Press "Enter" to skip to content

বঙ্গ-ভূমির মতো এত দেশপ্রেমী এবং প্রতিভাবানের জায়গা হঠাৎ করে এমন নিষ্ফলা, মৃতবৎসা, আতঙ্কের ভূমি হয়ে গেল কীভাবে? এখন বেঙ্গল তো শুধু চাকর আর লেবার সাপ্লাই-এর জায়গা হয়ে গেছে!……

[প্রদীপের সঙ্গে আলাপ = প্রলাপ] (পর্ব= ০৫৬)
“কোটি-কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী,
রেখেছো বাঙালি করে, মানুষ করোনি।”
________________________
জাদুশিল্পী, মঞ্চ-মায়াবী পি সি সরকার জুনিয়র
{ Dr. প্রদীপ চন্দ্র সরকার, M.Sc., Ph.D} কলকাতা, ২৭ মার্চ ২০২১। রাজনীতির আমি কিচ্ছু বুঝিনা।‌ আমার বুঝবার দরকারও নেই। কান‌ ধরে স্বীকার করছি, অতো 'বুদ্ধিমান' মানুষ আমি নই। আমি একটা বোকা-সোকা, মাদারি গোত্রের এলেবেলে মানুষ। কোনোও সাতেও নেই, পাঁচেও নেই। কিন্তু সাত + পাঁচ = বারোতে আছি। থাকতে হয়, দেশের নাগরিক এবং ট্যাক্স payer হিসেবে নাম সই করে আঁধার কার্ড পেতে গেলে থাকতে হয়। নইলে নাকি পিছিয়ে থাকতে হয়। ভোট দেওয়াটা যেমন রাজনৈতিক ব্যাপার, ভোট নেওয়াটাই তাই, ওই একই রাজনীতির অঙ্গ। আমরা সব্বাই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে, রাজনীতি বোঝা-বুঝিতে যেহেতু আমি বাঙালি, সেই কারণে রাজনৈতিক পক্কতায় মন্তব্য প্রকাশের ব্যারোমিটারে, আমার রিডিং জন্মগতভাবেই হাই প্রমাণ করতে আমায় সদা ব্যস্ত আছি। তাঁর সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবে, বংশ-গত ঐতিহ্যের বিশাল বোঝাটাও আমি বইছি। তাঁর ওপর আবার শাকের আঁটি-র মতো সত্যি-সত্যি রাজনীতিকে যদি চাপানো হয়, সে তো বোকামির কাজ হবে। একবার ওই শাকের আঁটিটা আমি পিঠে নিয়ে বয়েছিলাম, হাসিমুখেই রাজী হয়েছিলাম। সেটা করেছিলাম কিন্তু, ওই আপনাদেরই অনুরোধে, গ্যাস খেয়ে। এখন ভাব দেখাচ্ছেন যে -- ভুলে গেছেন, মনে নেই!! আমার কিন্তু বেশ মনে আছে। কি সুন্দর ভাবে হাত-কাচুমাচু করে বাড়িতে এসে বলেছিলেন, "আপনাদের মতো হাই-ভোল্টেজ লোকেরা যদি মানুষের পাশে এসে না দাঁড়ান, তাহলে দেশ এগুবে কোন দিকে? "শুনে, নিজেকে বেশ অপরাধীই মনে হয়েছিলো। মনে হচ্ছিলো, দেশকে পিছিয়ে রাখার জন্য আমিই বোধ হয় দায়ী! তাছাড়া, অনুরোধে মানুষ নাকি ঢেঁকীও গেলে। দেশ সেবায় ওই বিশাল ঢেকীটা না হলেও, সামান্য একটু ঢোকও কি আমি গিলতে পারবো না?! পারবো। ওদের কথায় পোটে গেলাম। ফলে অভ্যেস না থাকলেও, শাকের আঁটিটা আমি বইতে রাজী হয়েছিলাম। হেঃ, হে

“যখন তোমার কেউ ছিলোনা, তখন ছিলাম আমি,
এখন তোমার স-ব হয়েছে, পর হয়েছি আমি।”

আমি ছিন্নমূল বাঙালি। হিন্দু হওয়ার ‘অপরাধে’
ওপার থেকে বিতাড়িত। ওটা পাকিস্তান, শুধু মুসলমানদের দেশ। এ-পারে নাকি হিন্দুদের দেশ। ‘সেফ’ হিন্দুস্তান।! ভুল বুঝেছিলাম। এটা আসলে, বারো ভুতের দেশ। তবে সম্প্রীতির সুবাদে, ওই বারো ভুতের মধ্যে যে ভুতের দাপটে ওপার থেকে এপারে এসেছিলাম,তাদের প্রতিও প্রেম উৎলে ওঠার দেশ । “মেরেছো কলসি-কানা, তা’বলে কি প্রেম দেবো না ?” আহা-হা, তাদের দমবন্ধ আলিঙ্গণ এতো জোরালো যে ওষ্ঠাগত প্রাণে “বাঁচাও” বলার জোরটুকুও নেই। ওরা ওপার বাংলার কন্টিনিউয়েশনে এপারেতেও পতাকা তুলে দখলদার হতে চাইছে। পঁচাত্তর বছর আগেও এমনটা হয়েছিলো। মুসলমানরা পুরো বাংলার মালিক হতে চেয়েছিলো। লক্ষ লক্ষ হিন্দুকে করেছিলো কচুকাটা । হিন্দু মহিলাদের স্তন কেটে জানালায় ঝুলিয়ে রেখেছিলো। আবার যেন না হয়। সজাগ থাকতে হবে।

শুধু তাই নয়, রাজনীতিতে কোনোও নীতি ফিতি আছে কিনা, তাও আমার জানা নেই। চারপাশের বড়-বড় তাড়কা, sorry, তারকা সুন্দর সুন্দরী দেব-দেবীদের দেখে যে শিখবো, তার উপায়ও পাচ্ছি না। অন্য সবার মতো, আমিও ওদের চিনতে ভুল করি। ক্ষণে ক্ষণে ওরা চেহারা পাল্টায়। না, না, ওই ‘ছি-নাথ বৌ-রূপী’র মতো নয়, এঁরা এক্কেবারে পাক্কা খেলোয়াড় ! এই তো সেদিন দেখি পাতার তলায় ঢ্যাঁড়শের বিচির মতো কিছু আঁঠালো ক্যাতক্যাতে ডিম হয়ে তাদের আগমন ঘটলো। ক’দিন পরে দেখি সেগুলো ফুটে প্রোডিউসরের (বি)ছানায় হয়ে গেলো শোয়া, sorry, শূঁয়ো-পোকা হওয়া । আবার তার ক’দিন পরে দেখি সেই ওরাই হয়ে গেছে ফুলে-ফুলে উড়ে মধু খাওয়া প্রজাপতি। খুব নেচে নেচে উড়ছে। তারপর দেখি ওর পেছনে ল্যাজ ওয়ালা, ফিঙে উড়ছে, কোমর দুলিয়ে, এ বাগান থেকে ও বাগানে।… রিপোর্টারেরা নোলায় জল ঝড়িয়ে পেছন পেছন দৌড়ুচ্ছে, দুষ্টুমির ছবি তুলতে ।
আর তার পর কি হয়, সেটা জানিনা। আমি ওদের ওই পর্য্যন্ত স—-ব চেহারার রিপোর্ট পেয়েছি। কাঁঠালীকলার মতো ঘটের ওপরে বসেই পেন্নাম করেছি আর তারপর আমার এই সিদ্ধান্তে এসেছি। চির-জীবনের কষ্ট-লব্ধ তপস্যার ফল।
অতি কষ্টে, অনেক সাধনা করে সিদ্ধিলাভ হিসেবে পরিষ্কার বুঝতে পেরেছি, যে , আমি কিছুই বুঝিনি। এঁরা, সব্বাই ভালো। বিভিন্ন জন বিভিন্ন কারণে ভালো। চোরের কাছে চোরেরা ভালো, জ্ঞানীর কাছে জ্ঞানীরা ভালো। বোকার কাছে বোকারা ভালো। হাঁদার কাছে ভোদারা ভালো।... ভারত জুড়েই বাঙালি চাকর হিসেবে, কুঁড়ে হলেও ভালো। শহীদ হতে বাঙালি ভালো। কাজে ফাঁকি দিতেও বাঙালি ভালো। কিন্তু,--সব চয়ে ভালো---নাটক জমাতে, মানে,যাত্রা-পালায় স্বজাতিকে ভোদাই পাবলিক প্রমাণ করতে,--- না, না, পাউরুটি আর ঝোলাগুড় নয়, সে হ্যাংলো-ইন্ডিয়ান জমানা কেটে গেছে। এ জমানায় পাবলিককে টুপী পরানোর সবচেয়ে ভালো গ্যাস খাওয়ানোর পদ্ধতি হলো, চুলের মুঠি ধরে আধ-চামচ নুন খাওয়ানো। বাঙালি আর যাই হোক না কেন, 'নিমক হারাম' নয়। বাব্বা, নুন খেলে গুণ অবশ্যই গায়। ...ওই আগের জমানার বেইমানী-টেইমানী ?!? হেঃ, ওগুলো সব বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আমি আমার অন্তরের শিল্প-প্রকাশের দায়বদ্ধতা নিয়েই জন্মেছি। এবং সেই শিল্পের সাধনায় আমি একেবারে আমার নিজের মধ্যেই নিজে ডুবে থাকি। এই ডুব-সাঁতারের গভীরেই আমি জলের-স্তরের গোড়ার জগতে পৌঁছে যাই।

বিদেশীরা, বিশেষ করে ভারতেরই অন্য প্রদেশের লোকেরা যখন বলেন যে বঙ্গ-ভূমির মতো এত দেশপ্রেমী এবং প্রতিভাবানের জায়গা হঠাৎ করে এমন নিষ্ফলা, মৃতবৎসা, আতঙ্কের ভূমি হয়ে গেল কীভাবে। এখন বেঙ্গল তো শুধু চাকর আর লেবার সাপ্লাই-এর জায়গা হয়ে গেছে। আমি প্রতিবাদ করবার ভাষা পাইনা। সামান্য ছোট-খাটো কোনোও চাকরির জন্যও বাঙালিকে ভিন প্রদেশে যেতে হয়। এখানে চাকরির উপায় নেই। কোভিডের থাবা থেকে বাঁচতে যে সংখ্যায় মানুষ কলকাতায় ফিরতে ট্রেনে জায়গা না পেয়ে হাঁটতে শুরু করেছিলেন, তার হিসেবে চুপ থাকা বাঙালির সংখ্যাটা দেখলে অবাক হতে হয়। কেউ যদি মিছি- মিছি নিজেদের স্বার্থের কারণে আমাকে ব্যাঘাত ঘটায়, তখন আমি বিরক্ত এবং বাধ্য হয়ে 'হ্যাঁচ্চো' করি। হয়তো বা, গলা খাকারি দিয়ে কেশেও উঠি। সেটা কোনোও প্রতিবাদ, কলার ধরে ঝাঁকানো বা ডিক্সোনারি সম্মত কথ্য-ভাষা নয়। কিন্তু যে যাঁর মতো করে তারা সেটার মানে খুঁজে নেন। চোর ভাবে, এই রে ! আমায় 'চোর' বলে ধরিয়ে দিচ্ছে, পালাও। ডাকাত ভাবছে, লে হালুয়া, পুলিশকে সিগন্যাল দিচ্ছে, দে তো বোম মেরে উড়িয়ে দাও।

ডাক্তার ভাবছে, একে ‘আই.সি.ইউ’.-তে পাঠাতে অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হবে; প্রফেসর ভাবছেন, রাত জেগে নোট-স লিখছেন , বৌ ভাববে, রাত জেগে ফেসবুকে লিখেছে তো, পাগোল কোথাকার।… এভাবে, নানা মানুষ নানা নানারকম মানে করে নেবেন। কিন্তু আমি জানি, সত্যিটা কি !! …..আমার ঘুম আসছে না। আরে, নিশ্চিন্তে ঘুমোতে কপাল লাগে !! সে কপাল একমাত্র ওই ‘ইয়ে’দের ছাড়া আর কারো নেই।
আজ এই পর্য্যন্ত থাক পরে আবার লিখবো।

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.