বাড়িতে ঘরবন্দী? চিন্তা করবেন না অলস সময় কাটান শুভ জ্যোতি রায়ের করোনা শব্দ ছক দিয়ে মগজাস্ত্রে শান দিয়ে নিন……..

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: কলকাতা, ২৫ মার্চ ২০২০ এখন ২১দিন ঘরবন্দী। তাই খেলতে পারেন বাঘবন্দি। নয়ত সতেরো’শ শব্দ ছক তৈরি করে গিনেস বুকে নাম তুলেছেন সাংবাদিক শুভ জ্যোতি রায়ের শব্দছক দিয়ে মগজাস্ত্রে শান দিতে পারেন।

লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অফ ইকসেটার এবং কিংস কলেজের বিজ্ঞানীরা তো বলেছেন, এই ধরনের শব্দ ছক নিয়ে খেললে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে
স্কুলে পড়াকালীন শুভ জ্যোতির শব্দ ছক তৈরির নেশা। ১৯৯৭ সাল থেকে শুরু। এখন পর্যন্ত তিনি তৈরি করেছেন প্রায় সতেরো’শ শব্দছক। বাংলা নববর্ষ, দুর্গাপুজো, বড়দিন, রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, ভূত, রথযাত্রা, ডাইনোসর নিয়ে তাঁর শব্দছক ইতিমধ্যে বহু পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়। বাড়িময় তাঁর অসংখ্য বাংলা অভিধান। কলকাতার সন্তোষপুর এলাকার বাসিন্দা শুভবাবুর বাবা ভজহরি রায় অবসরপ্রাপ্ত সহপ্রধান শিক্ষক। দিনে প্রায় ১০ঘণ্টা সময় ব্যয় করে রোজ ১০/১৫টি শব্দ ছক শুভ তৈরি করেন। মা সুষমা দেবী প্রথম প্রথম ভাবতেন, ছেলের এসব পাগলামি। কিন্তু গিনেস বুক সংস্থা স্বীকৃতি জানাতে তিনি বোঝেন, ছেলের এটা প্রতিভা। কৃষ্ণের যেমন অষ্টত্তর শত নাম তেমনই এই শব্দছকের শত নাম। কেউ বলেন, শব্দজব্দ।কেউ বলেন শব্দ জট, শব্দসন্ধান ,শব্দ চতুষ্ক।
আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে নিউইয়র্ক ওয়ার্ল্ড কমিকস সাপ্তাহিক পত্রিকার পাতার দায়িত্বে থাকা সাংবাদিক লিভারপুলের বাসিন্দা আর্থার উইনি শব্দ নিয়ে মজার মজার খেলা বানাতেন। ১৯১৩ সালের বড়দিনে ভাবলেন, পাঠকদের নতুন কোনও খেলা তিনি উপহার দেবেন।

তাই খেলতে খেলতে আবিষ্কার করে ফেলেন আজকের শব্দছক। তিনি নাম দেন ওয়ার্ড ক্রস। ধাঁধাটি অল্প সময়েই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। নতুন নাম হয় ক্রস ওয়ার্ড। যদিও প্রাচীন যুগে পম্পেই শহরে লাতিন শব্দে এমনই ধাঁধা জনপ্রিয় ছিল। বিষয়টি এমন জনপ্রিয় হয় যে টাইমস পত্রিকা শব্দ জব্দ কাগজে ছাপতে শুরু করে। পুরস্কার দেয় এক হাজার ডলার। দুটি বিশ্বযুদ্ধেও গুপ্তচররা শব্দজব্দের সাহায্যে গোপন খবর পাঠাত।

১৯২৬ এ বুদাপেস্টে একজন আত্মহত্যা করে । মৃত্যুর কারণ লিখে যান শব্দছকে। পুলিশকে হিমশিম খেতে হয় মৃত্যুর কারণ খুঁজতে। প্রথম যুগে অক্ষরগুলি গোল ঘরে বসানো হতো। পরে ঘরগুলি চতুষ্কোণ করা হয়।আর কি? শুরু করে দিন মগজে শান দিতে। করোনা ‘র বিরুদ্ধে লড়াই জারি থাকুক। জারি থাকুক বাঙালির মগজ চর্চা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *