Press "Enter" to skip to content

আঁতুড় ঘরেই কবিগুরু “অমর্ত্য” নামটা দিয়ে ছিলেন। আর পরে বিশ্বজয় করার বা নোবেল প্রাইজ পাওয়ার ভবিষ্যৎ বাণী টা করেছিলেন আমার বাবা, জাদুসম্রাট পি সি সরকার…….।

ডঃ পি সি সরকার (জুনিয়র) বিশ্বখ্যাত জাদুশিল্পী ও বিশিষ্ট লেখক। ২৭, নভেম্বর, ২০২০। এবার একটা গল্প বলি। বাবলু নামের একটা সাধারণ বাঙালি ছেলের গল্প। ডঃ টি কে সেন এবং অমিতা সেনের সন্তান। গল্পটা, ‘মা’ অমিতা দেবীর কাছে থেকে শোনা। সাপ্তাহিক বর্তমান পত্রিকাতেও ছাপা হয়েছিল।

ছোট্টো বাবলু খুব সুন্দর স্বাস্থ্য নিয়ে বেবী ফুডের মডেলের মতো চেহারায় জন্মালেও পরে রোগা ল্যাকপ্যাকে হয়ে যায় নানা রকম অসুখের কারণে। মিষ্টি ছাড়া আর কোনো খাবারে নাকি রুচী ছিলো না। লেখাপড়ায় ‘ভালো বললে ভুল বলা হবে। তবে, জন্মগত ভাবে খুব মেধাবী। স্কুলে পড়ার সময় ভালো ফুটবল খেলতো। কিন্তু হঠাৎ ছেড়ে দেয়। নানা রকম ব্যাতিক্রমী এক্সপেরিমেন্ট করতে ভালোবাসে। ঠাকুরের সামনে রাখা প্রসাদগুলো পরে খুঁটিয়ে গুণে দেখতো, ঠাকুর সত্যি-সত্যিই খেয়ে কমিয়েছেন কিনা! ইত্যাদি নানা প্রশ্নের সমাধান। ঠিক ওই সময়েই, কবিগুরুর আমন্ত্রণে আমার বাবা যান শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী মঞ্চে ম্যাজিক দেখাতে। ভীড়ে ভীড়।

তখন উনি রাজবেশ গায়ে না দিয়ে সাহেবী কোট-প্যান্ট-বো- টাই পরেই ম্যাজিক দেখাতেন। শো-এর মধ্যেই উনি মাইকে ঘোষণা করেন,” আঁতুড় ঘরেই কবিগুরু ওই নামটা দিয়ে ছিলেন। আর পরে বিশ্বজয় করার বা নোবেল প্রাইজ পাওয়ার ভবিষ্যৎ বাণী টা করেছিলেন আমার বাবা, জাদুসম্রাট পি সি সরকার।

ডঃ টি কে সেন, অমিতা সেনের পুত্র বাবলু, তুমি দর্শকদের মধ্যে আছো, স্টেজে চলে এসো।”। ও মা!!! সবাইকে অবাক করে ছোট্টো বাবলু উঠে দাঁড়ায়, স্টেজে আসে। হ্যান্ড শেক করে। ওঁরা নাকি পুরোন বন্ধু!! বাবার কথামতো সে একটা ম্যাজিকও দেখায়। সবাই অবাক।


বাবা বুঝিয়ে বলেন, এই বাবলু বাবার কাছে “গোপনে অনেকদিন হলো ম্যাজিক শেখে। পত্রেই আলোচনা করে। ওর বাড়ির কেউ জানেন না। ওঁরা পুরোন বন্ধু। কিন্তু কেউই কাউকে সামনাসামনি দেখেননি। আজ প্রথম দেখা। আমি ভবিষ্যৎ বানী করছি…ও খু–ব বড়ো হব। বিশ্বজুড়ে নাম হবে। আমরা সবাই ওকে নিয়ে একদিন খুব গর্ব বোধ করবো। ওর মধ্যে বিশ্বজয়ী প্রতিভা আছে।”
ছোট্টো বাবলু লজ্জা পায়। বাবাকে প্রণাম করে।সবাই হাততালি দেয়। বাবা বাবলুর মাথায় হাত বুলিয়ে দেন।


সেদিন কতটা হাততালির আওয়াজ শোনা গেছিল জানিনা। তবে বিশ্বজুড়ে এই কবছর আগে কানফাটানো হাততালি শুনেছি। আপনারাও হাততালি দিয়েছিলেন।
ছেলেটার ডাক-নাম বাবলু হলেও ওনামে সে পরিচিত নয়। ওকে ভালো নামেই সবাই চেনেন। ভালো নাম হলো অমর্ত্য সেন। আঁতুড় ঘরেই কবিগুরু ওই নামটা দিয়ে ছিলেন। আর পরে বিশ্বজয় করার বা নোবেল প্রাইজ পাওয়ার ভবিষ্যৎ বাণী টা করেছিলেন আমার বাবা, জাদুসম্রাট পি সি সরকার।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.