Press "Enter" to skip to content

[প্রদীপের সঙ্গে আলাপ=প্রলাপ]
(পর্ব—৫৮) (স্মৃতি-চারণ)……।

জাদুশিল্পী, মঞ্চ-মায়াবী পি সি সরকার জুনিয়র।
(Dr.Prodip Chandra Sorcar, M. Sc. Ph.D.)
কলকাতা, ৯ এপ্রিল, ২০২১। খুব একটা বেশি দিন নয়, মাত্র চল্লিশ-পয়তাল্লিশ বছর আগেকার কথা । আমি তখন সবে, বাবার মৃত্যুর পর জাপানের পর সাউথ কোরিয়াতে শো করে, মনের জোর মোটামুটি ভাবে চাঙ্গা করে ফেলেছি। আর তারপর, সদলবলে সারা ইউরোপে থেকে, বিরাট টিম নিয়ে, একের পর এক দেশে গিয়ে, ইন্দ্রজাল দেখিয়ে বেড়াচ্ছি। না, না, মুখচোরা ভাবে, গুটি কয়েক পরিবারের ব্যবস্থাপনায়, শুধু স্বজাতী-ভারতীয়দের মধ্যে , মিঁউ মিঁউ করে আড়ালে লুকিয়ে নয়। বরাবরের মতো, বুক চিতিয়ে দাপটের সঙ্গে, ওদের সেরা হলে গিয়ে, ওদের সেরা অনুষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে, দিনের পর দিন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ, মানুষজনের প্রশংসার পর প্রশংসা কুড়িয়ে,হৃদয় জয় করতে পেরেছি। ভাবুন তো, হল্যান্ডের রাস্তায় এদিক - ওদিকে ঝুলছে বাংলার জাদুর বিজ্ঞাপণ। লন্ডনের দোতলা-লাল বাসে সাঁটা রয়েছে কোলকাতার পি সি সরকারের পোস্টার। পাতাল রেল- টিউবের এসকালেটরের পাশে আলোকিত ভাবে সারি দিয়ে রয়েছে বাংলার জাদুশিল্পী পি সি সরকার জুনিয়রের ছবি সমেত বিজ্ঞাপণ। লেখা আছে "PRIDE OF INDIA". এটা 1976-এর ঘটনা। London এর থিয়েটার পাড়া, West End -এ ROYALTY থিয়েটারে চলেছে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে ভারতের P. C. SORCAR এর " ইন্দ্রজাল"; তার ডান দিকের হলে চলছে, "Oh. Calcutta "; বাঁ-দিকের হলে চলছে আগাথা ক্রিস্টির "Mouse Trap". গৌরবময়, ঐতিহাসিক, এর সহাবস্থান। এমন 'অ'ঘটন, বাংলার মনোরঞ্জন জগতে এর আগে আর কখনও ঘটেনি। সেটা ঘটে থাকলে আমাকে জানাবেন, আমি কথা ফিরিয়ে নেব। নিন্দুকদের মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছিলাম , আর সমঝদারদের কুড়িয়ে ছিলাম, আশীর্বাদ । সমস্ত প্রতিবেদন,ছবি, স্মারক আর পুরস্কার আমি প্রমান হিসেবে এখনও যত্ন করে রেখে দিয়েছি। আমাদের দেশে সেসব সংবাদ প্রকাশিত হয়নি, হয়না। কেন হয়নি? উত্তরটা আমার নিজ মুখে বলাটা শোভন হবে না, সুতরাং, আপনারাই খুঁজে ,বুঝে নিন। কেন প্রচার হয়নি?!?!! ঠিক ধরেছেন, এই না হলে বাঙালি!? তবে আপনার বিরুদ্ধেও আমার অভিযোগ আছে। আপনি পুরো ১০০%খাঁটী বাঙালি হতে পারেন নি। কাঁকড়া-চরিত্রটা আপনার ভেতর এখনও ঠিক মতো গজায় নি। আপনি অন্যান্য কাঁকড়াদের মতো অন্য কাঁকড়াকে দাঁড় দিয়ে টেনে হিচড়ে নামান নি। আপনার সেই গুণটা এখনও প্রকাশ পায়নি। নিন্দা করতেও 'ফেল' করলেন!! ওসব দেশের ওঁরা সব্বাই জানেন যে ম্যাজিকের মধ্যে মন্ত্র-তন্ত্র-ভুত-প্রেতের কোনও কারবার নেই। সবই বুদ্ধির খেলা, এক উঁচু পর্য্যায়ের বিজ্ঞান-ভিত্তিক মনোরঞ্জক এবং ফিলোসফি সূচক আলোচনার বিষয় বস্তু। যাঁর বিদ্যে-বুদ্ধি , অনুভূতির মান, বিস্তৃতি আর গভীরতা যেরকম, তার কাছে এর পরিচয়ও সে রকম। জাপান, জার্মানী, রাশিয়া, ফ্রান্সের জনমানসে এর পরিচয় হচ্ছে তিন রকমের। (১) বুদ্ধিমান-দের সমাধান সন্ধানী মনোরঞ্জন; (২) বিজ্ঞানীদের কাছে, ভবিষ্যতে বাস্তবিকরণের ইন্ধন-কল্পনার সীমানা বা কল্পনার খোরাক ; আর (৩) কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই-এর মোক্ষম অস্ত্র। সুতরাং লোকজন বিশেষ উন্নত বুদ্ধির দৃষ্টিকোন দিয়ে আমাকে 'মাপতে', তাঁদের মনের ভেতর একটু জায়গা করে দিয়ে, আসলে ভারতবর্ষকেই আবার নতুন করে আবিষ্কার করতে শুরু করেছেন। দুর্জনেরা এই খবর আমাদের দেশে প্রচার হতে দেয়নি। হিংসেতে জ্বলা ছাই দিয়ে চেপে রেখে গেছে। ************* ************* এতদিন আমাদের পরাধীন দেশকে, ইংরেজরা প্রচার করে রেখে বলেছিলো, "এদের বেদ, বেদান্ত, উপনিষদ সব হচ্ছে ফালতু শিক্ষা এবং ইংল্যান্ডের ক্লাস ফোরের ছাত্র-ছাত্রীরাও, ওই সমস্ত ভারতীয় শিক্ষাকে , একত্রে যোগ করলেও তার চেয়ে বেশি শিক্ষিত বলে প্রমানিত হবে।" " ভারতীয়রা বোকা"..." বিবর্তনের শেষ টুকু এখনও বাকী আছে, পুরো মানুষ হয়নি। ".সেই দেশের এক 'জাদু শিল্পী, কিনা আমাদের ইন্দ্রিয়ের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, বুদ্ধিতে জব্দ, আবদ্ধ করতে এসেছে?! এ তো লোক হাসানোর ব্যাপার।

ইংল্যান্ডের এক কুচুটে সাহেব ‘মিঃ ম্যাকলে’ কে “লর্ড ম্যাকলে” বানিয়ে ইংল্যান্ডের পার্লামেণ্ট, কলকাতায় ভাগ্য বিধাতা হিসেবে পাঠিয়ে দেন। তিনি এসেই এখানে সংস্কৃত ভাষার শিক্ষাকে উঠিয়ে দিয়ে ‘হিস্ট্রি অফ ইংল্যান্ড’ পড়ানো চালু করেন। অনেক আন্দোলন করে সংস্কৃত কলেজকে রক্ষা করা গেছে। এই ইতিহাস না জানলে সবাই ভুল পরিবেশেই গড়ে উঠে বিশ্ব সাহিত্য-সভ্যতার এক বিশাল অংশকে না জেনে বুঝে থাকবেন। দৃষ্টি হবে এক চক্ষু হরিণের মতো।
=====================
যেখানেই শো শুরু করি না কেন,আমাদের শো দেখার আগে এদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য আমাদের অবাক করেছে। তখন আমার পরিচয়, “ভারতীয় ওই শিল্পীদেরই আরও এক জন! ” হবে নাইবা কেন, আমাদের দেশে ‘ডিগ্রী’ কে ‘কালচার’-এর মাপকাঠি ভেবে গুলিয়ে ফেলি। তারা এসে এমন সব কাণ্ড করে থাকেন যে পুরো ভারতবর্ষের সম্মান হানি হয়। কিন্তু আমাদের শো দেখার পর সব্বার মুখ-চোখ, আদব কায়দা, সব যায় পাল্টে । আমাদের দুঃখ, তাচ্ছিল্য, অবজ্ঞা, সব হয়ে যায় ভ্যানিশ। আধুনিক বিজ্ঞান-ভিত্তিক কৌশলের সঙ্গে ভারতের চিরন্তন দার্শনিক চিন্তার মিশেল যে এতো মন ভরিয়ে দিতে পারে, তা এরা কল্পনাও করতে পারেন নি। একদম অন্য রকম রসের একটা উদাহরণ দিই। শো বিজনেসে, মঞ্চে 'সৌন্দর্য্য' বলতে এরা বিবসনা নারী ছাড়া মনে হয়, আর কিছুকেই ভাবতে শেখে নি। প্যারিস, হামবুর্গ, ডেনমার্ক স--ব এক।এত উন্নত সব দেশ, কিন্তু কি তার দৈন্যদশা!!! এদের এই পাশবিক যৌন-উত্তেজক রুচির জীবন্ত প্রকাশ, আমাদের চোখ নামিয়ে নেয়। সেথায়ও যেন "আঁখি না ফিরে।" অত 'উন্নত' আমরা নই। আমরা একদম উল্টো মশলায় তৈরি। আমাদের দেশে নগ্ন-প্রায়, মা কালীকে দেখে অন্য কিছু নয়, ভক্তি জাগে। ডুকরে কেঁদে উঠে প্রাণ উজার করে 'আত্মসমর্পণ' করে, বুক ভর্তি আশীর্বাদ টইটুমবুর করে নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ি। সেটা কাল্পনিকই হোক, আর কুসংস্কারের ব্যাপারই হোক, কারুর কোনোও ক্ষতিতো করছে না। একটা মানসিক ডিসিপ্লিনে থাকছে। থাকুক না। এর অভিজ্ঞতা যার হয়নি, সে হতভাগা বুঝবে না। নিজের অপকর্মকে ঢাকতে তারা প্রথমেই 'হত্যা' করে, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসকে। ঈশ্বর ওদের প্রথম দুশমন। কারণ তিনি থাকলে, অন্যায়ের শাস্তি দেবেনই দেবেন।ভয়ে ভয়ে অন্যায় করে তাতে নাকি মজা থাকে না। তার থেকে বাবা, 'ঈশ্বর'কেই অস্তিত্বহীন করে দাও। ল্যাঠা চুকে গেল। তারপর নিশ্চিন্তে অন্যায় করে যাও। আমার মনে হয়, যারা ঈশ্বরের বিশ্বাসী নন বলে বেশি চিল্লান, তারাই আসলে ঈশ্বরে বেশি বিশ্বাস করেন। তারা কৃতকর্মের শাস্তির ভয় পান।

এই নিয়ে আমার অন্তরের কথা আমি পরে আলোচনা করবো। আজকে নয়। প্রসঙ্গ পাল্টাচ্ছি।

প্রায় সতের মাস ধরে স্পেনের লা-করুণিয়া হয়ে চেকোস্লোভাকিয়ার ‘কার্লোভি-ভ্যারি’ ,সর্বত্র আমরা শো করেছি। সর্বত্র জিতেছি। ভারতীয়ত্ব ছিলো সর্বত্র মূল কথা। একটা ঘটনার উল্লেখ না করে পারছি না।
মিউনিখ শহরের গল্প। এখানকার প্রসিদ্ধ “থিয়েটার ইন ডার ব্রিয়েনর স্টাসে” রঙ্গমঞ্চে আমাদের শো হবে। উঠেছি আমরা সদলবলে ‘মুনশেনার হফ্’ নামের এক সুন্দর হোটেলে। স্থানীয় জাদুকর সমাজ “ম্যাজিস্চার জিরকেল ভন্ ডয়েচল্যাণ্ড” এর “মুনশেন” অর্থ্যাৎ মিউনিখ-এর শাখা আমায় এই হোটেলে এসেই সংবর্ধনা জানিয়ে গ্যাছেন। খুব আনন্দে ডগমগ হয়ে আছি। এমন সময় দেখি আমার স্থানীয় ম্যানেজার মিঃ বব পিটার্স খুব গম্ভীর মুখে দাড়িয়ে আছেন। খুব খারাপ নাকি একটা সংবাদ নিয়ে এসেছেন, দুর্ভাগ্য।
ঝাঁকাঝাকি করতেই বললেন ,স্থানীয় ‘আবেন্ট জাইটুং’ নামে এক বিখ্যাত পত্রিকাকে আমন্ত্রণ করেছিলেন, তিনি এসেছেন ইন্টারভিউ নিতে। তিনি এসেছেন। বললাম, “সে তো ভালো কথা। ডাকুন। আলাপ করি। ” বব পিটার্সের চিন্তা যায় না। বলেন, “ভালো নয়, খারাপ কথা! লোকটা খারাপ। কারুর নামে যদি খু—ব নিন্দে করতে হয়, তো ওনাকেই ওরা পাঠান। ও খারাপ লিখতে এসেছে।… ওনার পেন-এ নাকি অ্যাসিড ভরা। যাচ্ছেতাই লেখার জন্য কুখ্যাত। আমাদের ব্যবসার পক্ষে খারাপ হবে। “
—-সে আমি বুঝবো, পাঠান ওনাকে।
এলেন ভদ্রলোক। শুকনো ড্র্যাকুলার মতো চেহারা। হাসলে ভয় করে। শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর, পরিচিত হয়েই বললেন, আমি সাধারণতঃ ভারতীয়দের সেলিব্রিটিদের ইণ্টারভিউ নিই। আমি মিস্টার রে, মিস্টার রাভি শাঙকার , মিস্টার ভুপেন হজারিখাকেও একটা প্রশ্ন করেছিলাম তারা বলেছেন “নো কমেন্ট্স্” আপনাকেও প্রশ্নটা করছি। আপনি কিন্ত “নো কমেণ্ট্স” বলে এড়িয়ে যাবেন না। আমি সাংবাদিক।আমাকে তো একটা কিছু লিখতে হবে! কিছু জবাব দেবেন। আর হ্যাঁ আপনার জবাবটা আমি কি রেকর্ড করতে পারি? আমি আপনাকে একটা কপি দেবো। আপনি দেখে নেবেন, আমি ঠিক ঠিক আপনার কথাই লিখেছি কিনা। “
ভদ্রলোক একটা থান ইট সাইজের টেপ রেকর্ডার টেবিলে রাখেন। আমিও আমার নিজস্ব টেপ রেকর্ডার চেয়ে পাঠাই। সেটাকে ‘অন’ করে ওর পাশে রাখি। বলি, “কপি করতে গিয়ে মুছে যেতে পারে। আপনাকে দিতে হবে না। আমিও সব কথাই জানিয়ে রেকর্ড করে রাখি। আমি তো আপনাদের দেশের অতিথি।ভালোবাসার প্রতীক। প্রতিটি আওয়াজ, কথা, স্তব্ধতা আমার চির জীবনের মূল্যবান স্মৃতি হয়ে হয়ে থাকবে।কথা দিন, সব কথা ছাপবেন!
—সেজন্যই তো এসেছি। ছাপার জন্য।
—ধন্যবাদ। নিন শুরু করুন।
ভদ্রলোক চশমার ওপর দিয়ে আমার দিকে গম্ভীর হয়ে তাকালেন। তারপর বলতে শুরু করলেন:-
—- “আমাদের দেশ,এই পশ্চিম জার্মানি হচ্ছি পৃথিবীর সব চেয়ে এগিয়ে থাকা দেশ। স্থায়ী ধনীর দেশ। ডলার, পাউণ্ডের দাম ওঠে-নামে। কিন্তু আমাদের ডয়েচ মার্ক হচ্ছে স্থির। আমরা একই রকম ধনী, বরাবর। বিজ্ঞান, শিল্প, সভ্যতা, মানবিকতা, অণু-পরমাণু, মহাকাশ সর্বত্রই আমরা পথিকৃত। আর উল্টোদিকে তোমাদের দেশ, হত দরিদ্র, মহামারী গ্রস্থ, অশিক্ষিত, নানা রোগে জর্জরিত, পিছিয়ে পরা ; তুমি তোমার প্রোগ্রাম নিয়ে আমাদের দেশে কোন সাহসে এসেছো, ভাবছো তোমার প্রোগ্রাম আমরা দেখতে যাবো? এতো সাহস পেলে কোথায়? ব্যাস্, এই টুকুই আমার প্রশ্ন। জবাব দিন। “

আমি এমন একটা প্রশ্নেরই আশা করে ছিলাম। হাসতে হাসতে বলি। —“ব্যাস! এইটুকু? এই সামান্য এইটুকু তুমি এই অ্যাত্তোটা এগিয়ে থেকেও বুঝতে পারোনি? না, না, তুমি রসিকতা করছো। তুমি স-ব জানো, কিন্তু ভাণ করছো, যেন কিছু জানো না!

ও রেগে ওঠে, বলে, –“জাদুকর! কথা এড়াবার চেষ্টা করো না। সোজা প্রশ্নের সোজা জবাব দাও।

কাগজে পরেরদিন রিভিউ প্রকাশিত হয়েছিলো। শো এর উচ্চ প্রশংসা করে লেখা। কিন্তু ওই কালচারের ব্যাপারে কোনও উচ্চবাচ্য করেন নি। হয়তো অ্যাসিড শুকিয়ে নিবটাকেই গলিয়ে দিয়েছে।

অনেকেই আমার ম্যাজিকের একটু ক্লিপিং দেখাতে বলেছেন। অসুবিধে আছে। এটা দর্শকদের কেউ একজন লুকিয়ে তুলে ছিলেন। হাতে এলো। সেটাই দেখুন।
একজন খারাপ লোক একটা মেয়েকে অপমান করতে চেয়েছিল । সেই মেয়েটাকে রক্ষা করেন জাদুকর। খারাপ লোকটাকে পশু বানিয়ে পোষ মানিয়ে নেন। অভিনয়ে, আমার সঙ্গে খারাপ লোকটা সেজেছেন, ভার্সেটাইল জিনিয়াস মাধব চৌধুরী, মেয়েটার নাম কুন্তল, সহকারীবৃন্দ সামসুদ্দীন, দেবদাস বক্সি,উত্তম মণ্ডল, সঞ্জিত সরকার এবং আফ্রিকান সিংহ, আমার পুত্রবৎ,
শ্রীমান সম্রাট।

এবার আমার গম্ভীর হবার পালা। বলি:- শোন তাহলে। বিনয়ের সঙ্গেই বলছি, আমার না সত্যিই সামর্থ নেই এই চব্বিশ জন সহকারী, কয়েক ডজন টন মাল-পত্র নিয়ে এত দূরে এসে প্রোগ্রাম দেখিয়ে ফিরে যাওয়ার। তোমরা আমাদের আমন্ত্রণ করেছো, আমাকে আমার দক্ষিণা দিতে, হোটেলে রেখে খাওয়াতে, থাকাতে রাজী হয়েছো, সেজন্যই আমরা আসতে পেরেছি। নইলে পারতাম না। আমরা গরীব। এভাবেই সৎভাবে উপার্জন করে খাই। আমাদের দেশে লটারিতে কেউ না কেউ ফার্স্ট প্রাইজ পায়। তিনি কোটীপতি হন। আমরা তাকে ধনী বা বড়লোক বলি, কিন্তু ভুল করেও ‘বড় মানুষ’ বলি না।
একইভাবে, তোমাদের দেশকে আমরা বড়লোকের দেশ বলে ভাবি। তোমাদের দেশ বড়ো-মানুষের দেশ নয়। তোমরা আনকালচার্ড্। অসভ্য দেশ। আমরা গরীব, কিন্তু ‘কালচার্ড্’।
তোমরা বড়লোক, টাকা আছে, স্থায়ী বড়লোক, সেজন্য আমরা এসেছি তোমাদের কিছু কালচার শিখিয়ে দিয়ে বিনিময়ে কিছু অর্থ, সৎভাবে উপার্জন করতে।
—“কী? আমরা আনকালচার্ড্? এতো বড়ো কথা তুমি বলতে পারলে? আমার দেশে এসে!!!???
—“হ্যাঁ, পারলাম। সর্বত্রই বলবো। কারণ এটা সত্যি কথা… এবং সেটা তুমি নিজেই প্রমাণ করেছো। তুমিই তার বড়ো প্রমাণ। আনকালচার্ড্, অসভ্য!!
—“আ–আ-মি কী বলেছি?!?!
—“তুমি অতিথিকে ঘরে ডেকে এনে, মনে আঘাত দিয়ে দারিদ্র নিয়ে অপমান করেছো। আমি তোমাদের অতিথি। ছিঃ, অতিথিকে অপমান করতে লজ্জা করে না!!??
তোমাদেরকে কালচার শেখাতে ভারতবর্ষ থেকে আমরা অতিথি হিসেবে এসেছি। আমাদের দেশ অতিথিকে দেবতা ভাবতে শেখায়। দরিদ্রকে নারায়ণ ভাবায়। তোমরা এতো পিছিয়ে আছো!!??
তোমাকে আমি স—ব শিখিয়ে দেবো। আমার পারিশ্রমিক পাবার পর। “

**টেকনিক্যাল কারণে এই লেখার সাথে ভিডিও টা যুক্ত করা সম্ভব হলো না।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.