Press "Enter" to skip to content

রবীন্দ্রনাথের গানের ঐশ্বর্য ও ভঙ্গির সঙ্গে সাধারণ বাঙালির প্রাথমিক পরিচয় যাঁর হাত ধরে তিনি পঙ্কজকুমার মল্লিক…..।

জন্মদিনে স্মরণঃ পঙ্কজ কুমার মল্লিক

বাবলু ভট্টাচার্য : রবীন্দ্রনাথের গানের ঐশ্বর্য ও ভঙ্গির সঙ্গে সাধারণ বাঙালির প্রাথমিক পরিচয় যাঁর হাত ধরে তিনি পঙ্কজকুমার মল্লিক। সাল নয়, মাস-দিনের নৈকট্যে কবির থেকে মাত্র দু’দিনের ছোট মনে করতেন নিজেকে এবং সেই সুলভ আত্মীয়তাবোধে নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করতেন।

পিতা মণিমোহন মল্লিক ও মা মনমোহিনী মল্লিক।

পঙ্কজ কুমার দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম নেন। স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে তিনি পড়াশোনা শেষ করেন।

এরপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র দ্বিপেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুত্র দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে তার আলাপ হয়। এর ফলে তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রতি আকৃষ্ট হন। পরে রবীন্দ্রনাথের স্নেহের পাত্রে পরিণত হন। অল্পকালের মধ্যেই পঙ্কজ কুমার রবীন্দ্রসঙ্গীতের এক অগ্রণী শিল্পীর খ্যাতি অর্জন করেন।

১৯২৬ সালে মাত্র একুশ বছর বয়সে তিনি “নেমেছে আজ প্রথম বাদল” গানটি ভিয়েলোফোন কোম্পানি থেকে রেকর্ড করেন।

১৯৩২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে “প্রলয়নাচন নাচলে যখন” ও “তোমার আসন শূন্য আজি”– তার প্রথম রবীন্দ্রসঙ্গীতের রেকর্ড।

রবীন্দ্রসঙ্গীতকে জনপ্রিয় করে তোলার কাজেও পঙ্কজ মল্লিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি রবীন্দ্রনাথের “খেয়া” কাব্যগ্রন্থের শেষ খেয়া কবিতাটিতে (‘দিনের শেষে ঘুমের দেশে’) সুর সংযোজন করে গেয়েছিলেন।

১৯২৭ সাল থেকে তিনি কলকাতার ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনে কাজ শুরু করেন। এই সংস্থা পরে অল ইন্ডিয়া রেডিও (এআইআর, বর্তমানে আকাশবাণী কলকাতা) নামে পরিচিত হয়। এখানে তার সহকর্মী ছিলেন রাইচাঁদ বড়াল। প্রায় পঞ্চাশ বছর তিনি আকাশবাণীতে সঙ্গীতশিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন।

১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ ৩৮ বছর পঙ্কজ কুমার বাংলা, হিন্দি, উর্দু ও তামিল চলচ্চিত্রে অবদান রাখেন। তিনি কুন্দন লাল সায়গল, শচীনদেব বর্মণ, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, গীতা দত্ত, আশা ভোঁসলে প্রমুখ সঙ্গীত পরিচালক ও শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন।

চলচ্চিত্রে তিনি কুন্দন লাল সায়গল, প্রমথেশ বড়ুয়া ও কানন দেবীর মতো শিল্পীদের সঙ্গে অভিনয়ও করেন। নীতীন বসু ও রাইচাঁদ বড়ালের সঙ্গে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রে নেপথ্য কণ্ঠসংগীতের প্রবর্তন করেছিলেন।

ভারতের প্রথম যুগের ফিল্ম স্টুডিও নিউ থিয়েটার্সের সঙ্গে তিনি ২৫ বছর যুক্ত ছিলেন। এর পরে বেতারের পক্ষ থেকে ১৯৩২-এ এক ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হল ‘মহিষাসুরমর্দিনী’– যার সুরস্রষ্ঠা হিসেবে যতদিন বাঙালি থাকবে ততদিন পঙ্কজ মল্লিকের নাম এক সঙ্গে উচ্চারিত হবে।

পঙ্কজকুমারের পুরস্কারপ্রাপ্তি সারস্বত মহামণ্ডলের ‘সুরসাগর’ (১৯৩২), ‘ডাক্তার’ ছবির সুবাদে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে বিএফজেএ (১৯৪২), সংগীত রত্নাকর (১৯৬৪), পদ্মশ্রী (১৯৭০) ও দাদাসাহেব ফালকে (১৯৭৩) লাভ করেন।

১৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৮ পঙ্কজ মল্লিক কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

পঙ্কজ কুমার মল্লিক ১৯০৫ সালের আজকের দিনে (১০ মে) উত্তর কলকাতার মানিকতলায় জন্মগ্রহণ করেন।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.