Press "Enter" to skip to content

ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট আইটিআইয়ের প্রথম বাঙালি প্রেসিডেন্ট রামেন্দু মজুমদার। মঞ্চে অভিনয় করছেন ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে…….

———–শুভ জন্মদিন রামেন্দু মজুমদার———

বাবলু ভট্টাচার্য : বিশ্ব সংস্কৃতির বাঙালি দূত হয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতির পতাকা তুলে ধরেছেন বিশ্বের দরবারে যিনি, তিনি রামেন্দু মজুমদার। তিনি ঢাকার মঞ্চ নাটক আন্দোলনের পথিকৃত। মঞ্চের পাশাপাশি তিনি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট আইটিআইয়ের প্রথম বাঙালি প্রেসিডেন্ট রামেন্দু মজুমদার। ছাত্রাবস্থায়ই থিয়েটারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন রামেন্দু মজুমদার। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনকে বেগবান করার পথে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। নাট্য সংগঠন ‘থিয়েটার’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন শুরু থেকেই। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে নাট্যবিষয়ক পত্রিকা ‘থিয়েটার’ সম্পাদনা করছেন তিনি। ইউনেস্কোর অধীনে আন্তর্জাতিক নাট্য সংগঠন ‘ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট’-এর সভাপতি হিসেবে পর পর দুইবার দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে এটির সম্মানিক সভাপতির পদে রয়েছেন। কিংবদন্তি অভিনয়শিল্পী ফেরদৌসী মজুমদার তার স্ত্রী। তাদের একমাত্র সন্তান অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক ত্রপা মজুমদার।

রামেন্দু মজুমদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে বিএ (অনার্স) ও এমএ পাস করেন। শিক্ষকতাকে বেছে নেন পেশা হিসেবে। নোয়াখালীর চৌমুহনী কলেজে বছর তিনেক শিক্ষকতার পর পেশা পরিবর্তন করে ১৯৬৭ সালে পাকিস্তানের করাচিতে বিজ্ঞাপন শিল্পে যোগ দেন।স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি এবং বঙ্গন্ধুর বক্তৃতা, বিবৃতির একটি ইংরেজি সংকলন সম্পাদনা করে দিল্লি থেকে প্রকাশ করেন। ১৯৭২-এ দেশে ফিরে বিটপি অ্যাডভার্টাইজিংয়ে পরিচালক হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘এক্সপ্রেশানস’- যেখানে তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মরত। বেতার ও টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করছেন যথাক্রমে ১৯৬২ ও ১৯৬৫ সাল থেকে। এ দুটো মাধ্যমে দীর্ঘদিন সংবাদ পাঠ করেছেন। মঞ্চে অভিনয় করছেন ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। বাংলাদেশের নব নাট্যচর্চা ও আন্দোলনে রামেন্দু মজুমদার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন।

‘থিয়েটার’ নাট্যদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, ‘থিয়েটার’ পত্রিকার সম্পাদক, ‘আবদুল্লাহ আল-মামুন থিয়েটার স্কুল’-এর অধ্যক্ষ, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি হিসেবে তার সংযুক্তি বাংলাদেশের নাটক ও সংস্কৃতি চর্চাকে বেগবান করেছে। বাংলাদেশের নাটককে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করাতে রামেন্দু মজুমদার পালন করছেন অগ্রণী ভূমিকা। তিনি ১৯৮২ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইন্সটিটিউট’ (আইটিআই) -এর বাংলাদেশ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ আইটিআই কেন্দ্রকে একটা মর্যাদার আসনে পৌঁছাতে তিনি নিরলস পরিশ্রম করেছেন। তার মৌলিক ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৭। তিনি বিভিন্ন সম্মাননা ও পদক পাওয়া ছাড়াও ২০০৯ সালে রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘একুশে পদক’ পেয়েছেন। বাংলা একাডেমি তাকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করেছে। রামেন্দু মজুমদার দ্বিতীয় এশিয়ান হিসেবে বিশ্বনাট্য সভা ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের (আইটিআই) সভাপতি নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশের জন্য বয়ে এনেছেন অনন্য গৌরব।

রামেন্দু মজুমদার ১৯৪১ সালের আজকের দিনে (৯ আগস্ট) নোয়াখালীর লক্ষ্মীপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.