Press "Enter" to skip to content

কল্পতরু উৎসব – মহাপ্রয়াণের কয়েক দিন আগে কাশীপুর উদ্যানবাটীতে এই দিনেই কল্পতরু হয়েছিলেন শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ….।

Spread the love

দীপক রায় : কলকাতা, ১ জানুয়ারি, ২০২৬। কেন নতুন বছরের প্রথম দিনেই পালিত হয় কল্পতরু উৎসব? জানেন আসল কারণ?
প্রতিবছর ১ জানুয়ারি পালিত হয় কল্পতরু উৎসব। এই বিশেষ দিনেই শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব কল্পতরু হয়েছিলেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, কি এই কল্পতরু? কেনই বা এই দিন ঠাকুর নিজের অবতার রূপে সকলের কাছে ধরা দিয়েছিলেন? কেন বছরের পর বছর এই দিনেই মানুষ পুজো দিতে ভিড় করেন দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে?
প্রতি বছর ১ জানুয়ারি পালিত হয় কল্পতরু দিবস বা কল্পতরু উত্‍সব। শ্রীরামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ ও সারদা মায়ের ভক্তরা এই বিশেষ দিনটি কল্পতরু দিবস হিসেবে পালন করে থাকেন। কাশীপুর উদ্যানবাটী, দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি এবং বেলুড় মঠে প্রতি বছর ১ জানুয়ারি অগণিত ভক্তের ভিড় উপচে পড়ে। এই বিশেষ দিনে রামকৃষ্ণদেবকে স্মরণ করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে নতুন বছর শুরু করেন বহু মানুষ।
মহাপ্রয়াণের কয়েক দিন আগে কাশীপুর উদ্যানবাটীতে এই দিনেই কল্পতরু হয়েছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ। নিজের ভক্তদের সব মনোবাঞ্ছা তিনি পূরণ করেছিলেন এই দিনে। ভক্তরা সেই বিশ্বাস থেকেই ১ জানুয়ারি পালন করেন কল্পতরু উৎসব।
কাশীপুর উদ্যান বাটীতেই গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় জীবনের শেষ কয়েকটা দিন কাটিয়েছিলেন রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। সেখানেই ১৮৮৬ সালের ১ জানুয়ারি ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেব কল্পতরু হয়েছিলেন বলে প্রচলিত বিশ্বাস।

প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে কল্পতরু হলো স্বর্গের গাছ। এই গাছের কাছে মনের ইচ্ছে প্রকাশ করলে তা পূরণ হয় বলে মনে করা হয়। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে দেবরাজ ইন্দ্রের নন্দনকানন থেকে এই গাছ শ্রীকৃষ্ণ তাঁর পত্নী সত্যভামার মন রাখতে স্বর্গ থেকে মর্ত্যে নিয়ে আসেন।
এদিন তাঁর কাছে যে যা প্রার্থনা করেছিলেন, সেই সব মনোবাসনা তিনি পূরণ করেছিলেন। রামকৃষ্ণকে স্বয়ং নারায়ণের অবতার বলে মনে করতেন তাঁর ভক্তরা। এই দিনেই রামকৃষ্ণদেব তাঁর অবতার রূপ প্রকাশ করেছিলেন বলে প্রচলিত বিশ্বাস।

১৮৮৬ সালের ১ জানুয়ারি রামকৃষ্ণদেব তাঁর ভক্তদের বলেছিলেন,’তোমাদের চৈতন্য হোক।’ সেই সময় তখন গলার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ শ্রীরামকৃষ্ণদেব। চিকিত্‍সার জন্য তাঁকে উত্তর কলকাতার কাশীপুরে একটি বাগানবাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এই দিন একটু সুস্থ বোধ করায় তিনি বাগানে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। সেই সময় সমাধিস্থ হয়ে সেখানে উপস্থিত সব ভক্তদের তিনি স্পর্শ করেন। সেই সব ভক্তরা পরবর্তীকালে জানিয়েছেন যে তাঁদের প্রত্যেকেরই সেদিন অদ্ভুত কিছু আধ্যাত্মিক অনুভূতি হয়েছিল।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Mission News Theme by Compete Themes.