Press "Enter" to skip to content

দশ হাতের দূর্গাঠাকুরকে পাল্লা দিতে বৌদ্ধরা কুড়ি হাতের প্রজ্ঞাপারমিতা দেবীকে তৈরি করেছেন। রেজাল্ট দেখতেই পাচ্ছেন। এখন থিম পূজোর জয়জয়কার…….।

একটি প্রদীপ শিখা এ আঁধারে যতটুকু  আলো করে রাখে
( আলোচনা-২)


পি সি সরকার (জুনিয়র)

প্রদীপ চন্দ্র সরকার

স্নান করার গল্প :–

কলকাতা, ২০ মে, ২০২১। জাপানের লোকেরা এখন নিজেদেরকে ‘জাপানী’ বলে জানলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে পর্য্যন্ত ওদের অনেকেই জানতেন না যে ওরা ‘জাপানী’। আসলে জাপান বা জাপানী কথাটা বিদেশীদের তৈরি করা একটা নাম। ওরা নিজের দেশকে ‘নিপ্পন’ বা ‘নিহন’ বলেন। জাতি হিসেবে ওঁরা ‘নিহন-জিং’ ।
কটা অ্যামেরিকান জানে যে তাদের নাম ‘মার্কিনী’? ওটা আমাদের দেওয়া নাম। আমরা ওদেরকে আলাদা করে চেনার জন্য ওই নামটা ওদের দিয়েছি। মার্কিনীরা জানেও না যে ওরা মার্কিনী। ‘ফ্রেঞ্চ’-রা জানেনা যে ওরা ফরাসী। ‘ডাচ্’রা জানেনা যে ওদের নাম ‘ওলন্দাজ’।
আমরা, হিন্দুরাও সেরকম জানতাম না যে আমরা ধর্মে ‘হিন্দু’। অ-নে-ক পরে এটা জেনেছি। বাইরের থেকে লোকেরা এসে জানিয়েছে যে আমাদের ওরা ‘হিন্দু’ বলে চেনেন, ডাকেন। আমাদের এই বিশাল সংস্কৃত সাহিত্যের ভাণ্ডারে কতো কিছু লেখা আছে। বেদ, বেদান্ত, উপনিষদে, পুরাণে, রামায়ণ- মহাভারতে কতো রকম কথা আলোচনা করা আছে। কিন্তু অবাক ব্যাপার, ‘হিন্দু’ কথাটা, ধর্ম হিসেবে, এক বারের জন্যও লেখা নেই। আমাদের ধর্মের নাম যে ‘হিন্দু’ ধর্ম, সেটা জানলাম বিদেশীরা আমাদের দেশ আক্রমণ করার পর থেকে, ওদের মুখে।

আমি যে সংস্কৃত সাহিত্যের স-ব কটা বই পড়েছি , বা বিরাট এক পণ্ডিত, তা তো নই। তবে খুব একটা কমও পড়িনি। কোনও পরীক্ষায় পাশ-টাশ করার উদ্দেশ্যে নয়। পড়েছি, নিজের দেশকে জানতে। জেনে বিদেশীদের সঠিক জবাব দিতে। হয়তো আমার নজরে আসেনি,এই ‘হিন্দু-ধর্ম কথাটার কোনও বিশেষ উল্লেখ।
{{{{{{{{{{{{{{{{{{{{{{{ NOTICE}}}}}}}}}}}}}}}}}}}}}
সে জন্য বলছি, আপনাদের মধ্যে কারুর যদি জানা থাকে, বা নজরে আসে যে সংস্কৃত সাহিত্যে, ‘ধর্ম’ হিসেবে ‘হিন্দু’ শব্দের ব্যবহার হয়েছে, তো দয়া করে জানাবেন। আমার কাজে লাগবে। ঋদ্ধ হবো।
যতটুকু জেনেছি, ধর্ম হিসেবে ‘হিন্দু’ কথাটার প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ১৩৪৬ শকাব্দ, মানে ১৪২৮ খৃষ্টাব্দে,বিজয়নগরের রাজা দ্বিতীয় দেব রায়ের স্লেটের মধ্যে। তখন বাহমনী রাজ্যের শাসক ছিলেন মুসলিম।(Epigraphia India, Vol-lll, Page-38, line-35). মানে এই তো সেদিন, বেশি দিন নয়, মধ্যযুগে। ( কৃতজ্ঞতা স্বীকার। শ্রী সুখেন্দু শেখর রায়।)

এখন আমরা দূর্গা পূজো, কালী পূজো কত্তোরকম দেবদেবীর মূর্তি পূজো করি । আগে এসব মূর্তি পূজোও আমরা করতাম না। ঋক্ বেদ-এ পরিস্কার লেখা আছে,”না তাস্তে প্রাতীমা আস্থি” (ঈশ্বরের কোনও মূর্তি নেই) [ঋগ্বেদ ৩২ অধ্যায়, ৩নং অনুচ্ছেদ]। বরঞ্চ হিন্দুধর্মে মূর্তিপূজা করতে নিষেধ করেছেন। [ ভগবত গীতা, অধ্যায়-৭, স্তব-২০ ] ।এসব শুরু হয়েছে বৌদ্ধধর্মের সঙ্গে আকচা আকচি করে ভক্তের সংখ্যা বাড়াতে। দশ হাতের দূর্গাঠাকুরকে পাল্লা দিতে বৌদ্ধরা কুড়ি হাতের প্রজ্ঞাপারমিতা দেবীকে তৈরি করেছেন। রেজাল্ট দেখতেই পাচ্ছেন।এখন থিম পূজোর জয়জয়কার।
নিরাকারকে উদ্দেশ্য করে উপাসনা এবং ধর্ম পথে চলা এবং সব দিকেই যে পরমেশ্বর একই সঙ্গে বিদ্যমান, কল্পনা করানোটা সহজ কাজ নয়। সেজন্য একটা প্রতীক বানিয়ে তার মাহাত্ম্য আর অলৌকিকতার আকর্ষণ বাড়াতে ম্যাজিকের সাহায্য নিয়েছে। সেজন্যই এসব গুপ্ত-কথা আমি জানি। জানতে হয়েছে। আমায় জানতে হয়।এটা আমার সাবজেক্ট । আমার গবেষণার বিষয় বস্তু।
‘হিন্দু’ নামটা বিদেশীরা এসে আমাদের দিয়েছে। ‘সিন্ধু’ নদীর পাশে যারা বসবাস করেন তারা হলেন সিন্ধু-স্থানী। সেটাই লোকের মুখে মুখে হিন্দুস্থান, হিন্দু হয়ে গেছে। আমাদের ধর্মের আসল নাম হচ্ছে, ‘সনাতন ধর্ম’। আমরা সনাতনী। আমাদের ধর্ম বলেছে আমরা অমৃতের সন্তান। “অমৃতস্য পুত্রাঃ”। আমরা আত্মার অমরত্বের কথা বিশ্বাস করি। পরজন্মকে জড়িয়ে আমাদের কাজ, কর্ম, বিশ্বাস এবং জীবন যাপন। আমরা সবাই ‘ইন্দ্রজাল’-এ আবদ্ধ। মায়া দিয়ে বাঁধা। একমাত্র সত্য হলেন, সৃষ্টিকর্তা নিজে, বাকি সবই স্বপ্নের মতো মিথ্যে। ” ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা”। মায়া।

অনেকদিন আগেকার কথা। জাপানের পুরোন রাজধানী কিয়োতো অঞ্চলে ,শহর ছেড়ে দূরে, পাহাড়ের ওপর, নির্জন পরিবেশে এক জেন-সন্নাসীর মঠ ছিলো। সেখানে অনেক ছাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে কঠোর ব্রহ্মচর্য রক্ষা করে, গুরুর আদেশ মতো চলতেন। সত্যের তারা সন্ধানী। কঠোরভাবে দশটা ইন্দ্রিয়কেই বশ করতে শিখছেন, তাতে মায়ার বাঁধন থকে মুক্ত হওয়া যাবে।
একদিন তাদের গুরুর , কিছু একটা কারণে কিয়োতো শহরে যাবার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। শিষ্যরা বললেন, কি প্রয়োজন বলুন, আমরা গিয়ে এনে দিচ্ছি। এতটা চড়াই উৎড়াই আপনাকে করতে হবে না। তা ছাড়া থেকে থেকে ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে। আপনি আমাদের বলুন, এনে দিচ্ছি।”
জবাবে গুরু কিছুই বললেন না। নিজে প্রস্তুত হয়ে মাথায় একটা চাষীর টুপি পড়ে লাঠি হাতে রওনা দিলেন। গুরুকে একা একা যেতে দেওয়াটা ঠিক হবে না ভেবে, দুজন অভিজ্ঞ ছাত্র তাঁর সঙ্গে সঙ্গে বেড়ুলেন।
ঘণ্টা দুয়েক পর তাঁরা পৌছুলেন কিয়োতোর শিণ্টো মন্দিরের কাছে। চারদিকে সাকুরা হানা ,মানে চেরি ফুলে-ফুলে ভরে আছে। হঠাৎ দেখেন, গেইশা মেয়েরা প্রচণ্ড সেজে গুজে এসে সমবেত কণ্ঠে গান গাইছেন আর নাচছেন। যেন অনেক প্রজাপতি উড়ে ঘুরে রূপের হাট বসিয়েছে মন্দিরের উঠোনে।
==এখানে বলে রাখি, জীবনানন্দ দাশের “… চুল তার কবে কার অন্ধকার বিদিশার নিশা, মুখে তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য.. “, পড়তেই যে রোম্যাণ্টিক ভারতীয় সভ্যতার সময়কালের কথা মনে ভেসে আসে,এই গেইশা সুন্দরীরা মনে হয় যেন তাঁদেরই সর্বাধুনিক জীবন্ত প্রতিনিধি। ‘গেইশা’ কথাটা নাকি ‘বেশ্যা’ কথাটা থেকে এসেছে। কিন্তু এলেও ‘বেশ্যা’ কথাটার বাজারে, নোংরামীটা নেই ।আসলে হওয়া উচিত ‘গণিকা’। দুটো এক জিনিস নয়। আমাদের সংস্কৃতি ঘাটলে দেখতে পাবো:-
(১) রামায়নের সময়, গণিকারা রূপযৌবন, শিক্ষা দীক্ষায় শ্রেষ্ঠা ছিলেন; সমাজে সম্মানীয়া ; এ্ঁদের শিক্ষার ভার গ্রহন করতো রাষ্ট্র, ; এঁরা জড়িত থাকতেন গীত সঙ্গীত কাব্য, নাটক রচনা সংস্কৃতি বিষয়ক কাজে।
(২) কুলগুরু বশিষ্ঠ , রামের অভিষেকের সময় মন্ত্রীদের বলছেন, গণিকাদের প্রাসাদে আনো।
(৩) পিতৃসত্য পালনে রাম বনবাসে যাচ্ছেন, দশরথ সারথি সুমন্তকে বলছেন, চিত্ত বিনোদনের জন্য গণিকাদের সঙ্গে নাও।
(৪) রাম যখন অযোধ্যায় ফিরে আসেন, শত্রুঘ্ন তখন সেরা গণিকাদের তৈরি রেখে ছিলেন।
(৫) যজ্ঞ, যৌতুক, শ্রাদ্ধদান, যুদ্ধজয়ের আনন্দ হিসেবে ব্রাহ্মণদের সুন্দরী গণিকা দান করা হতো।
(৬) কোনও পরিবারের কেউ গণিকা বা গেইশাতে উত্তীর্ণা হলে, সেই পরিবার তাঁকে নিয়ে গর্ব বোধ করতেন। ইত্যাদি, ইত্যাদি।


ভরত মুনি নাট্যশাস্ত্রে লিখেছেন, ” যে নারী বিভিন্ন কলার কাল ও ব্যবহারোপযোগী প্রয়োগ জানে, যে বিবিধ শাস্ত্র ও কাব্যাদিতে ব্যুৎপন্না… তাহাকে গণিকা বলে। (ভরত নাট্যশাস্ত্রম্ ৩৫/৬০-৬২)

কামসূত্রে র লেখক বাৎসায়ন লিখেছেন, -“৬৪ কলায় উৎকর্ষলাভ করিয়া শীল, রূপ ও গুণান্বিত বেশ্যা ‘গণিকা’ এই সংজ্ঞা লাভ করিয়া… রাজা সর্বদা তাহাকে সম্মান করেন… “(কামসূত্র, ১/৩/২০-২১)।

একটা চমৎকার সংবাদ:-
এই বাৎসায়ন মহাশয়কে আপনি চেনেন কি? আমি চিনতাম না। “বাৎস্যায়নের কামসূত্র’ বইটা, যেটা গঙ্গাচরণ বেদান্ত বিদ্যাসাগর মহাশয় বাংলায় অনুবাদ করছেন, সেই বই-এর ভূমিকায় বাৎসায়নের পরিচয় লেখা আছে।
আমি তো পড়ে ‘থ’ !! উনি একজন চাম্পিয়ন, গুরু ব্যক্তি!! লেখা আছে, “.. বাৎস্যায়ন, একজন অসাধারণ প্রতিভাশালী মননপর ব্যক্তি বলিয়া প্রসিদ্ধ। তিনিই নীতিশাস্ত্র প্রণেতা -‘চাণক্য’। তিনি শব্দশাস্ত্রে বিষ্ণুশর্মা এবং তিনিই নীতি শাস্ত্রে কৌটিল্য বলিয়া বিশেষ প্রথিত..।”
পড়ে আমার গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। বাৎসায়নের আসল নাম চাণক্য!!!!! ভদ্রলোকের জ্ঞানের কি সাংঘাতিক বিশাল range !!? পৃথিবীতে আর কোথাও কেউ আছেন, পাশে দাঁড়িয়ে তুলনা করবার?? আর এই বিস্তীর্ণ সুজলা সুফলা সভ্যতাকে দাবিয়ে, পায়ের তলায় পিষে , ঠকিয়ে, বিদেশি শত্রুরা… নাঃ, আমার সহ্য হচ্ছে না, হয়না। ছট্ফট্ করছি। একটা কিছু করতেই হবে।

আবার আগের কথায় আসি। সেই জাপানের কিয়োতো শহরের নাচে’র কথায়। গেইশারা নেচে গেয়ে পরিবেশ স্বর্গীয় করে তুলেছেন। এমন সময় দেখা গেল একটা ফুটফুটে মেয়ে, সে-ও গেইশা, খুব সুন্দর সেজে ওই নাচে অংশ গ্রহণ করবে বলে খুট-খুট, খুট-খুট করে দৌড়ে আসতে আসতে থমকে দাড়িয়ে উশখুশ করছে। একটু আগে হওয়া বৃষ্টিতে রাস্তার কাচা মাটিতে জলের ধারা বয়ে কাদা জলে ক্যাৎ ক্যাৎ করছে। মেয়েটা আটকে আছে সামনে, পাশে জমা কাদা জলে বন্দী হয়ে। জলে নামলে ওর পায়ের ওই জরী লাগানো কাঠের ‘গিটা’জুতো -জোড়া তো ভিজবেই, ওর গায়ের লম্বা কিমোনোটাও ভিজে, কাদায় প্যাচ-প্যাচ করবে। মেয়েটা ঈশ্ -ঈশ্ করে দুহাত ঝাঁকিয়ে দিশেহারা।

আমাদের ওই সর্বত্যাগী, মোক্ষলাভ করা শীর্ষ-জেন-সন্নাসী, তিনি কি করলেন? সমস্যাটা যেন তাঁর। তিনি গুটি গুটি পায়ে, ওই জমা কাদা-জল ভেঙ্গে তার দিকে গেলেন এগিয়ে। গিয়ে আপাদমস্তক যুবতীকে দেখে, হেসে, তার সাজের তারিফ করলেন, আর তারপর সবাইকে চমকে দিয়ে, প্রথা ভেঙ্গে সেই সুন্দরী যুবতী গেইশাকে সস্নেহে পাঁজাকোলা করে জাপটে তুলে, হাসি মুখে ওই জলটুকু ধীরে ধীরে হেটে পার করিয়ে, শুকনো ডাঙ্গায় আস্তে করে নামিয়ে দিলেন। সুন্দরীর তখন কি খিল খিল হাসি; চোখে মুখে যেন ঊর্বশীর ফিক্ -ফিকে, বিশ্বামিত্রের তপস্যা ভাঙ্গার দিগ্বিজয়ীর হাসি!! শীর্ষ সন্নাসীর ব্রহ্মচর্য-ভাঙায় সেই বিজয়িনীর হাসিটা ঠিক তেমনিই সরল কিন্তু নিষ্ঠুর মনে হচ্ছিলো। এই সন্নাসীদের কোনও মহিলাকে স্পর্শ করা তো দূরের কথা, চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলাও নিষেধ। চপল গেইশা মেয়েটা, মাটিতে নেমে, ধন্যবাদ জানিয়ে, যেন সন্নাসীকে নিঃস্ব করে দিয়ে, এক বিশেষ বিজয়িনীর মোহিনী-দৃষ্টি ছুঁড়ে দিয়ে ভীড়ে হারিয়ে যায়। তৃপ্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে হাসেন সন্নাসী। সব হারানোর নীরব ব্যথায় তিনি ধন্য।

আর ওদিকে? সেই ছাত্র-শিষ্য-শিক্ষানবিশ, তাদের দুজনের কী হলো? এ কী দৃশ্য দেখলো তারা। হতভম্ব হয়ে পরস্পর পরস্পরের দিকে তাকিয়ে, নিজেদের রিপু দমন শিক্ষার প্রতি প্রচণ্ড অবিশ্বাস প্রতারিত যৌবন, হাস্যকর রকমের সামাজিক অপমান বোধ, বৃথা জীবনের সময় নষ্ট করেছে ভেবে বিক্ষিপ্ত পায়ে চলতে লাগলেন। তিন জনে মিলে আশ্রমে ফেরার পথে একটা কথাও বলেন নি।
আশ্রমে ফিরতে সন্ধে হয়ে যায়। পৌঁছে গুরু মুখ খুললেন প্রথম। বললেন, “যাও। স্নান করে, ধ্যানে বসো গিয়ে। আজ দেরী হয়ে গেছে।…”
—-“স্নান করবো না। ধ্যানেও বসবো না। সোজা বলছি, আপনার কোনও আদেশই আমরা আর আজ থেকে মানবো না। ”
গুরু তো অবাক! আমার কোনও আদেশ শুনবে না ? কেন?
— এঃ, কিচ্ছু যেন হয়নি!! উনি কিচ্ছু করেন নি।
—-কি করেছি আমি?
—-ওই মেয়েটাকে কোলে তুলে নিয়ে… ছি..ছি নির্লজ্জ… আমরা যেন দেখিনি। না দেখলে বিশ্বাসই করতাম না। আমাদের ব্রহ্মচারী বানিয়ে নিজে বদমায়েশি করছেন?
—-কোন মেয়েটা??!!
—– ওই যে কম বয়েসী গেইসা মেয়েটা। যাকে আপনি আদর করে কোলে তুলে ছিলেন।
—–ওঃ হ্যাঁ। ওই কিয়োতোর সেই জলে আটকে যাওয়া মেয়েটার কথা?? কেন?? ওকে তো আমি ওই ডাঙ্গাতেই নামিয়ে দিয়ে এসেছি। তক্ষুনি। নইলে ওর জামা-জুতো নষ্ট হতো। .সবার মনে দূঃখ হতো,! একটা নির্মল আনন্দানুষ্ঠানে ছন্দ পতন হতে দেওয়া ঠিক নয়। ওকে মনে মনে সবাই চাইছিলেন, জল-কাদা ডিঙিয়ে আসুক, যে ভাবেই হোক আসুক। সবারই মন ওকে স্পর্শ করেছে, সবার। আমি না হয় তার বাস্তব রূপটা দিয়েছি, সবাই আনন্দ পেয়েছে। আমি ওকে ওখানেই নামিয়ে দিয়ে ত্যাগ করেছি। আর তোমরা !!?? ….তোমরা ওকে মাথায় করে বয়ে এই এতটা পথ, এতক্ষণ ধরে তুলে এনে আশ্রমে টেনে এনেছো!!! এতদিন ধরে এই শিখলে।!? ঝেড়ে ফেলে দিতে হয়। অপ্রয়োজনীয় জিনিস রাখতে নেই। খোসা দিয়ে ভেতরটা মোড়ানো থাকে, প্রয়োজন ফুরোলে খোসা ফেলে দিতে হয়। ফেলে দাও।
ছাত্র দুজন গুরুর কাছে ক্ষমা চান। —–ভুল বুঝেছিলাম।
—–“যাও, স্নান করে এসো। মনোমল ধুয়ে ফেলাটাই আসল স্নান। এই স্নান সেরে আসলেই তোমাদের হবে প্রকৃত শিক্ষিত। স্নাতক।

সনাতন ধর্মে বক রাক্ষস যখন যুধিষ্ঠিরকে প্রশ্ন করেছিলেন স্নাতক মানে কি? জবাবে যুধিষ্ঠির বলেছিলেন “মনোমল-ত্যাগের স্নান হচ্ছে ‘স্নাতক’। যুধিষ্ঠির পরীক্ষায় পাশ করে ছিলেন।

খাটি কথা। অকাজের জিনিস ফেলে দিতে হয়। জমাতে নেই।

—————০০০০০০————

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.