Press "Enter" to skip to content

গজলের কথা উঠলেই কানের সামনে ভেসে ওঠে জগজিৎ সিং-এর গলার আওয়াজ। ‘ব্যারিটোন ভয়েস’ তো বটেই তার সঙ্গে তাঁর গায়কির চলনকে নদীর বাঁকের সঙ্গে তুলনা করলে কিছু ভুল হবে না………।

শুভ জন্মদিন জগজিৎ সিং

বাবলু ভট্টাচার্য : “তুমকো দেখা তো ইয়ে খয়াল আয়া, জিন্দেগি ধুপ তুম ঘনা সায়া। তুম চলে যায়োগে তো সোচেঙ্গে, হামনে কেয়া খোয়া, হামনে কেয়া পায়া”- গজলের কথা উঠলেই কানের সামনে ভেসে ওঠে জগজিৎ সিং-এর গলার আওয়াজ। ‘ব্যারিটোন ভয়েস’ তো বটেই তার সঙ্গে তাঁর গায়কির চলনকে নদীর বাঁকের সঙ্গে তুলনা করলে কিছু ভুল হবে না।

গজল ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের একটি জটিল ধারা। জগজিৎ সিং গজলের সঙ্গে ‘গীত’ ধারার মিশ্রণ ঘটিয়ে এই ধারাটিকে সরল করে তোলেন। এরই ফলে গজল পুনরায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

জগজিৎ সিং সঙ্গীতের পরিবারেই জন্ম নেন। তাই উত্তরাধিকার সূত্রে তাঁর রক্তেও বইছিল গান। গানের হাতেখড়ি নিজের বাবার থেকেই তাঁর। এরপর ১৯৬৫ সালে তিনি চলে যান মুম্বাই। সেখানে গিয়ে ১৯৬৭ এ তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় গজল গায়িকা চিত্রার।

চিত্রার সঙ্গেই দু’বছর পর সুর ও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন জগজিৎ সিং। এরপর একসঙ্গে গানের জগতে চলা শুরু করেন দু’জনে। এরপর এক সন্তান হয় দু’জনের। কিন্তু ১৯৯০ সালে একট গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান জগজিৎ-চিত্রার একমাত্র পুত্র। ছেলের বয়স হয়েছিল ১৮ বছর। ছেলের মৃত্যুশোক সামলাতে না পেরে নিজেকে গানের জগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।

কিন্তু গান থামাননি জগজিৎ। বরং তাঁর গানে বাড়তে থাকে আরও আবেগ। এরপর তাঁর প্রথম অ্যালবামটিও ব্যাপক হিট করে। গজলের দুনিয়ায় রীতমতো এক নয়া মোড় আনেন তিনি। ছবিতে তিনি যখন গজল গাইতে শুরু করেন, তখন সাধারণ মানুষ, যারা গজল খুব একটা শুনতেন না তারাও গজল শোনা শুরু করে দেন।

২০১১ সালের ১০ অক্টোবর গজল সম্রাট মুম্বই-এর লীলাবতী হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

জগজিৎ সিং ১৯৪১ সালের আজকের দিনে (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে জন্মগ্রহণ করেন।

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.