চন্দন রুদ্র : কলকাতা, ৩ এপ্রিল, ২০২৬। আজ মোবাইল ফোনের জন্মদিন। ১৯৭৩ সালের ৩ এপ্রিল, অর্থাৎ আজকের দিনেই মোবাইল ফোনে প্রথম কথা বলে বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়েছিলেন মার্কিন ইঞ্জিনিয়র মার্টিন কুপার। একটি তারবিহীন কথা বলার যন্ত্র পৃথিবীবাসীকে উপহার দিয়ে দুনিয়ায় সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন আবিষ্কর্তা কুপার। দীর্ঘ ৫৩ বছর আগের ঘটনা।
কুপার এখন সাতানব্বই বছরের তরুণ। বছর তিনেক আগে এই আবিষ্কারককেই নিজের আবিষ্কৃত মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত আসক্তি নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় বসে সংবাদমাধ্যমের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করতে শোনা গিয়েছিল। বহু বছর পর হঠাৎ-ই তিনি চলে এসেছিলেন প্রচারের আলোয়। আসলে মুঠোফোনের সৃষ্টিকর্তা নিজেই ভাবেননি, তাঁর তৈরি ফোন নিয়ে সাধারণ মানুষ এতটাই মোহগ্রস্ত হয়ে পড়বেন।
বিখ্যাত এই মার্কিন ইঞ্জিনিয়র মার্টিন কুপারের জন্ম ১৯২৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর, শিকাগো শহরে। তখন তিনি নিউইয়র্কের মটোরোলা কোম্পানিতে যুক্ত। গবেষক মানুষটি ১৯৭২ সালের শেষের দিকে ঠিক করলেন, এমন একটা যন্ত্র তিনি তৈরি করবেন, যেটি যে কোনও মানুষ নিজের সঙ্গেই রাখতে পারবেন। যে কোনও জায়গায় সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন।
শুরু হয়ে গেল তাঁর গবেষণা। আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল ১৮৭৬ সালে টেলিফোন আবিষ্কার করেছিলেন, কিন্তু তিনি ও তাঁর সঙ্গী বিশেষজ্ঞ দল দিনরাত পরিশ্রম করে কয়েক মাসের মধ্যেই আবিষ্কার করে ফেললেন মোবাইল ফোন। ১৯৭৩ সালের ৩ এপ্রিল অর্থাৎ আজকের দিনেই কুপারের হাতে সেলফোন জন্ম নিল। নিজের উদ্ভাবিত ওয়্যারলেস সেলফোন দিয়ে তিনি প্রথম ফোনটি করলেন প্রতিপক্ষ বেল ল্যাবস-এর কাছে।।
কুপারের তৈরি প্রথম ফোনটি স্বাভাবিক ভাবেই ৫৩ বছর আগে আজকের মতো এত হাল্কা এবং আধুনিক ছিল না মোটেই। তিনি যে ফোনটি আবিষ্কার করে কথা বলেছিলেন, সেটির নাম ছিল Motorola DynaTAC। ২২.৩ সেন্টিমিটার লম্বা ফোনটির ওজন ছিল ১.১ কিলোগ্রাম। সর্বোচ্চ ২৫ মিনিট কথা বলা যেত।
আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে আমাদের অন্যতম সঙ্গী এখন এই স্মার্টফোন। একখানা স্মার্টফোন ছাড়া যেন আমাদের দৈনন্দিন জীবনটাই একেবারে ব্যর্থ, অচল, মূল্যহীন, বদ্ধ জলাশয়ের মতো নিশ্চল। ফেসবুক, মেসেঞ্জার, ইন্সটাগ্রাম, ওয়টসঅ্যাপের মতো অ্যাপগুলো এখন আমাদের প্রতিটি পরিবারেই মা, বাবা, ভাই, বোন, স্বামী, স্ত্রী, সন্তানদের থেকেও যেন অতি আপনজন। দিনের দীর্ঘ সময় মোবাইলে বুঁদ হয়ে থাকা মানেই অফুরান আনন্দ, মুঠোমুঠো মজা, রিলসের হুল্লোড়, সমাজমাধ্যমে বিপ্লবের পর বিপ্লব!
গত ২৮ মার্চ চোখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে ডাক্তারবাবুর চেম্বারে গিয়েছিলাম। দিনের কত ঘন্টা আমি স্মার্টফোন, কম্পিউটারে কাটাই চক্ষু বিশেষজ্ঞ জানতে চাইলেন। রীতিমতো সর্তকও করলেন।
আবিষ্কর্তা কুপারের উদ্বেগ স্বাভাবিক। পাশাপাশি ছোট থেকে বড় স্মার্টফোনে অতিমাত্রায় আসক্তি নিয়ে এখন চিকিৎসকদের কপালেও রীতিমতো চিন্তার ভাঁজ। পৃথিবীর অনেক দেশ ইতিমধ্যে ছোটদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
আসলে স্মার্টফোন এখন যেন নেশার বস্তুর মতোই কোনও বড় হাতিয়ার। অথচ ঘন্টার পর ঘন্টা এই মোবাইল নামক যন্ত্রটির স্ক্রিনে চোখ রাখা মানেই চিকিৎসক মহলের কথায়,”শরীরের সঙ্গে মনের স্বাস্থ্যেরও সমূহ ক্ষতির আশঙ্কা।” বাচ্চাদের থেকে মোবাইল ফোন দশ মাইল দূরে রাখুন। তাই আমি আপনি! সাধু সাবধান!
কৃতজ্ঞতা স্বীকার – ছবি গুগল থেকে প্রাপ্ত।













Be First to Comment