Press "Enter" to skip to content

কেন্দ্রের বেসরকারিকরণের নীতি আসলে দেশ বেচে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ,বলছে ব্যাংক অফিসারদের সংগঠন….।

শ্রীজিৎ চট্টরাজ : কলকাতা, ৪ মে ২০২২।  কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যাংক বেসরকারিকরণের হুমকি শুধুমাত্র জাতীয়কৃত ব্যাংকের ওপর নয়, সমগ্র জাতীয় অর্থনীতির ওপর বড় আঘাত। বিভিন্ন ধরনের সরকারি প্রকল্প এই জাতীয়কৃত ব্যাংকগুলির দ্বারাই বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং গ্রামের মানুষদের কাছে একমাত্র এই জাতীয়কৃত ব্যাংকগুলিই ভরসা। কারণ, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে একমাত্র জাতীয় ব্যাংকের শাখা আছে। আমাদের দাবি, দেশের ৬.৪২ লক্ষ গ্রামের মধ্যে মাত্র ৫০ হাজার গ্রামে ব্যাংকের শাখা রয়েছে। আমাদের দাবি, গ্রামের প্রান্তিক মানুষদের স্বার্থে গ্রামে গ্রামে ব্যাংক চালু করতে হবে। এমনটাই দাবি জানালেন, বৃহত্তম জাতীয়কৃত ব্যাংক সংগঠন অল ইন্ডিয়া ন্যাশানালাইজড ব্যাংকস অফিসার্স ফেডারেশন এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় দাস।

পয়লা মে মে দিবসের দিনে কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মিলিত হলেন আন্দোলনরত ব্যাংক অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। মূলত ৫টি দাবি নিয়ে তাঁদের আন্দোলনের কথা জানাতে গিয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় দাস বলেন, সংবাদমাধ্যম মারফত আমরা দেশের মানুষকে জানাতে চাই ব্যাংক বেসরকারিকরণের যে নেতিবাচক সিদ্বান্ত কেন্দ্রীয় সরকার নিয়েছে, সেখানে ব্যাংক কর্মচারীদের চেয়ে বেশি ক্ষতি হতে চলেছে সাধারণ মানুষদের। সেকথাই আমরা প্রচার করতে চাই। ২০২১-২২ সালের বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে দুটি সরকারি ব্যাংকের বেসরকারিকরণ করা হবে। নীতি আয়োগও এর সুপারিশ করেছে। আমরা এর বিরোধী। সরকারি জনবিরোধী অর্থনৈতিক নীতি এবং শ্রমিকবিরোধী নীতির বিরোধী আমরা। এক লাখের বেশি সরকারি ব্যাংকের বিভিন্ন পদ খালি পড়ে আছে। কেন্দ্রীয় সরকার স্থায়ী কর্মীর বদলে চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী নিয়োগ করছে। ফলে চাকরির কোনও নিশ্চয়তা নেই।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় দাস আরও জানালেন, আদানী ও আম্বানিদের মত এন পি এ ব্যাঙ্কিং সেক্টরের মোট কর্পোরেট এন পি এ থেকে বেশি। এই বৃহৎ পুঁজিপতিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সরকার হেয়ার কাট নীতি এনেছে। যেখানে এই ঋণ উদ্ধারের কোনও আশাই থাকে না। এরফলে বিপদগ্রস্থ হতে পারেন ব্যাংকে জমাকৃত রাশির আসল মালিক খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। এতদিন আমরা জানতাম ব্যাংকে টাকা রাখা মানে নিশ্চিন্ত থাকা। কিন্তু কিছুদিন আগে জানলাম, ব্যাংকে জমা মাত্র একলাখ টাকা পর্যন্ত নিরাপদ। এখন বলা হচ্ছে, পাঁচ লাখ টাকা। অর্থাৎ কোনও কারণে ব্যাংক উঠে গেলে আপনার একাউন্ট পিছু যতই টাকা থাকুক না কেন মাত্র পাঁচ লাখ থাকা ফেরত পাবেন। বাকি টাকার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকার নেবে না।

কেন্দ্রীয় সরকার ব্যাংক বেসরকারীকরণের সমর্থনে যুক্তি দিয়ে বলছে, ব্যাংক পরিচালনার ক্ষেত্রে ক্রমাগত খরচ যে ভাবে বাড়ছে, তাতে ব্যাংক বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্তে ব্যাংকের পরিচালন খরচ আয়ত্তে আসবে। অথচ সমীক্ষা বলছে,২০১৫ – ১৬ সালে সরকারি ব্যাংকগুলির মোট আয় ছিল ১ লক্ষ ৩৮/হাজার ১৯১ কোটি টাকা। এখন ২০২০ – ২১ এ সেই লাভের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ৯৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। তবু সরকার মিথ্যে যুক্তি দেখিয়ে জাতীয় ব্যাংকগুলি বাজারি ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিচ্ছে। এ এক অসাধু চক্রের ষড়যন্ত্র বলা যায়। আমরা একান্ত নিরুপায় হয়েই ব্যাংক ধর্মঘট ডাকি। আমরা জানি, ব্যাংক ধর্মঘটে ছোট ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ক্ষতি হয়। কিন্তু অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইতে ধর্মঘট একটা সর্বশেষ হাতিয়ার। আমরা এখন মানুষকে ব্যাংক বেসরকারিকরণ সংক্রান্ত তথ্য পৌঁছে দিতে চাই। ভারতব্যাপী আমাদের আন্দোলন আরও শক্তিশালী করে আমরা এই জনবিরোধী সিদ্ধান্তকে রুখবো।

More from BusinessMore posts in Business »
More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.