Press "Enter" to skip to content

মঙ্গলকোটের আধিকারিকের  বিরুদ্ধে  কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার কে অভিযোগ………। 

 

 

মোল্লা জসিমউদ্দিন, ১৭, এপ্রিল ২০২১। গত তিনমাসে দু দুবার আরটিআই করেও কোন প্রশাসনিক উত্তর না পাওয়ায় অবশেষে কমিশনের দারস্থ হলেন কলকাতা হাইকোর্টের স্বনামধন্য আইনজীবী বৈদূর্য ঘোষাল। এই আইনজীবী গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার সন্ধে ৬ টা ১৪ মিনিটে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনারের অফিসিয়াল ইমেলে মঙ্গলকোটের ব্লক প্রশাসনের আধিকারিক কে নিয়ে ইমেল টি পাঠিয়েছেন।পাশাপাশি মঙ্গলকোট বিধানসভার ২৭২ নং আসনের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পর্যবেক্ষককেও এই ইমেল কপিটি ফরওয়ার্ড করে দিয়েছেন। এই মঙ্গলকোট বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ রয়েছে আগামী ২২ এপ্রিল। ষষ্ঠ দফার ভোটগ্রহণের আগে ব্লক প্রশাসনের নির্বাচনী বিভাগের এই শীর্ষ আধিকারিক কে অবাধ ভোটের জন্য বদলি করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলকোট ব্লক প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক একই পদে দশ বছরের বেশি সময়কাল ধরে রয়েছেন। যা নিয়ে উঠছে বিস্তর প্রশ্নচিহ্ন। কলকাতা হাইকোর্টের স্বনামধন্য আইনজীবী বৈদূর্য ঘোষাল মঙ্গলকোট ব্লক অফিসের এপিও পদে থাকা এই আধিকারিকের বিষয়ে তথ্য জানার আইনে (২০০৫ এবং  ২০০৬ সালের তথ্য আইনে) বেশ কয়েকটি চিঠি পাঠালেও তার প্রত্যুত্তরে এখনও অবধি  কোন সাড়া পাননি.মঙ্গলকোট বিডিও থেকে কাটোয়াা এসডিও কেউ এই আইনজীবীর প্রেরিত তথ্য জানার আইনে চিঠির কোন প্রশাসনিক উত্তর দেননি বলে জানা গেছে ।আর এখান থেকেই কেন প্রশাসনের এহেন ‘নীরবতা’ তা নিয়েও দেখা যাচ্ছে প্রশ্নচিহ্ন। যদিও ওই আইনজীবী বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করে প্রকৃত তথ্য সন্ধান সহ ওই আধিকারিক কে আড়াল করার পেছনে কারা তা জানবার চেস্টা করবেন বলে জানিয়েছেন। যদিও এই আধিকারিকের বদলীর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল গত ২৭ জানুয়ারি কলকাতার জেশপ ভবনে ‘কমিশনার অফ পঞ্চায়েত এন্ড রুরাল ডেভলপমেন্ট’ দপ্তর থেকে।এলাকাবাসীদের অভিযোগ, মঙ্গলকোট বিধানসভার শাসক দলের দায়িত্বে যিনি রয়েছেন, তিনি আবার পঞ্চায়েত দপ্তরের সরকারি বড় পদে (চেয়ারম্যান) রয়েছেন। তাই তাঁর ‘আশীর্বাদ’ কাছ করছে এখানে! যদিও প্রশাসন থেকে সমস্ত মহলই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।কে এই ব্লক প্রশাসনের আধিকারিক? যাকে নিয়ে এত অভিযোগ। বিরোধী শুন্য  মঙ্গলকোট গড়ার পেছনে এই আধিকারিকের ভূমিকা কম নয় বলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ। এই আধিকারিকের আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে ইডি তদন্ত চালালে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প গুলির দুর্নীতি গুলি প্রকাশ্যে আসবে বলে প্রশাসনের একাংশ আধিকারিক নাম গোপন রাখার শর্তে জানিয়েছেন। ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে বোর্ড গঠন অবধি সদর মঙ্গলকোট এবং ঝিলু ২ নং পঞ্চায়েতে ‘প্রশাসক’ পদে থেকে টেন্ডার সহ একশো দিনের কাজ প্রভৃতি প্রকল্পে নয়ছয় করে গেছেন বলে জানা যায়। ব্লক অফিসে এপিও (এসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামিং অফিসার)  পদে থাকার জন্য বিভিন্ন সময়ে একশো দিনের প্রকল্প নিয়ে উত্তাল হয়েছে মঙ্গলকোটের বিভিন্ন এলাকা।এমনকি গোতিস্টা অঞ্চলে তৎকালীন বিডিও সুশান্ত মন্ডল আক্রান্ত হয়েছিলেন বিক্ষুদ্ধদের হাতে।বিডিও কে পঞ্চায়েত অফিসে তালা মেরে আটক রাখার অভিযোগ উঠেছিল। পুলিশ গিয়ে তা সামাল দেয়। এই নিয়ে ফৌজদারী মামলাও হয়েছিল। কাশেমনগর ডাকঘরে একশো দিনের প্রকল্পে গ্রাহকদের মজুরির অর্থ নিয়েও বিস্তর অভিযোগ উঠেছিল।প্রশাসনের অন্দরে তাঁর সিনিয়র অফিসাররা পর্যন্ত তটস্থ থাকেন শাসক দলের খুব কাছের লোক হওয়ার সুবাদে বলে

কর্মীদের একাংশ নাম গোপন রাখার শর্তে জানিয়েছেন। যদিও অভিযুক্ত আধিকারিক সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে গেছেন। গত ২০১০ সালে আগস্ট মাসে সুশান্ত প্রামাণিক নামে এই এপিও মঙ্গলকোট ব্লক অফিসে যোগ দেন।ঠিক এইরকম সময় মঙ্গলকোট এবং ঝিলু ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান সহ উপপ্রধান ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত এবং ধৃত হওয়াতেই ব্লক প্রশাসনের তরফে প্রশাসক পদে আসেন তিনি।হাতে গোনা কয়েকজন ঠিকেদারদের নিয়ে ২০১৩ সাল পর্যন্ত খাতা-কলমে উন্নয়ন করলেও বাস্তবিক দিকে তা ‘পুকুর’ চুরি  করার অনুঘটক হিসাবে কাজ করেন বলে অভিযোগ। বিভিন্ন পঞ্চায়েতে একশো দিনের প্রকল্পে পেমেন্ট নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠে তখন।এমনকি একশো দিনের প্রকল্পে গ্রাহকদের হাতে নিগৃহীত হতে হয়েছিল তৎকালীন বিডিও সুশান্ত মন্ডল কে। টানা দশ বছর অতিক্রান্ত হলেও তাঁর বদলী অজ্ঞাত কারনে আটকে যায়। কৃষকদের কাছে সরকারি ভাবে ধান কেনার কূপন নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠে বারবার। এই এপিও ধান কেনার যাবতীয় প্রক্রিয়ার মাথায় থাকেন।ধানের মিল গুলিতে বস্তাপ্রতি ৫ কেজি খারাপ ধান আছে বলে চাষীদের বলা হলেও তা কার্যক্ষেত্রে হত না বলে অভিযোগ। কলকাতা হাইকোর্টের স্বনামধন্য আইনজীবী বৈদূর্য ঘোষাল গত ১২ ই জানুয়ারি মঙ্গলকোট বিডিও কে স্পিড পোস্টে ২০০৫ সালের তথ্য আইনে আবেদন এবং ২০০৬ সালের তথ্য আইনে তথ্য সরবরাহ করার নির্দেশিকায় এই এপিওর বিষয়ে আরটিআই  করেন।দু মাস পেরিয়ে গেলেও কোন প্রশাসনিক উত্তর না মেলায় পুনরায় গত ২২ ই মার্চ কাটোয়া মহকুমাশাসক কে এই আরটিআই এর আপিল করে থাকেন।তাতেও কোন উত্তর আসেনি, আর এতেই সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে এই অফিসার কে ঘিরে।যদিও গত ২৭ জানুয়ারি কমিশনার অফ পঞ্চায়েত এন্ড রুরাল ডেভলপমেন্ট দপ্তর থেকে নোটিফিকেশনে  ( নাম্বার ১২৩/১১/ডিপি/২ টি-৪/২০১৯) ১১ জনের বদলীর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল।সেখানে ১০ নাম্বারে এই আধিকারিক কে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং ব্লক অফিসে যোগ দিতে বলা হয়। গত দশ বছরের  এইরকম বদলী পুনরায় স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তথ্য আইনে চিঠি প্রেরক সুপ্রিম কোর্ট এবং কলকাতা হাইকোর্টের স্বনামধন্য আইনজীবী বৈদূর্য ঘোষাল বিষয় টি নিয়ে জনস্বার্থ মামলা করে কারা এই অফিসার কে মঙ্গলকোট ব্লকেই টানা দশ বছর বহাল রাখার ব্যবস্থা করেছেন, তা জানবার চেস্টা করবেন বলে জানিয়েছেন এই আইনজীবী। গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার সন্ধে ৬ টা ১৪ মিনিটে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনারের অফিসিয়াল ইমেলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিধানসভা আসনে প্রশাসনিক পর্যবেক্ষক কে কপিটি ফরোয়ার্ড করেছেন এই আইনজীবী। এখন দেখার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন কোন হস্তক্ষেপ করে কিনা, যদি না করে তাহলে আদালতই হবে শেষ ঠিকানা সুবিচার পাওয়ার। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার কে অবগত করিয়েও যদি কোন সাড়া না মেলে তাহলে উচ্চ আদালতে কমিশনের ভূমিকা নিয়েও উঠতে পারে বিস্তর প্রশ্নচিহ্ন।

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.