Press "Enter" to skip to content

জিম করবেট কেবলমাত্র এলাকাবাসীর বা সরকারের অনুরোধেই শিকারে যেতেন……..

Spread the love

—————স্মরণঃ জিম করবেট————–

বাবলু ভট্টাচার্য: ঢাকা, পৃথিবীতে এমন অনেক ব্যক্তি আছেন যারা স্বীয় যোগ্যতা, মেধা, সাহস, বীরত্ব ও দেশপ্রেমের জন্য অমর হয়ে আছেন। এদের মধ্যে ভারতের দুঃসাহসী শিকারী জিম করবেটের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জিম করবেটের পুরো নাম এডওয়ার্ড জেমস করবেট। তবে তাকে ‘জিম করবেট’ নামেই সকলে চেনে। তার বাবা ক্রিস্টোফার গার্নি, জাতিতে আইরিশ ছিলেন এবং তিনি নৈনিতালে পোস্টমাস্টারের চাকরি করতেন। জিম করবেটের মায়ের নাম মেরী জেন। করবেটের পিতা নৈনিতালের আয়ারপাটায় ‘গার্নি হাউস’ নামে যে ভবন তৈরি করেন সেখানেই করবেটের শৈশব কাটে।

ছোটবেলা থেকেই করবেট শিকার করতেন। বড় হয়ে তিনি বিখ্যাত শিকারী হয়ে উঠলেন। তবে, তিনি এসব শিকার কাহিনী মোটেও লিখতে চাননি। কিন্তু বন্ধুদের বিশেষ অনুরোধে তিনি লিখে ফেললেন তার জীবনে ঘটে যাওয়া সব রোমাঞ্চকর শিকার কাহিনী। ১৯৪৬ সালে ম্যান ইটার্স অফ কুমায়ুন’ নামে শিকার কাহিনী নিয়ে লেখা তার প্রথম বইটি প্রকাশিত হয়। বইটি খুব দ্রুত সারাবিশ্বে শিকারকাহিনী হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এর পর তিনি শিকার কাহিনী নিয়ে একে একে লিখে ফেললেন ‘ম্যান ইটিং লেপার্ড অব রুদ্রপ্রয়াগ’ (১৯৪৮) ‘মাই ইন্ডিয়া’ (১৯৫২), ‘জঙ্গল লোর’ (১৯৫৩), দ্য টেম্পল টাইগার অ্যান্ড মোর ম্যান ইটার্স অব কুমায়ন’ (১৯৫৪)-এর মতো লোমহর্ষক সব শিখার কাহিনীগুলো।

নিছক শিকারের রোমাঞ্চ আর আনন্দ পাওয়ার জন্য জিম করবেট শিকার করতেন না। যে সব প্রাণী মানুষের জন্য ত্রাস কিংবা হুমকি সৃষ্টি করত তিনি কেবল সেসব প্রাণীই শিকার করতেন। জিম করবেট এমন সব ভয়ঙ্কর প্রাণী শিকার করেছিলেন সেসব প্রাণীর নাম মুখে আনতেও সাধারণ মানুষ ভয় পেতো। তারা বিশ্বাস করত এগুলো এমনই ভয়ঙ্কর যে, এদের নাম মুখে আনলেও সর্বনাশ হবে। আর এ প্রাণীগুলো বাস্তবিক অর্থেই ছিল ভয়ঙ্কর। এই মানুষখেকো বাঘগুলো শত শত মানুষ আর গবাদিপশু হত্যা করে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় হুমকি সৃষ্টি করত। কেবল তাই নয়, এদের যারা শিকার করতে ফাঁদ পাততো, সেসব ফাঁদও অদ্ভুত কৌশলে এ প্রাণীগুলো এড়িয়ে যেতো। জিম শিকারী হিসেবে ছিলেন খুবই সাহসী এবং তিনি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে ভালোবাসতেন। তিনি কেবল এলাকাবাসীর বা সরকারের অনুরোধেই শিকারে যেতেন।

১৯৪৭ সালে জিম করবেট আফ্রিকার কেনিয়ায় গিয়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনে শরিক হন। তার নেতৃত্বে এ আন্দোলন বিরাট জনপ্রিয়তা লাভ করে। কেনিয়াতে অবস্থানকালে তিনি ‘ট্রি টপস’ নামে একটি বই লিখে শেষ করেন।

জিম করবেট ১৯৫৫ সালের আজকের দিনে (১৯ এপ্রিল) কেনিয়ার নাইরোবিতে মৃত্যুবরণ করেন।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *