Press "Enter" to skip to content

বিধাননগরের বিভিন্ন প্রান্তের নাগরিকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হল সিটিজেনস মিট….।

Spread the love

গোপাল দেবনাথ :  কলকাতা, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫। এসোসিয়েশন অফ বিধাননগর সিটিজেনস  এর উদ্যোগে বিধাননগরের বিভিন্ন প্রান্তের নাগরিকদের অনুষ্ঠিত হল সিটিজেনস মিট। বিধাননগরের মাইম ইন্টিটিউট এ রবিবার সকালে নাগরিকরা একত্রিত হয়েছিল বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সমাধান এর লক্ষে।
অনুষ্ঠান এর সভাপতি তর্পন সাহা প্রাথমিক বক্তব্যের মধ্যে সকলকে তাঁদের নিজেদের বক্তব্য রাখার আহ্বান জানান।
আলোচনার সুর বাধা হয়ে  যায় সংস্থার সম্পাদক রীতেশ বসাক এর বক্তব্যর মাধ্যমে। তিনি জানান মূলত ৬ টি বিষয় নাগরিকরা যে সকল সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বেহাল রাস্তা মেরামতের জন্য পৌর নিগম কে তৎপর হতে হবে। বিভিন্ন এলাকায় প্রবীণ নাগরিকরা চোট পাচ্ছেন প্রায় বাড়ি থেকে বেরোনোর সময়। জঞ্জাল পরিষ্কার নিয়মিত হচ্ছে না। ফলে অনেক জায়গায় আবর্জনার স্তুপ জমে যাচ্ছে। বাজার হোক বা অন্য জায়গায়। শীত পড়তে না পড়তেই মাশার উৎপাত বাড়তেই বহু রোগ দেখা যাচ্ছে। পৌরনিগম কে তার প্রতিকার করার ব্যবস্থা করতে হবে। নর্দমার পয়প্রণালী নিষ্কাশান এর ক্ষেত্রে নিয়মিত পরিষ্কার করা ও বিধাননগরের পার্শবর্তী খাল এর সংস্কার করা দরকার। খালের নব্যতা বাড়াতে হবে এবং তার গতিমুখ কে পরিষ্কার করতে হবে। বিধাননগরের আর একটি বড় সমস্যা হচ্ছে কেবল তার এর। মাকড়সার জাল এর মতো পুরো শহর কে গ্রাস করে ফেলেছে। যত্র তত্র তার ছড়িয়ে আছে অপরিকল্পিত ভাবে। অবিলম্বে পৌরনিগম কে সেই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। রাস্তার ফুটপাত উঁচু হওয়াতে প্রবীণ নাগরিকদের উঠতে খুবই অসুবিধা হচ্ছে। সংগঠন প্রস্তাব করছে ফুটপাতের শুরু ও শেষ এ ঢাল করে রাখতে। বড় রাস্তার ফুটপাত দখল মুক্ত করা। এতে নাগরিক সুরক্ষার পক্ষে খুব ভালো হয়। ক্রসিং এর মুখে ডিভাইডার এর মাঝে যে ফাঁক রাখা আছে তা খুবই সল্প, পরিধিতা একটু বাড়ানো উচিত যাতে দুজন মানুষ এর যাতায়াত করার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।
এর পরে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে অ্যাডভোকেট নয়ন ভিয়নী বক্তব্য রাখেন তিনি বলেন পুলিশ এর বেশী করে নজরদারি বাড়ানো উচিত। বিধাননগর এর নাগরিকদের জন্য একটি বিশেষ হট লাইন এর ব্যবস্থা করা হোক।এলাকায় আরও সিসিটিভি বাড়ানো উচিত।
এরপর নাগরিকদের বক্তব্যের  মধ্যে উঠে আসে যে বিভিন্ন কো অপারেটিভ এর একদম উপর তলায় যে প্রবীণ নাগরিকরা থাকেন তাঁদের জন্য লিফট  এর অনুমতি দিক পৌরনিগম। বাড়ির যোগ্যতা নির্ধারণ করুক এবং অন্যদের অনুমতি ব্যতিরেখে এই কাজ করার জন্য তাঁদের পাশে দাঁড়াক। বিধাননগর এর এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে যাবার ক্ষেত্রে বাসের খুবই অভাব। অটো আর টোটো রিক্সায় ভরসা। অনেক ক্ষেত্রে হয় হেঁটে  বা বেশি টাকায় যেতে হয়। সবসময় গাড়ি নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে না থাকলেও নিয়ে যেতে হয়। বিধাননগর এ সার্কুলার বাস এর ব্যবস্থা করার। প্রবীণ নাগরিকরা বহু ক্ষেত্রে বিশেষ করে রাতের বেলা অসুস্থ হলে নিরুপায় মনে করেন। এই বিষয় একটা হেল্পলাইন এর ব্যবস্থা করলে ভালো হয় সংগঠন এর পক্ষ থেকে। অ্যাডভোকেট শুভময় বাবু বলেন সল্টলেক থেকে বের হওয়ার রাস্তা খুবই কম ও যানবাহন এর ঢোকা বা বেরোনোর ক্ষত্রে অপ্রতুল ।  বিধাননগর এর নাগরিকদের নিজের গাড়ি থেকে বাইরের গাড়ি এখানে বেশী চলাচল করছে। এর মধ্যে নতুন সমস্যা তৈরী হতে পারে নতুন বেইলি ব্রিজ বানানোর প্রস্তাব এ। এতে বিএ, এবি, এএ ব্লক এর মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। পাঞ্জাব ব্যাংক এর একটি পুরানো বাস স্ট্যান্ড বহু দিন ছিলো, কিন্তু সেটি ভেঙে যাবার ফলে আর এখনো কোনো বাসস্ট্যান্ড তৈরী হয়নি। এতে মানুষের অসুবিধা হচ্ছে। অবিলম্বে যদি একটি বাসস্ট্যান্ড তৈরী করা যায়।
সব শেষে সম্পাদক রীতেশ বসাক জানান আমরা সকল আলোচনার নির্যাস নিয়ে একটি নির্দিষ্ট স্বরাকলিপি তৈরী করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর এ পৌঁছে দেবো। সকলের সহযোগিতা ও ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। সবাই এসোসিয়েশন অফ বিধাননগর সিটিজেন্স এই প্রচেষ্টা কে সাধুবাদ জানান।

More from GeneralMore posts in General »
More from InternationalMore posts in International »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Mission News Theme by Compete Themes.