Press "Enter" to skip to content

অতিমারিতে বর্ষশেষের পার্টিতে সতর্কতা অবলম্বন করে পরিবার নিয়ে আনন্দ করুন……।

অতিমারিতে বর্ষশেষের পার্টির সতর্কতা।

সঙ্গীতা চৌধুরী : কলকাতা, ৩১, ডিসেম্বর, ২০২০। শীতের মরসুম মানেই নানা উৎসবের হাতছানি। দীর্ঘ মাসের পর মাস বাড়িতে কাটিয়ে মানুষ হাঁপিয়ে উঠেছিল। তাই পুজোর আগে থেকেই একটু একটু করে বাইরে পা রাখতে শুরু করেছেন অনেকেই। কারন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভীতি ও কমে যায়। এক্ষেত্রেও তার অন‍্যথা হয় নি। তাছাড়া যেহেতু এখন করোনা সংক্রমণের হার নিম্নগামী এবং ভ‍্যাকসিনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার দিকে তাই , স্বাস্থ্য- বিধি মানার ক্ষেত্রে ও শিথিলতা এসেছে অনেকের মধ্যেই। বড়দিনের রাতেই তার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এবার অপেক্ষা বর্ষ শেষের ও বর্ষবরণের রাতের। ইতিমধ্যে পার্ক স্ট্রিট আলোর রোশনাইয়ে ভরে গেছে । রেস্তোরাঁ ও বড় ক্লাবগুলো তাদের বর্ষবরণের রাতের বিভিন্ন প‍্যাকেজ নিয়ে হাজির। অবশ্যই সরকারি বিধি-নিষেধ মেনেই সেই সব ব‍্যবস্থা ।

এবছর দুর্গাপুজো ও কালিপুজোর মতো বর্ষবরণের উৎসব পালনে ও কলকাতা হাইকোর্ট মঙ্গলবার বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে। যায় ফলে স্বাস্থ্য – বিধি লঙ্ঘন করে কোনমতেই উৎসবে মেতে ওঠা যাবে না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী যে সকল জায়গায় বেশি ভিড় হয় সেখানে চেকপোস্ট বসাতে হবে। জনসাধারণ যাতে মাস্ক ও স‍্যানিটাইজার ব‍্যবহার করেন তা নিশ্চিত করতে হবে। রাস্তায় কোথাও জনসমাগম হলে তা দ্রুত সরিয়ে দিতে হবে। এর পাশাপাশি পুজোর সময়ের দেওয়া স্বাস্থ্য- বিধি সংক্রান্ত নির্দেশিকা ও পালন করতে হবে।

অতিমারি পরিস্থিতিতে বর্ষবরন উৎসব পালন নিয়ে কি ভাবছেন সাধারণ মানুষ। এ ব‍্যাপারে দক্ষিণ কলকাতার গৃহবধূ চন্দ্রিমা চন্দের মতে, ” লকডাউনের সময় থেকে বহুদিন বাড়িতে গৃহবন্দি ছিলাম। তারপর পুজোর সময় আমার এক নিকটাত্মীয় অসুস্থ থাকায় বেশ কিছুদিন হাসপাতালে যাতায়াত করতে হয়, এরপরই ধীরে ধীরে নানা কাজে বেরোতে শুরু করি। তাই এখনো পর্যন্ত যখন কোভিডে সংক্রমিত হই নি, তাহলে বোধহয় শরীরে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা তৈরি হয়ে গেছে। এখন আগের থেকে অনেকটা নিশ্চিন্তে আছি। ইতিমধ্যে বেশ কিছু পার্টিতে অংশ নিয়েছি , আজও একটা ঘরোয়া পার্টিতে যাব। “তবে উত্তর কলকাতার গৃহবধূ শর্মিষ্ঠা সাহার কন্ঠে উল্টো সুর শোনা গেল, “এ বছর বাইরে বেরিয়ে কোন রকম উৎসবে অংশ নেওয়ার একেবারেই ইচ্ছে নেই। প্রত‍্যেকবারই যে বাইরে গিয়ে হৈ- হুল্লোড় করতে হবে তার কোন মানে নেই। বাড়িতে বসে পরিবারের সঙ্গেও আনন্দ করা যায়। এ বছরটা যখন অন্য বছরের থেকে একেবারেই আলাদা, তখন উৎসবটা না হয় একটু অন্যভাবেই পালিত হোক, তাতে ক্ষতি কি ! আসলে আমাদের মধ্যে এই মুহূর্তে সচেতনতার খুবই প্রয়োজন। তা না হলে আবার একটা সংক্রমণের ঢেউ আছড়ে পড়বে।”

শুধু ক্লাব ও রেস্তোরাঁই নয়, অনেকেই এবার পরিকল্পনা করেছেন বাড়িতে ছোট ছোট ঘরোয়া পার্টির। সেই সংখ্যাটাই বরং এবার বেশি। কিন্তু সেখানেও রয়েছে সংক্রমণের ভয়। তাই শীতের পরশ মেখে পার্টির স্রোতে গা ভাসানোর আগে কিছু বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। যেমন – মাস্ক ও স‍্যানিটাইজ ব‍্যবহার করা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। জনসমাগম অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে। নতুন বছরের প্রারম্ভক্ষনে আবেগপ্রবন হয়ে করমর্দন ও আলিঙ্গন থেকে বিরত থাকলেই ভালো। বাড়িতে ঘরোয়া পার্টির ক্ষেত্রে লোক সংখ্যা যেন খুব বেশি না হয়। কেটারারে খাবার ব‍্যবস্থা হলে , তারা স্বাস্থ্য – বিধি মেনে কাজ করছে কিনা সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রে ডিসপোজেবল পাত্র ব‍্যবহার করলে সংক্রমণের ভয় অনেকটাই কমে। রাত বেশি হলেও পার্টি থেকে ফিরে হাত – পা ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে এবং পার্টিতে ব‍্যবহৃত পোশাকটি আলাদা করে রাখাই ভালো।

ইতিমধ্যে কলকাতায় ব্রিটেন ফেরত যাত্রীর শরীরে করোনা ভাইরাসের নতুন স্ট্রেনও পাওয়া গেছে। তাই রেস্তোরাঁ, ক্লাব বা ঘরোয়া যে কোন পার্টিতেই স্বাস্থ্য – বিধি মেনে সচেতন থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। শেষে একথাই বলবো, আনন্দ করুন কিন্তু নিয়ম মেনে। ২০২০ বিষের বিশ কে বিদায় জানিয়ে আসুন আমরা সবাই মিলে দু হাজার একুশ কে স্বাগত জানাই।

More from GeneralMore posts in General »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.