ঈদুল আজহাঃ অর্থনীতি, প্রকৃতি আর স্বাস্থ্যগত সংকটে ত্যাগের ঈদ……..

বাবলু ভট্টাচার্য : ‘ঈদুল আজহা’ শব্দের অর্থ কোরবানি বা ত্যাগের উৎসব৷ মুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, হযরত ইবরাহীম (আ.) সৃষ্টিকর্তার আদেশ পালনের উদ্দেশ্যে প্রাণপ্রিয় পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-কে তার সম্মতিতে কোরবানি করতে উদ্যত হন৷ কিন্তু আল্লাহ তার সংকল্পে সন্তুষ্ট হয়ে হযরত ইবরাহীম (আ.)-কে পুত্রের স্থলে একটি পশু কোরবানির আদেশ দেন৷ এরপর থেকে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে প্রতিবছর পশু কোরবানি দিয়ে আসছেন৷ বাংলাদেশে কোরবানির ধর্মীয় মহিমার পাশাপাশি আছে অর্থনৈতিক গুরুত্বও৷ সরকারি হিসাবে এখন প্রতিবছর এক কোটির বেশি পশু কোরবানি হয়৷ কোরবানিকে কেন্দ্র করে সঞ্চালিত হয় গ্রামীণ অর্থনীতি৷ লেনদেন হয় কয়েক হাজার কোটি টাকা৷ আবার কোরবানির পশুর চামড়াকে কেন্দ্র করেই বাংলাদেশে ট্যানারি শিল্প বিকশিত হয়েছে৷ গড়ে উঠেছে চামড়াজাত পণ্য তৈরির কারখানা, যা কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা আয়েরও অন্যতম খাত৷ কঠিন বাস্তবতা হলো, অর্থনীতি, প্রকৃতি আর স্বাস্থ্যগত সংকটের কঠিন এক সময়ে ঈদ উদযাপন করছেন বাংলাদেশের মানুষ৷ কোরবানির ত্যাগের শিক্ষা হোক এই পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুপ্রেরণা৷ করোনার কঠিন বাস্তবতায় রোজার ঈদ পালন করেছেন বাংলাদেশের মানুষ৷ অর্থনৈতিক সংকটটা তখনও ততটা প্রকট হয়ে ওঠেনি, যতটা হয়েছে এখন৷ শহর ছেড়ে কর্মহীন বহু মানুষ গ্রামে পাড়ি জমিয়েছেন৷ কিন্তু সেখানেও তারা ভালো নেই৷ মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে বন্যা৷ সবশেষ সরকারি হিসাবে দেশের প্রায় এক চতুর্থাংশ জলে তলিয়ে গেছে৷ ৪৭ লাখ মানুষ জলবন্দি রয়েছেন৷ মৃত্যু অর্ধশত পেরিয়েছে৷ এমন এক পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে মানুষ কোরবানির ঈদ পালন করছেন৷ অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে এ বছর অনেকেই কোরবানি দিতে পারছেন না৷ সেক্ষেত্রে কৃষক আর খামারিদের অনেক পশুই অবিক্রিত রয়ে যাবে৷ আবার করোনা এবং বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ায় চামড়া শিল্প আগে থেকেই ধুঁকছে৷ ট্যানারিগুলোতেও তাই আগের মতো চামড়ার চাহিদা নেই৷ সব মিলিয়ে এই বছর কোরবানি যে অন্যবারের মতো অর্থনীতিকে চাঙা করবে না তা বলা বাহুল্য৷

Leave a Reply

Your e-mail address will not be published. Required fields are marked *