন্যাস নিয়ে তৈরি সিনেমা মন জয় করেছিল বাঙালি দর্শকের।

‘তুঙ্গভদ্রার তীরে’ উপন্যাসটির জন্য শরদিন্দু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রবীন্দ্র পুরস্কার পান। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে শরৎ স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে।

২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭০ মুম্বাইয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৯ সালের আজকের দিনে (৩০ মার্চ) উত্তরপ্রদেশের জৌনপুর শহরে জন্মগ্রহণ করেন।

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.