Press "Enter" to skip to content

জর্দা, নস্যি, দোক্তা, খৈনি, গুড়াখু ও পান মশলায় যে কাঁচা তামাক ব্যবহার করা হয় তার থেকে মুখগহ্বরে গলবিল ক্যান্সার হয়………….

#পান মশলা-রঙীন প্যাকেটে ই থাকে যন্ত্রনা র কাহিনী, তবুও এতো চাহিদা।#

মৃদুলা ঘোষ: কলকাতা, ২ জুলাই, ২০২০।
ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে
বিজ্ঞাপনী সতর্কতা থাকলেও পান মশলা, খৈনি-গুটখা র জনপ্রিয়তা কৌলীন্য পেয়েছে মিডিয়া বিজ্ঞাপনের হাত ধরেই। পান মশলা একটা জনপ্রিয় নেশা। ইতিহাস বলছে, এর জন্ম ১৯০৬ সাল নাগাদ। মৈনপুরের মহারাজা ভালো জাতের তামাকপাতা, চুন, লবঙ্গ, সুপারি, করপূর, পানের সঙ্গে মিশিয়ে খেতেন। এই “নো হাউ” টাই পরবর্তী কালে প্যাকেট জাত সহজলভ্য পান মশলার ভিত গড়ে দিয়ে গেছে। পান মশলা কি? সুপারি ও অন্য কিছু রসায়নিক পদার্থ দিয়ে তৈরি। প্রকৃতপক্ষে কি থাকে, তা একমাত্র প্রস্তুত কারকরাই বলতে পারবেন। কিন্তু, মানুষ আসক্ত হয়ে পরে, সমূহ বিপদ ডেকে আনে নিজের শরীরে। জর্দা, গুড়াখু, খৈনি ইত্যাদি তামাকজাত দ্রব্য। এসব নেশার দ্রব্য ক্ষতি করে দাঁত ও জিভের। এদের অতিরিক্ত ব্যবহার কোষের দ্রুত পরিবর্তন করে। গালে র দুপাশে বা দাঁতের সামনে পান মশলা বা গুড়াখু রাখার ফলে গালের বা ঠোঁটের কিছু অংশ সাদা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। নরম ভাব নষ্ট হয়ে গিয়ে জায়গাটা শক্ত হয়ে ওঠে। জ্বালা করে, ক্রমশ অস্বস্তি বাড়তে থাকে। এই অবস্থা কে বলে লিউকোপ্লেকিয়া। একে তিনভাগে ভাগ করা যায়…. অল্পদিনের হলে তাকে সাধারণ কেরাটোসিস বলে। আরও বেশী দিন থাকলে হাইপার কেরাটোসিস বলে। আরেক ধরনের লিউকোপ্লেকিয়া হয় যার থেকে ক্যান্সার হওয়ার প্রবনতা বেশী। তবে, লিউকোপ্লেকিয়া হলে এর থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন। পান মশলা, গুড়াখু খাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। তবে এ অবস্থায় বায়োপসি করে দেখাও দরকার। বেশী পান মশলা খেলে যে সমস্যা হয় তাকে বলে সাবমিউকাস ফাইব্রোসিস। মুখের ভেতর তালুর পেছনে দিকের অংশের মিউকাস মেমব্রেন শক্ত হতে থাকে। রোগী বেশি মুখ খুলতে পারে না। রোগীর ঢোক গিলতে না পারা, খাওয়ার কষ্ট এই অবস্থা কে প্রি ম্যালিগন্যান্ট পিরিয়ড বলে। যে কোনো অবস্থায় ক্যান্সারে পরিনত হয়। খৈনি যারা খান, তারা ঠোঁটের ভিতর দিকে খৈনি র ডেলা রাখেন, সেইখানে ক্রমাগত খৈনি ব্যবহারের ফলে ক্ষত সৃষ্টি হয়, যা থেকে ক্যান্সার অনিবার্য। আমাদের দেশে তামাক ব্যবহারের প্রকারভেদ লক্ষ্য করা যায়। জর্দা, নস্যি, দোক্তা, খৈনি, গুড়াখু ও পান মশলায় কাঁচা তামাক ব্যবহার করা হয়।

এর জন্য মুখগহ্বরে ও গলবিল ক্যান্সার হয়ে থাকে। সর্বভারতীয় ক্যান্সার পরিসংখ্যান বলছে এই নেশা বস্তু থেকে মুখগহ্বর ক্যান্সার আক্রান্তদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ভারতে মুখগহ্বর ও গলবিল ক্যান্সার এ এগিয়ে আছে পুরুষরা। রঙীন ঝকঝকে প্যাকেটে স্বাস্থ্যের প্রতি ছাপানো হুশিয়ারি কে পাত্তা না দিয়ে নেশার আমেজে বুঁদ হয়ে থাকে প্রচুর অসচেতন মানুষ, যেখানে ভাব বা ভাবনা নেই। অথচ, রঙীন প্যাকেটে যন্ত্রনা র কাহিনী কান পাতলেই বহু ঘরে শোনা যায়। তবুও মুখের মধ্যে চালান করছে এই মৃত্যুর দূত কে।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.